Logo Design

ডুইপ কর্তৃপক্ষ নিজেরাই গৃহহীন?

2 minutes

সাংবাদিক সজীব আকবরঃ

  • Save

অনেক আগে যখন ক্লাস ওয়ান টুয়ে পড়তাম, তো আমার দাদা বলতেন ” ঘরামীর চালে খড় থাকেনা” এসব কথার মানে তখন ঠিক বুঝতামনা। তবে এর কারণ জানবার একটা তাগিদ অনুভব করতাম ভিতরে ভিতরে। তবে জাতীয় গৃহায়ণ অফিসে ঢুকলে কথাটা এখন বেশ হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারি। এখানকার নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীদের থাকা বা অফিস করার টনটনে ব্যবস্থা হলেও, পুরাতান টিনের চালে রঙচঙ করে যাবতীয় কাজকর্ম করছেন, প্রপার্টি ফাইনানসিয়াল কর্মকর্তা পিএইচডি ডিগ্রিধারি স্বজ্জন ব্যক্তিত্ব আঃ রউফ। এ অফিসের চতুর্পাশে রয়েছে ডেঙ্গু মশা, সাপ, বিচ্চু, আরশোলা, আজনাই, গোসাপসহ জাত গোখরো ও কুলিম সাপ থাকাটাও খুব সহজ। কারণ যুগযুগ ধরে এখানকার পরিত্যক্ত ইট খোয়া অপসারণ না করার কারণে এটি সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

  • Save
অবশ্য বেদের মেয়ে খ্যাত অঞ্জুঘোষ, ইলিয়াস কাঞ্চন, জাম্মু মার্কা ফিল্মি সাপুরেরা এখানে এসে মরণ বিণ বাজানো শুরু করলে বের হয়ে আসতে পারে নানাবিধ বিষাক্ত সাপসহ, পদ্মগোখরো বা কালনাগিনী জাতিয় কোনো দুর্লভ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় সরীসৃপ।
তবে আমার নিজস্ব একটা টিম আছে যার নাম ” হেলথ সেফ বাংলাদেশ ” এর পরিচালক টগবগে এক অবিবাহিত যুবক আরসান কাফি। আরসান কাফির এই টিম দীর্ঘদিন যাবৎ রাজধানীর ফোর কর্ণারে পৌঁছে যাবতীয় বর্জ অপসারণ করে পাল্টে দিচ্ছে রাজধানীর চেহারা।

অপ্রাসঙ্গিক হলেও একটা কথা এখানে বলতেই হবে যে, যে কাজে সবথেকে বেশি নিষেধাজ্ঞা সেইসব কাজই আমাকে টানতো বেশি।
যদি কোনো বাড়ির সামনে লেখা থাকতো ” কুকুর হইতে সাবধান ” তাহলে সেই কুকুরকে পটিয়ে পাটিয়ে গণধোলাই না দেওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই শান্তি পেতাম না।
আর এসব কুকুর ধোলাই দেওয়ার জন্য আমার নিজস্ব কিছু মারণাস্ত্র থাকতো আমার মাজায়, পকেটে, মোজার ভিতরে। এরমধ্যে অন্যতম হলো, টি& টির তার ও ইলেকট্রিক তারের চাবুক। এ চাবুক বানাতে আমাকে যে ব্যক্তি সবথেকে বেশি উৎসাহ যুগিয়েছেন তিনি প্রায় সকলের প্রিয় খলনায়ক জাম্বু ও আহমেদ শরীফ।
এছাড়া পুরাতন বাজারের মাছপটি থেকে বানানো বিশেষ ধরনের চাকু, রেল লাইনের কালো পাথর, কখনো কখনো থাকতো আজিজ মিয়ার গাছের কাঁচাবেল। আর অবধারিতভাবে থাকতো পাকিস্তানের শেয়ালকোটের তৈরি ফুটবল ব্লাডারের তৈরি গুলতি। গুলতির বারুদ বা বুলেট হিসেবে ব্যবহার করতাম এঁটেল মাটি ও ধানের তূষ সুন্দর করে ছেনে মার্বেলের মতো সাইজ করে টানা দু তিনদিন রোদ্রে শুকিয়ে খাঁটি ঘানির তেল মাখিয়ে ঘণ্টাখানেক জ্বলন্ত চুলায় গনগনে কয়লার আঁচে পুড়িয়ে লালছে কালার করা। আর থাকতো কুকুর সাইজ করার জন্য বঙ্গজ বা গ্রীনফুডের আটানা জোরার পাউরুটি।

  • Save
প্রথমে প্রাচির টপকে ভিতরে ঢুকে দুইটা রুটিকে ৪ টুকরো করতাম। রে রে করে কুকুর ছুটে আসার আগেই প্রথমে আধখানা রুটি ছুঁড়ে দিতাম ৫/৬ হাতের মধ্যে। আর আমার বাহিনী প্রাচীরের উপর বসে তামাশা দেখতো। সহজে নিচে নামতো না। আসলে এই যে ধান ভানতে শিবের গীত যে গাইলাম তার কারণ একটাই, আম জাম কাঁঠাল,কলা, ফলসা, জামরুল, বাতাবিলেবু, লিচুচুরির একমাত্র ভিলেন ছিলো এই কুকুরগুলো। তাই বিভিন্ন কৌশলে এদের মাঝে মাঝে ধোলাই দিতে হতো।
কারণ গুলতি আর অাঁধারে ধোলাইয়ের ভয়ে কোনো পাবলিক বা গাছ মালিক খুব একটা সামনে আসতো না।
যাইহোক এবার সংক্ষেপে আসল কথাটা বলি, এখন সেই গাওয়া ঘিও জুটবেনা, আর রাধাও নাচবে না।
তাই অঞ্জুঘোষ আসুক আর না আসুক, আরসান কাফি পরিচালিত ” হেলথ সেফ বাংলাদেশ’ এর স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে যে কোনো দিন যে কোনো সময় আমরা পৌঁছে যাব জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ডুইপ টুর ফাইনানসিয়াল কার্যালয়ের জঞ্জাল পরিস্কারে। কারণ যারা রাজধানীর লক্ষ লক্ষ মানুষের থাকার ব্যবস্থা করে চলেছেন নিরলসভাবে, তাঁদেরকে কি অরক্ষিত রাখা যায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap