Logo Design Logo Design Logo Design

একটি চায়ের দোকান ঘিরেই ৪ সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখছেন কুড়ুলগাছির বদিউল

2 minutes

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গাঃ

  • Save

চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার অন্তর্ভুক্ত কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের কুড়ুলগাছি বাজারে রাইশার বিলঘেঁষে টানা ৩৪/ ৩৫ বছর যাবৎ চায়ের দোকান চালাচ্ছেন বদিউজ্জামান ওরফে বদিউল (৫১)। জীবনযুদ্ধে অনেক পথ পাড়ি দিয়েছেন। নানারকম ঘটনার নির্বাক সাক্ষীও এ বদিউল। এ গ্রামেরই পশ্চিমপাড়ার গোলাম রহিম ও লাইলী বেগমের সন্তান এই বদিউজ্জামান বদিউল। ইতোপূর্বে বাবা- মাকে হারিয়েছেন। সংসারের প্রয়োজনে সেই কিশোর বয়স থেকে তিনি একইস্থানে করছেন এই চায়ের দোকানদারী। টানা প্রায় তিন যুগের স্মৃতিচারণে বললেন, এই বাজারের তৃতীয় দোকানদার হিসেবে তিনি এ বাজারে দোকানদারি করছেন। সময়ের প্রয়োজনে বিয়েসাদীও করেছেন। সংসার জীবনে একে একে এসেছে পর-পর তিন কন্যা সন্তানের পর এক পুত্র সন্তান। এই চায়ের দোকান থেকেই বড় মেয়েকে অনার্স পাশ করিয়ে মাস্টার্স পড়াচ্ছেন। মেজো মেয়ে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী (যদিও করোনার কারণে স্থগিত পরীক্ষা)। সেজো মেয়ে ক্লাস এইটে আর একমাত্র ছেলে ক্লাস ফোরে পড়ছে।
এই চায়ের দোকান ছাড়া তার আয়ের কোনো উৎস নেই। তারপরও বদিউল জীবনযুদ্ধেহার মনেননি।
কারণ হিসেবে তিনি বললেন, তাঁর তেমন কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, নেই কোনো বিলাসিতা। তাঁর চাওয়া পাওয়া একটাই – তা হলো একবেলা খেয়ে বা না খেয়ে হলেও ছেলে মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা। সে লক্ষ্যেই তিনি ছুটে চলেছেন অবিরাম। এই ছুটে চলার মাঝপথে বদিউল চরম সংকটে পড়েছেন করোনার কারণে সৃষ্ট লকডাউনে ঠিকমতো দোকান খুলতে না পারা ও দ্বিতীয় ধাক্কাটি আসে সম্প্রতি বয়ে যাওয়া আম্ফান ঝড়ে তার দোকানটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হলে। করোণার কারণে সৃষ্ট লকডাউন সম্প্রতি শিথিল করা হলেও বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি এখনো তেমন আসেনি। নেই আগের মতো লোক সমাগম। এরই মাঝে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আম্ফান ঝড়ে বিধ্বস্ত দোকানের চাল ও বেড়া ঠিকঠাক করতে খরচ হয়ে গেলো তার ৩/৪ হাজার টাকা। অথচ সরকারি বা বেসরকারি ভাবেই বলার মতো তেমন কেউ সহযোগিতার হাত বাড়াননি বদিউলের দিকে।

  • Save

আজ পড়ন্ত বিকালে তাঁর দোকানের সামনে যেতেই বুঝলাম জীবনযুদ্ধে হার না মানা এই বদিউজ্জামান ওরফে বদিউল শেষ পর্যন্ত আম্ফান ঝড়ে সর্ব শান্ত হতে চলেছেন। প্রকৃতির কাছে হেরে গেলেও মনোবল হারননি একটুও। আম্ফানের পর দিনই সকালে এসে লেবার নিয়ে তিনি পূণরায় তার এ স্বপ্নীল প্রতিষ্ঠান তিন দিন একটানা পরিশ্রম করে কোনোরকম দাঁড় করিয়েছেন। আজ পরন্ত বিকালে দোকানের সামনে যেতেই স্বহাস্যে যায়গা করে দিলেন। আগের মতোই শ্রদ্ধাভরে করলেন আপ্যায়ীত। করোনার কারণে এমনিতেই টানা তিনমাস দোকান বন্ধই থেকেছে। এই শিথিল পিরিয়ডে সন্ধ্যার আগেই আবার দোকান বন্ধ করা হচ্ছে, তথাপিও তাঁর মনে কোনো অভিমান বা অভিযোগ নেই।
সন্তানরা মানুষের মতো মানুষ হলেই তিনি হবেন তৃপ্ত। মাঠাল জমি বা আবাদ না থাকলেও এ দোকানই হলো তার জীবন জীবীকা ও সন্তানদের লেখাপড়ার একমাত্র পথ। তাই জীবনের সবকিছু উজাড় করে দিয়েও তিনি ধ্যানমগ্ন এই চায়ের দোকানটি নিয়েই। কারণ এই দোকান ঘিরেই রয়েছে বড় তিন মেয়ে ও একমাত্র ছেলের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap