ঝিনাইদহে শীত এলেই গৃহিণীদের মাঝে চলে কুমরা বড়ি উৎসব

< 1 min read
  • Save

এম.বুরহান উদ্দীন শৈলকুপা, ঝিনাইদহ:

দেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলসহ ঝিনাইদহে শীত এলেই গৃহিণীদের মাঝে চলে কুমরা বড়ি উৎসব । প্রথমে কলাই পানিতে ভিজিয়ে কালো ছাল তুলে কুমরার সঙ্গে মিশিয়ে, মেশিনে বা ঢেঁকিতে পিষে গুড়া করা হয়। একপর্যায়ে আঠালো হলে জাল, টিন, চালুনি কিংবা পরিষ্কার কাপড়ে বড়ি আকারে দিয়ে রোদে শুকাতে হয়। হ্যা এরকমই ঠিক শীতের সময়টা আসলেই বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন ঝিনাইদহের গৃহিণীরা। এক এক জায়গায় এর নাম ভিন্ন হলেও এ এলাকায় কুমরা বড়ি নামেই সবাই চেনে। পৌষের শুরু থেকেই সব বাড়িতে চলে এই কুমড়া বড়ির উৎসব। ঝিনাইদহে এ কুমড়া বড়ির ঐতিহ্য রয়েছে প্রাচীনকাল থেকেই। গৃহিণীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে প্রায় সব কৃষকরাই পরিবারে চালকুমড়া লাগান। বড়ি দেয়া ছাড়াও এ কুমড়ার জালি তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। সাজু বিবি নামের এক বৃদ্ধা বলেন, বড়ি দেয়াটা একসময় বেশ কঠিন কাজ ছিল। তখন প্রচন্ড শীতে রাত জেগে ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে গুড়া তৈরি করা হতো। কিন্তু এখন তা মেশিনে করা হয়। উপজেলার খড়িকাডাঙ্গা গ্রামের মমতাজ বেগম জানান, এ বছর তিনি কেজি প্রতি ১০০ টাকা দরে কলাই ও ৩০০ টাকা দিয়ে তিনটি কুমড়া কিনে বড়ি দিয়েছেন। অর্ধেক পরিবারের জন্য রেখে বাকিটা শহরে থাকা মেয়ে জামাইয়ের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন। তরকারি ও সবজিতে বড়ি দিলে অনেক স্বাদ হয়। শহরের শুসান্ত নামের এক দোকানদার জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার কলাই বেশি বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি ১০০ টাকা দরে এক সপ্তাহে তিনি ২৭ মণ বিক্রি করেছেন।

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap