Fiver bussniess

এক অন্যরকম করোনাযোদ্ধা করিমগঞ্জের ইউএনও

আমাদের সংবাদ / মোঃ তোফাজ্জল কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

  • Save

কিশোরগঞ্জে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৭৯ জন। তাই জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা।
করোনা রোগীদের সাহায্য সহযোগিতা দূরে থাক, ভয়ে তাদের কাছেও যাচ্ছে না কেউ। লকডাউন হয়ে থাকা এলাকাগুলো এড়িয়ে চলছে লোকজন। এ কারণে ত্রাণ সহায়তার প্রবাহও সেখানে কম। এই যখন অবস্থা তখন সাহস নিয়ে ওইসব এলাকার লোকজনের খোঁজ-খবর নেওয়াসহ খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন এক করোনাযোদ্ধা নারী।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তসলিমা নূর হোসেন এই সাহসী কাজটিই করছেন পরম মমতায়। আজ সোমবার দুপুরেউপজেলার লকডাউন করা কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নে নিজে গিয়ে অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া গ্রামে একই পরিবারের যে তিনজন করোনা রোগী রয়েছে, তাদের বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। একই সঙ্গে উপহার দিয়েছেন খাদ্য-সামগ্রী। কেবল এই পরিবার নয়, উপজেলায় যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, প্রায় সবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে তার।
গত ২৬ মার্চ সরকারি ছুটির পর থেকে একজন নারী কর্মকর্তা হয়েও লোকজনের দুর্ভোগ দূর করতে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও তার সরব উপস্থিতি বিস্মিত করেছে লোকজনকে। যেসব পরিবার ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়াতে সঙ্কোচ বোধ করে, খবর পেয়ে তাদের কাছেও পাঠিয়েছে খাবার। যারা বয়স্ক বা অসুস্থ নিজে তাদের বাড়িতে গিয়ে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন।
জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল মুসলিমপাড়া গ্রামে মো. সেলিম নামে এক ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে ওই পরিবারের আরো তিন জনসহ গ্রামের চারজনের শরীরে করোনা পাওয়া যায়। এ পরিস্থিতিতে কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নকে লকডাউন করা হয়। এরপর সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ইউনিয়নটি। তবে ইউএনও তসলিমা নূর হোসেনের তৎপরতায় বিচ্ছিন্নতা বা কোনো অভাব বুঝতে পারেনি ইউনিয়নবাসী। বিশেষ করে করোনা আক্রান্ত পরিবারটির সঙ্গে সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়াসহ তাদের সাহস জুগিয়ে গেছেন তিনি।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মো. সেলিমের ভাই মামুন জানান, আমাদের পরিবারের চরম দুঃসময়ে তিনি (ইউএনও) যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমরা কোনোদিন ভুলব না। যেখানে কেউ আমাদের বাড়ি কাছেও ঘেঁষছিল না, তিনি ঝুঁকি নিয়ে আমাদের বাড়িতে গেছেন। এতে আমরা সাহস পেয়েছি। আমাদের শরীরের অবস্থা এখন অনেক ভালো। আশা করি আমরা সবাই সুস্থ হয়ে যাব।
এর আগে (সোমবার সকালে) জঙ্গলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে করোনা দুর্যোগে দুর্দশাগ্রস্ত ৮০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল, তিন কেজি আলু ও দুই কেজি ডালসহ শাক-সবজিও দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত করিমগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) স্বপন মাতাব্বর জানান, করোনার কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি বেচতে পারছে না। দ্বিতীয় পর্বে সরকারি ত্রাণ তৎপরতায় কৃষকের সবজি যোগ করা হয়েছে। যে ইউনিয়নে ত্রাণ দেওয়া হবে, সেই ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কেনা হচ্ছে।
ত্রাণ বিতরণকালে ইউএনও ত্রাণ নিতে যাওয়া নারী-পুরুষদের ঘরে থাকার অনুরোধ করে শপথ করান। তারাও দু-হাত উচিয়ে নিজে ও অন্যকে ভালো রাখার অঙ্গীকার করেন।
ইউএনও তসলিমা নূর হোসেন বলেন, অদৃশ্য, ছোঁয়াচে ও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সাহস দিতে হবে। তারা যেন অসহায় বোধ না করে, সেজন্য আমি তাদের সাহস দেওয়ার চেষ্টা করছি। আর যেখানেই যাচ্ছি, ত্রাণের পাশাপাশি এই ভাইরাসের ধ্বংসাত্মক দিকটি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করছি। একই সঙ্গে ঘরে থাকার অঙ্গীকার করাচ্ছি। করোনাকে ভয় না পেয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। জনগণের সেবক হিসেবে আমি কাজগুলো করে যাচ্ছি। জানি এভাবে ঝুঁকি রয়েছে, তবু করছি। এটি আমার দায়িত্বের অংশমাত্র।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত জেলায় মোট ১৭৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে করিমগঞ্জে উপজেলায় এক পরিবারের চারজনসহ (যাদের মধ্যে একজন মারা গেছে) মোট ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap