কোটচাঁদপুরে নিরাপদ সড়ক সতর্কতা সাইনবোর্ড স্থাপনায় আলমসাধু চালোকের

1 min read

রোকনুজ্জামান (ঝিনাইদহ) কোটচাঁদপুর থেকে

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের তালসার, জালালপুর, কুশনা রাস্তায় চলার সময় প্রায়ই চোখে পড়ে সচেতন মূলক সাইনবোর্ড। লেখা আছে সাবধান গাড়ীর গতি কমান সামনে স্কুল এন্ড বাজার, আবার কোথাও লেখা আছে সামনে বাজার, আস্তে চলুন। কোথাও লেখা আছে আপনার শিশুকে স্কুলে পাঠান, বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন। নিরাপদ সড়ক গড়তে সকলেই সচেতন হই। সমাজ সচেতন এই যুবক আকিমুল ইসলাম ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ৩ নাং কুশনা ইউনিয়নের তালসার গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়ার পুত্র। তার পরিবারে বাবা-মা আর স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার। আকিমুল ইসলাম জানান, পরিবারে দরিদ্রতার কারনে ছোট বেলায় তার পড়ালেখা হয়নি। অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অন্যের দোকানের কর্মচারির কাজে দেওয়া হয়। তারপরে শুরু করেন আলমসাধু চালানো। ১২ বছর তিনি এই আলমসাধু চালাচ্ছেন। বর্তমানে তার দিন আয় গড় ৩ শত টাকা। এই আয়ের পাশাপাশি বাবা ওয়াদুদ ভুইয়ার একটি চায়ের দোকান আছে তালসার বাজারে। কষ্ট করেই চলে তাদের এই সংসার।

আকিমুল ইসলাম

আকিমুল ইসলামের বাবার সাথে কথা বল্লে তিনি বলেন, আমরা দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে বেচে আছি। ছেলে ভ্যান চালিয়ে অর্থ উপার্যন করে। তারপরও আমার ছেলে নিরাপদ সড়ক গড়তে, সমাজকে ভালো রাখতে, সমাজের মানুষকে সচেতন করতে সমাজের মানুষের কথা ভেবে নানান কাজ করে। এটা আমার কাছে ভালোই লাগে। আকিমুল ইসলাম আমাদের কে আরো জানান, ২০১৩ সালে কোটচাঁদপুর-তালসার সড়কে একটি দূর্ঘটনা ঘটে। তানভির আলম নামের এক ব্যক্তির শিশু সন্তান মারা যান। শিশুটি তখন স্কুলে যাবার জন্য রাস্তা পার হচ্ছিল। এক দ্রুতগামি মাইক্রো তাকে চাপা দেয়। সে এই দেখে তার মনের মধ্যে প্রচন্ড কষ্ট হয়। এটা বুঝতে পারেন যে সচেতনতা না থাকায় এই দূর্ঘটনা ঘটেছে। তখন তিনি ভাবতে থাকেন কিভাবে মানুষকে পথচলায় সচেতন করা যায়। সেই ভাবনা থেকে রাস্তার ধারে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড লেখা শুরু করেন। আর বর্তমানে তিনি ফুটবল,ক্রিকেট খেলার জন্য নিজ টাকায় বল ক্রয় করেদেন। এবং সরকারি ভুমি তে বিভিন্ন প্রকার গাছ লাগান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *