জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের বিকৃতি, বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন মুক্তিযোদ্ধা

< 1 min read
আমাদের সংবাদ / ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের বিকৃতি থাকায় সম্মানি ভাতা বন্ধ হয় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আমাসু বর্মণের। সংসারে অভাব, অর্থকষ্টের চিন্তায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এই বীর। গত০১ জানুয়ারী রোজ বুধবার বিকেলে মৃত্যু হয়েছে তার।
  • Save
১৯৭১ সালে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন আমাসু বর্মণ। তার মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০৩১০০১০৪২৯। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ইউনিট কমান্ডার বদরুদ্দোজা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা জানান, আমাসু বর্মণ প্রথম দিকে সম্মানি ভাতা পেয়েছিলেন। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম বিকৃতি হওয়ায় ভাতা বঞ্চিত হয়ে পড়েন তিনি।
চিকিৎসা না হওয়া আর সংসারের বেহাল দশার কারণে বাবার মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না আমাসুর বর্মণের মেয়ে কাজলী রাণী।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।
কথা বলতে পারছিলেন না আমাসুর স্ত্রী বনমালা রাণীও। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বামীর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের ক্ষেতে-খামারে কাজ করে কিছু খাবার যোগাড় করতেন বনমালা। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি।
আমাসু বর্মণের ভাতিজা নিতাই চন্দ্র রায় আমাদের সময়কে জানান, তার চাচা দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা না পাওয়া, সংসারে অভাব ও অর্থকষ্টে খেতেও পারতেন না। যে কারণে চিকিৎসাও করাতে পারেননি।
নিতাইয়ের অভিযোগ, তার চাচা নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য অনেক দেন-দরবার করেছিলেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। নাম সংশোধন হলে তার চাচা চিকিৎসা নিতে পারতেন।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিক কে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আমাসু বর্মণে নাম ও বয়স সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আমাদের এখতিয়ার বর্হিভুত।’
Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap