কাল কাতারের বিরুদ্ধে লড়বে সোনার ছেলেরা

3 minutes

আমাদের সংবাদ স্পোর্টস ডেস্কঃ

গত সেপ্টেম্বর মাসের স্মৃতি এখনো টাটকা। ভুলে যায়নি বাংরাদেশ।গেলো সেপ্টেম্বরে এশিয়ান গেমসেই কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষের দিকে একমাত্র গোল করে ম্যাচের মীমাংসা করে দিয়েছিলেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। সে জয় থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে নিজেদের মাটিতে জামালরা আবার ঝলক দেখাতে পারবেন তো?

হয়তো পারবেন। হয়তো পারবেন না। তবে বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে আশাবাদী, নিজের দেশের মাটিতে কাতারকে রুখে দেওয়া বেশ সম্ভব। তাঁর মাথায় চলছে হাজারো পরিকল্পনা, প্রতিপক্ষের কৌশল ভেস্তে দেওয়ার। কিন্তু প্রতিপক্ষের কৌশলটা কী? বাংলাদেশের বিপক্ষে কাতারের রণপরিকল্পনা ঠিক কেমন হবে?

প্রথমত, দলটির নাম কাতার হলেও একদম শত ভাগ কাতারি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় আছেন খুব কম। মূল একাদশের অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যে বইছে অন্যান্য দেশের রক্ত। তাদের ফুটবল খেলার ধরনের মধ্যেও এই বিভিন্ন জাতির প্রভাব ও বৈচিত্র্য বিদ্যমান।

দ্বিতীয়ত, দলের প্রায় প্রত্যেক খেলোয়াড়ই একাধিক পজিশনে খেলে অভ্যস্ত। ফলে কোচ ফেলিক্স সানচেজকে কোনো নির্দিষ্ট ছকে আটকে থাকা লাগে না। প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাতার একেক ম্যাচে একেক ছক ও কৌশল নিয়ে খেলে। ফলে তাদের মূল একাদশ ও কৌশল একটু হলেও অননুমেয়।

  • Save

গত কয়েক ম্যাচে কাতারের কৌশল ও মূল একাদশের দিকে লক্ষ্য রাখলে একটা ধারা লক্ষ্য করা যায়। প্রতিপক্ষ দুর্বল হলে তাদের ছক ও কৌশল হয়ে যায় আক্রমণাত্মক। আবার প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলে তারা অতি রক্ষণাত্মক ভাবে খেলা শুরু করে। কাতার গত কয়েক ম্যাচে যাদের সঙ্গে খেলেছে এদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে আফগানিস্তান ও ভারতকে দুর্বল বলা চলে। এই দুই দলের সঙ্গে তারা বেশ আক্রমণাত্মকভাবেই খেলেছে। ভারতের বিপক্ষে ৪-৩-৩ ছকে খেলা কাতার আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলেছিল ৪-২-৪ (৪-৪-২) ফর্মেশনে।

আবার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের বিপক্ষে দেখে গেছে অতি রক্ষণাত্মক কাতারকে। সে দুই ম্যাচে রক্ষণভাগে পাঁচজনকে রেখে যথাক্রমে ৫-৪-১ ও ৫-২-১-২ (৫-৩-২) ছকে খেলেছে কাতার। এমনকি নিজেদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী কলম্বিয়ার বিপক্ষেও ৫-৪-১ ছকে সেজেছিল কাতার। আবার তুলনামূলক ভাবে মধ্যমশক্তির প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-৪-১-১ ছকে খেলেছে কাতার।

এর সুফলও পেয়েছে তারা। খুব বেশি না হলেও, পেয়েছে। অতি রক্ষণশীল মানসিকতার জন্য ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা কলম্বিয়ার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে অন্তত গোলবন্যায় ভেসে যেতে হয়নি তাদের। ব্রাজিল,কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনা – দুই দলের সঙ্গেই একটি করে গোল খেয়ে হেরেছে

ওদিকে অতি আক্রমণাত্মক দর্শনের পূর্ণ ফসল তুলেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে, আফগানিদের হাফ ডজন গোল দিয়েছে কাতার। একমাত্র ব্যর্থতা হিসেবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটাকেই উল্লেখ করা যায়। ৪-৩-৩ ছকে আক্রমণ নির্ভর খেলা খেলেও গোলশূন্য ড্র করতে হয়েছে তাদের। তবে এর পেছনে কারণও ছিল। সে দিন তিন মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছিলেন আসেম মাদিবো, বুয়ালেম খোকি ও আবদুলআজিজ হাতেম। তিনজনের মধ্যে মাদিবো রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, হাতেমের মধ্যেও আক্রমণ করার তেমন মানসিকতা নেই, আর খোকি মূলত একজন ডিফেন্ডার। মিডফিল্ড থেকে তেমন আক্রমণের রসদ পায়নি সেদিন কাতার। আক্রমণের জন্য শুধু আক্রমণভাগের ওপরেই নির্ভর করতে হয়েছিল কাতারকে।

কাতারের বার্সা-সংযোগের মাধ্যম কিন্তু শুধু এই সানচেজই নন। কাতার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অধিকাংশই আল সাদ ক্লাবে খেলেন। বলতে গেলে কাতারের মূল একাদশের মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের সব খেলোয়াড়ই আল সাদে খেলেন। আর এই আল সাদের কোচ হচ্ছেন বার্সেলোনার সাবেক কিংবদন্তি মিডফিল্ডার জাভি হার্নান্দেজ। গোলরক্ষক সাদ আলশিব, রাইটব্যাক পেদ্রো মিগুয়েল, লেফটব্যাক আবদেল করিম হাসান, সেন্টারব্যাক তারেক সালমান, বুয়ালেম খোকি ও সালেম আল হাজরি, মিডফিল্ডার হাসান আল হায়দোস, উইঙ্গার আকরাম আফিফ – সবাই খেলেন আল সাদে। কোচ হিসেবে তারা যেমন জাভির কাছ থেকে শিক্ষা পান, মাঠের লড়াইয়েও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সাবেক স্প্যানিশ তারকা গ্যাবিকে সঙ্গে পান। ফলে মাঠের খেলায় সে ছাপটা স্পষ্ট ফুটে ওঠে।

  • Save
আব্দুল

বাংলাদেশ ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দল নয় কোন দিক দিয়েই। বরং বলা যেতে পারে, গত কয়েক মাসে কাতারিরা যাদের সঙ্গে খেলছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশই দুর্বলতম। বিশ্ব ফুটবল ‌র‌্যাংঙ্কিংয়ে ৬২ নম্বরে অবস্থান করছে কাতার। এর ১২৫ ধাপ পেছনে গিয়ে বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া যায় ১৮৭ তম অবস্থানে। এই তথ্যেও বোঝানো যাচ্ছে না বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার শক্তির পার্থক্য। আরেকটি তথ্য দিলে পরিষ্কার হবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির শক্তিমত্তা। বর্তমান এশিয়ান কাপের চ্যাম্পিয়নের মুকুটও কাতারের মাথায়। এ ছাড়া যেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাই শুরু করেছে বাংলাদেশ। সেই আফগানিস্তানকেই দোহায় ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বাছাইপর্ব শুরু করেছে কাতার।

৪-৩-৩ হোক বা ৪-৪-২, যে ছকেই কাতার খেলুক না কেন, মাঠে নির্ভরযোগ্য রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার আসেম মাদিবোকে পাচ্ছে না তারা। আল দুহাইলের এই মিডফিল্ডার আল শাহানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে চোটে পড়েছেন। মালির বংশোদ্ভূত এই তারকাকে এর ফলে যেতে হয়েছে চিকিৎসকের কাঁচির নিচেও। বাংলাদেশের জন্য একটা সুসংবাদই বলা চলে।

এখন দেখার বিষয় আগামীকালের ম্যাচে কাতারের বিরুদ্ধে বাংলার দামাল ছেলেরা কতটা ঝলসে উঠতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap