এবার মুখোমুখি হচ্ছে সম্রাট, জি.কে শামিম ও খালেদ

2 minutes

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাঃ

এবার মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ক্যাসিনো-কাণ্ডে জড়িত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা বিষয়ে তাদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের তদন্ত কমিটি।

রাজধানীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন যুবলীগের আলোচিত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। এক্ষেত্রে তার প্রধান সহচর ছিলেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এছাড়া সম্রাটের আরেক সহযোগী আরমান নানা অপকর্মে হাত পাকিয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় নেমে এ অঙ্গনকে কলুষিত করেছেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

সম্রাটের বিরুদ্ধে রমনা থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় র‌্যাব অভিযোগ করেছে, চাঁদাবাজির জন্য একটি বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন সম্রাট। কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে প্রথমে তাকে লাঠিপেটা করা হতো। এতেও কাজ না হলে দেওয়া হতো বৈদ্যুতিক শক। এজন্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও ছিল তাদের। এর বাইরেও ১০টি ক্যাসিনো ছিল তার। কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে ছিল সম্রাটের টর্চারসেল ও দূর্গ।

র‌্যাব বলেছে, সব অভিযোগের ব্যাপারেই তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে খালেদ, শামীম এবং সম্রাটকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, জি কে শামীমকে আমরা নয় দিনের রিমান্ডে পেয়েছি। খালেদকেও রিমান্ডে আনা হয়েছে। প্রত্যেকটা রিমান্ডের একটা সময় থাকে, তারপর আমরা চেষ্টা করব এবং সুযোগ থাকে অবশ্যই একসঙ্গে করে জিজ্ঞাসাবাদ করব তাদের। সম্রাট, আরমানকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে একটি অধ্যায় শেষ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ অভিযান চলমান থাকবে।

এদিকে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সম্রাটকে চিকিৎসার জন্য গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

  • Save
জিকে শামিম, সম্রাট ও খালেদ ভূঁইয়া

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জের জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানান, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কারাগারের সূর্যমুখী সেলে থাকা অবস্থায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড পাওয়া যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাটের প্রেসার খুব লো হয়ে পড়ে। ওই সেলে থাকা অবস্থায় সম্রাটের বুকে ব্যথা শুরু হয়। এমনিতেই তার আগে থেকেই শারীরিক অবস্থা খারাপ ছিল। তখন আমাদের কারা চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চিকিৎসা নেওয়ার সময় সম্রাটের প্রেসার খুবই লো দেখাচ্ছিল। পরে দ্রুত কারাগারের মাইক্রোবাসযোগে কারারক্ষীদের প্রহরায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে হাসপাতালে নিয়ম অনুযায়ী জরুরি বিভাগ থেকে তার নাম দিয়ে একটি টিকিট কাটা হয়। পরে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে, তিনি দ্রুত নতুন ভবনের তিনতলায় কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রেফার করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীর সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের নির্দেশক্রমে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তার অবস্থা দেখে দ্রুত ভর্তি নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন।

বহুল আলোচিত সদ্য বহিষ্কৃত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে রমনা থানায় দায়ের করা অস্ত্র ও মাদক আইনে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সম্রাটের উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনসহ রিমান্ডের শুনানি হবে। গত সোমবার রাতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রমনা থানা পুলিশ সম্রাটের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করেন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) নিজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত সোমবার রাতে রমনা থানার তদন্ত কর্মকর্তা এ আবেদন করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন আরা আজ বুধবার রিমান্ড শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।

গ্রেপ্তারের পর মুখ খুলতে শুরু করেছেন তারা। চাঁদাবাজি নির্যাতন ছিল নিয়মিত ঘটনা। চাইলেই দখল করে নিতেন কারো দোকান কিংবা বাড়ি। এখন গ্রেপ্তারের পর এ রকম দুটি দখল করা দোকান ছেড়ে পালিয়েছেন তার লোকজন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap