গোয়ালন্দে দু চেয়ারম্যানের সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসক নিহত

2 minutes

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ

পদ্মাপাড়ের এলাকা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক দুই চেয়ারম্যানের পক্ষের সংঘর্ষে রেজাউল করিম মোল্লা ওরফে আবু (৩৭) নামের এক পল্লিচিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আবু দেবগ্রাম মুন্সিপাড়া গ্রামের মোবারক মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় দেবগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নবনির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম এবং সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। নিহত রেজাউল বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামের মেয়ের দেবর।

এ ঘটনায় পুলিশ দেবগ্রামের কাওয়ালজানি গ্রামের হাফিজুল ইসলাম মোল্লা (৩৮), একই গ্রামের সামাদ শেখ (৬০), মাসুদ রানা (২৪) ও আরিফ মণ্ডল (২০) নামের চারজনকে আটক করেছে।

রক্তাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কাউন্সিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ফজলুল হক বলেন, গতকাল বিকেলে দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল শুরু হয়। এ সময় হাফিজুল ইসলাম ও আতর আলী সরদার উপস্থিত ছিলেন। প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে ভোটগ্রহণ শুরু হলে হাফিজুলের ছেলে বকুল ও আতর আলীর ছেলে সিরাজুলের মধ্যে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। কাউন্সিল সাময়িক স্থগিত করা হলে আতর আলী লোকজন নিয়ে চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আতর আলী বাজারের সামনে লোকজন নিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় গোয়ালন্দ বাজার থেকে হাফিজুল ইসলাম সমর্থিত ব্যবসায়ী নিজাম মোল্লা বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি ওই স্থানে যাওয়ামাত্র সশস্ত্র লোকজন হাফিজুলের লোক বলেই মারপিট শুরু করেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েকটি কোপ দিলে তিনি গুরুতর জখম হন। ভাইকে মারধরের খবর পেয়ে রেজাউল বাজারে পৌঁছালে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হাফিজুলের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে যান। উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। আহত অবস্থায় রেজাউলকে উদ্ধার করে ফরিদপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলার খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ, উজানচর ও ছোটভাকলা ইউপির উপনির্বাচনে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনা শুনে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। বর্তমানে গোটা এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap