কোর্টচাঁদপুর পাইলট স্কুলের হেডস্যার মফিজের কারণে ধ্বংস হতে চলেছে অসংখ্য পরীক্ষার্থীর জীবন!! (সিরিজ ১)

2 minutes
  • Save

কোর্টচাঁদপুর থেকে ফিরে সীমান্ত স্বপ্নীল

নর্থবেঙ্গল বা উত্তর বঙ্গের ভাষায় মফিজ মানে বোকা, অজ্ঞ, গাধা, গর্ধভ,পাফাটা ইত্যাদি মিন করা হলেও, এ মফিজ সে মফিজ নয়। ইনি কোর্টচাঁদপুর পাইলট হাইস্কুলের তথাকথিত প্রধান শিক্ষক।খুবই চতুর ও ধূর্ত প্রর্কতির সেয়ানা জিনিস।খাজা গরীবে নেওয়াজের নামে নাম করণ করা একজন পলিট্যক্যাল নেতাকে মোটা অংকের দক্ষীণা ও উপঢৌকন দিয়ে তিনি বাগিয়ে নেয় প্রধান শিক্ষকের পদ। অথচ তাঁর স্কুলে তাঁর থেকেও আছেন অনেক যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক/ শিক্ষিকা।

অবশ্য তিনি নিজেকে সবজান্তা গামছাওয়ালা হিসেবে সমানে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, চালাচ্ছেন রামরাজত্ব। মূলতঃ এ স্কুলে এখন মফিজ মাস্টারের নেতৃত্বে চলছে মৎস্যন্যায় অবস্থা।সমানে চলছে স্কুল সংস্করণ, খাতাপত্র, স্টেশনারি মালামাল ক্রয়ের নামে হরিলুট! এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষক/ শিক্ষিকাকে ভাল স্কুলে মোটা বেতনে ট্রান্সফারের নামেও হাতিয়ে নিচ্ছেন কাড়িকাড়ি টাকা।

  • Save

গত ৩রা ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষার দিন তিনি রেগুলার আর ক্যাজুয়াল শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণে করেছেন গর্হীত ও অমার্জনীয় অপরাধ। পরীক্ষা চলাকালীন ৫৫ থেকে ৬০ মিনিট পর শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে যে তারা যে প্রশ্নের উত্তরগুলো লিখেছে, তা আসলে তাদের সাবজেক্টভূক্ত নয়। তখন তড়িঘড়ি করে শিক্ষক মফিজের নির্দেশে সব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোর পূর্বক খাতা ও প্রশ্নপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়।

এবং প্রশ্নপত্র চেঞ্জ করে দিয়ে বলা হয় ৫ মিনিটের মধ্যে সব লিখে জমা দিতে হবে। আর শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করে বলেছে যে, ১টা ৫ মিনিট হওয়ার সাথে সাথেই তাদের সবার খাতা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়া হয়।

কেনো এই অপকাণ্ড করা হলো, কেড়ে নেয়া হলো খাতা? এ প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষক মফিজ আমতা আমতা করে বলেন, স্কুলে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। তাছাড়া ইউএনও স্যার ও শিক্ষা অফিসার স্কুলে উপস্থিত ছিলেন, যা হয়েছে তা সবই অফিসাররা অবগত আছেন, তাই আমাকে কোনো শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা বা অপরাধী সাব্যস্ত করার এখতিয়ার কারো নেই।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আপনি চাইলে শিক্ষা অফিসার ও ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বললেই বুঝতে পারবেন আমি কতোটা জ্যান্টেলম্যান এবং পেশাগতভাবে কতোটা সিনসিয়ার।অবশ্য শিক্ষা অফিসার, ইউএনও ও ডিসি অফিসে কথা বললে, তাঁরা বলেন আমাদের অনেক কেন্দ্র পরিদর্শণ করতে হয়। তাই টানা তিন ঘণ্টাতো আর মফিজ সাহেবের পাইলট স্কুল গার্ড দেয়া সম্ভব নয়।

এদিকে স্কুলের পরীক্ষার্থীরা ও অভিভাবকবৃন্দ এ প্রদিবেদককে বলেন ৫৫ থেকে ৬০ মিনিটের লেখা ৫ মিনিটে কি কোনোভাবে লেখা সম্ভব? স্বয়ং মফিজ মাস্টার নিজে কি পারবেন ,এক ঘণ্টার পরীক্ষার উত্তরপত্র ৫ মিনিটে শেষ করতে? আসলে এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর কারো কাছেই নেই। স্বয়ং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয় বেঁচে থাকলেও এই সময়ের ভিতরে এটি কোনো ভাবেই সম্পন্ন করতে পারতেন না বলেই মনে করেন সূশীল সমাজ।

আর তাই ঐ কেন্দ্রের ১০২ ছাত্রের মধ্যে অনউপস্থিত ১ জন বাদে প্রত্যেকেই বলেছে মফিজ স্যারের অবহেলা অযোগ্যতা ও খামখেয়ালিপনার  কারণে এবার কারিগরি বোর্ডের মধ্যে সবথেকে বাজে ফল করবে এই পাইলট স্কুল !!

এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিবসহ জেলা প্রশাসকের কাছে আমরা দু একদিনের মধ্যেই এর সঠিক বিচার দাবিপূর্বক মফিজ মাস্টারের কঠিণ শাস্তির আওতাই আনার জন্য সবিনয়ে আবেদন জানাবো।

তবে রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণে যদি কোনো শিক্ষার্থী আত্মহনন বা পড়ালেখা ত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্তে উপনীত হয় তাহলে মফিজ মাষ্টারের কপালে যে কি আছে তা জানতে স্বয়ং দেবতারাও খাবে হিমসিম।

( চলবে, আমাদের সাথেই থাকুন)

(শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন ও সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে য়োগাযোগ করুন ০১৭১৩-১৭ ৬০ ৫৯ অথবা ০১৯১১ ৬৭৭৭ ৯৩ নাম্বারে)    

Share via
Copy link
Powered by Social Snap