ঠাকুরগাঁয়ে বিএনপি সভাপতি এখন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক

2 minutes
  • Save

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঠাকুরগঁও:

ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় আ’লীগ ঘোষিত দলে অনুপ্রবেশকারির তলিকায় নামও রয়েছে তার, অথচ তিনিই এখন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতিহিসেবে নিযুক্তহলেন।আর এ ঘটনা ঘটেছে আওয়মীলীগের সভাপতিমন্ডলীর অন্যতম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্রসেন এমপি’র এলাকায়।

এমনকি তিনি নিজে সদর উপজেলার রুহিয়া থানাধীন৬টি ইউনিয়নকমিটিরসভাপতি-সা: সম্পাদকের নামউল্লেখ করে তা অনুমোদনের জন্য থানা কমিটির বরাবর পেশ করেন এবং থানা কমিটি কোনরূপ যাচাই-বাছাইনাকরেই তা অনুমোদন দিয়ে দেন।

গত সোমবার (২৭জানুয়ারীরাতে) জেলা আ’লীগের দপ্তরসম্পাদক এ্যাড. নাসিরুলএর ফেসবুক আইডিতে জেলা আ’লীগের প্যাডে এমপি রমেশ চন্দ্র সেন স্বাক্ষরিত৬টি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি-সা: সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেএকটি পোস্ট দিলে নিমিষেই তা ভাইরাল হয়েপড়ে।সমালোচনা শুরু হয় জেলা জুড়ে।

জানাযায়, ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে জামায়াত-বিএনপি প্রবণ এলাকা আখানগর ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওএকই ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সম্প্রতি কেন্দ্রীয় আ’লীগ থেকে প্রকাশিত দলের অনুপ্রবেশকারি মো: রোমান বাদশা।সাধারণসম্পাদক নির্বাচিত হন ওই ইউনিয়নের সাবেক সা: সম্পাদক মো: রখছেদুল হক চৌধূরী স্বপন।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারী আখানগর ইউনিয়ন আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে কমিটি ঘোষণা করা হয়নি বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাউল বলেন, নেত্রী যেখানে বিভিন্ন দল থেকে আ’লীগে আসা অনুপ্রবেশকারিরা যাতে দলের পদ-পদবি না পান সেজন্য অনুপ্রবেশ কারিদের তালিকা তৈরী করে তা জেলায় জেলায় প্রেরণ করেছেন, অথচ এখানে দলের ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বিএনপি থেকে আসা অনুপ্রবেশকারি রোমান বাদশাকে দলের সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে তাকে পুরস্কৃত করা হলো।আর এতে বাদ পড়লো দলের দূ:সময়ের নেতা-কর্মীরা।এছাড়াও২০০১সালের১লাঅক্টোবরেরজাতীয়নির্বাচনেআখানগরইউনিয়নেরভেলারহাটসেন্টারেসংখ্যালঘুসম্প্রদায়েরউপরনারকীয়তান্ডবচালায়এরোমানবাদশা।

আখানগর ইউনিয়ন আ’লীগের আরেক নেতা বিনোদ জানান, ২০০১সালের ১অক্টোবরের জাতীয়নির্বাচনের দিন যে ব্যক্তি সংখ্যালঘু ভোটারদের উপর তান্ডব চালিয়ে আমার স্বর্ণের দোকান লুটপাট করেছিলো আজকে তাকেই সভাপতির পদ দেওয়া হলো।তাহলে কি এ ইউনিয়নে একজনও প্রকৃত আ’লীগার নেই, যেদলসামলাতেপারবে? নাকি সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হলো?

এ বিষয়ে জানতে রুহিয়া থানা আওয়ামীলীগে রসাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বাবু জানান, প্রতিটি ইউনিয়নেই দলের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।আখানগর ইউনিয়নের নির্বাচিত সভাপতি রোমান বাদশা এক সময় বিএনপি করতেন সেটা ঠিক, কিন্তু দল ক্ষমতায় থাকার দশবছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে শক্ত কোন অবস্থান তৈরী না হওয়াসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে কাউন্সিলর ও সকল নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।

ইউনিয়ন আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সভাপতি-সা: সম্পাদক নির্বাচিত না করে গোপন স্থান থেকে সভাপতি-সা: সম্পাদকের নাম ঘোষণা আসছে কিনা -এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গোপনে সভাপতি-সা: সম্পাদক নির্বাচিত করা হচ্ছে কথাটি ভূল।আসলে সম্মেলন চলাকালীন কাউন্সিলররাই অত্র এলাকার আ’লীগের অভিভাবক রমেশচন্দ্র সেনকে সভাপতি-সা: সম্পাদক নির্বাচনের দায়িত্ব এবং উনি যা সিদ্ধান্ত দেবেন তা মেনে নেওয়ার আশ্বাসদিলে জেলা-উপজেলা ও থানা আ’লীগ নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউনিয়ন কমিটিগুলো ঘোষণা করা হচ্ছে।

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap