দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সংখ্যালঘু নাপিতের কোটি টাকা মূল্যের বসতভিটা দখলের চেষ্টা হত্যা ও উচ্ছেদের হুমকী

স্বপন চন্দ্র রায়- দিনাজপুর প্রতিনিধি :

  • Save

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে চেনা ঠাকুর নামের এক সংখ্যালঘু নাপিতের প্রায় কোটি টাকা মূল্যের বসতভিটা ও জমিজমা জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জবরদখলে বাধা দেয়ায় চিহ্নিত ওই প্রভাবশালী মহলের লাঠিয়াল বাহিনী নিরীহ নাপিতকে বেধম মারপিটসহ হত্যার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় থানায় ১৩জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করে আরও বিপাকে পড়েছে চেনা ঠাকুরসহ তার পরিবারের লোকজন। মামলার আসামীরা চেনা ঠাকুরকে আবারও হুমকী ধামকি অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল পার্বতীপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দুরে মন্মথপুর ইউনিয়নের দেগলাগঞ্জ বাজার। মামলার বাদী নির্যাতিত চেনা ঠাকুরের ছেলে সন্তোষ ঠাকুর জানায়, অভিযুক্ত সকলেই কাজী পরিবারের লোক। তারা অত্যন্ত ক্ষতাধর ও পেশীশক্তির অধিকারী। গত কয়েক বছর যাবত এই প্রভাবশালী মহলটি আমাদের ভোগ দখলীয় পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ঘটনার ধারাবাহিকতায় তাদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আমাদের বাড়ির দক্ষিন পাশে প্রধান রাস্তা সংলগ্ন তাজনগর মৌজার ৯৮০ নং দাগের ৮৭শতক জমির উপর। সন্তোষ ঠাকুর মামলার বিবরনে উল্লেখ করেন, গত রোববার (৪ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে বিবাদীগন তাদের ভোগ দখলীয় বাড়ির সংলগ্ন বাগানবাড়ির উত্তর-দক্ষিনে দৈর্ঘে ১৫০ফুট ও পূর্ব-পশ্চিমে প্রস্থে ২০ ফুট জায়গায় সিমেন্টের পিলারের খুটি বসিয়ে ও তারের বেড়া দিয়ে জবরদখলের চেষ্টা চালায়। আমার বাবা চেনা ঠাকুর টের পেয়ে তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা চালালে তারা চেনা ঠাকুরকে রডের আঘাতে মাটিতে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। চেনা ঠাকুরের চিৎকারে প্রতিবেশী ও মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লিরা ছুটে এসে তাকে রক্ষা করে। সন্তোষ ঠাকুর বলেন, নজরুল কাজী গং বংশগতভাবে অত্যন্ত পেশীশক্তির অধিকারী। এলাকার সাধারন কোন মানুষ তাদের দখল বানিজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। ২বছর আগে নজরুল কাজী গং দেগলাগঞ্জ বাজারে অবস্থিত আমাদের ৬৪ শতক ব্যবসায়িক জায়গা জবর দখল করে নেয়। আমাদের বাড়ি ও রাস্তা সংলগ্ন জায়গায় নির্মানাধীন দোকানঘরের কাজও বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তাঘাটে দেখা হলে অভিযুক্তরা আমাদেরকে প্রতিনিয়তই গালাগালিসহ হত্যার হুমকী দিয়ে জায়গা জমি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যেতে বলে। আমাদের বসত বাড়ির পাশেই প্রতিপক্ষদের বসতবাড়ী ও হোটেল রয়েছে।

  • Save

তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদেরকে উচ্ছেদ বা আমাদের বাড়িটি জবরদখলের দুরভিসন্ধি নিয়ে তাদের হোটেলের ময়লা আবর্জনার পানি প্লাস্টিকের পাইপের দ্বারা আমাদের বাড়ির ভেতরের দিকে ফেলে। এছাড়াও দরজা করা হয়েছে আমাদের বাড়ির উঠান বরাবর। এর উদ্দেশ্য কি আপনারা বিবেচনা করুন। আমরা আশঙ্কা করছি তারা যেকোন মুহুর্তে আমাদের বসত বাড়িটিও দখল করে নিতে পারে। তাই ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে প্রায়ই নিঘূম রাত কাটাচ্ছি। সন্তোষ ঠাকুর জানায়, বিবাদমান এই সম্পত্তি চেনা ঠাকুরের পিতার নামে খারিজসহ পাকিস্তানী ও বাংলাদেশী রেকর্ড রয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্তদের পূর্ব পুরুষদের নামে ব্রিটিশ রেকর্ড রয়েছে। অভিযুক্তরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সহকারী স্যাটেলম্যান অফিসার বরাবরে আপত্তি দাখিলের পরও উভয় কর্মকর্তা নাপিত চেনা ঠাকুরের পক্ষ্যেই রায় প্রদান করেন। অভিযুক্তরা পরে দিনাজপুর আদালতে আপিল করলে সেখানেও তাদের আপিল খারিজ হয়ে যায়। পূনরায় তারা সানি মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০.৩০ মিনিটে মুঠোফোনে মিজানুর রহমান কাজীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিবাদমান ৮৭শতক জায়গার মধ্যে ১৭শতক আমাদের নামে বাংলাদেশ রেকর্ডে নাম আছে। তবে পুরো সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধনী করতে আদালতে তারা আপিল করার কথা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্মথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজগর আলী জানায়, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সার্কেলের এডিশনাল এসপি রফিকুল ইসলাম দুই পক্ষকে তার কাযালয়ে ডেকে নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দুই পক্ষকেই জানানো হয়েছিল আদালতে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন বিবাদমান জমিতে না যায়। আমি নিজেও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। আমি কয়েকদিন পুর্বে লোক মারফত জানতে পেরেছি নজরুল কাজী ও তার পরিবারের লোকজন চেনা কাজীর বাগান বাড়ীটি দখলের চেষ্টা চালিয়েছিল। পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানা বলেন মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং- ১৪। বাদীর কাগজপত্র দেখে আপাতত দৃষ্টিতে তাদের মালিকানার সত্যতা পাওয়া গেছে। পূনরায় জবরদখলের চেষ্টা বা আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে পুলিশ কঠোরভাবে আইনী ব্যবস্থা নিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap