দুর্গাপুূরের ভূয়া হাফেজ মোস্তাফিজ ও কোটালীর বালিকা বধূ অর্পিতার সংসারে ভাঙনের সুর

2 minutes

সাংবাদিক সজীব আকবরঃ

  • Save

চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার কোটালী গ্রামের অর্পিতা ও একই থানার দুর্গাপুরের কথিত হাফেজ মোস্তাফিজের সংসারে চলছে ভাঙনের সুর। এ বিয়ে যে টিকবে না তা এক প্রকার নিশ্চিতই বলা যায়। সমাজের অনেক সচেতন নাগরিকদের ন্যায় আমাদের মিডিয়া হাউজের বেশকিছু দক্ষ সাংবাদিক কথা বলেন উভয় পরিবারের সাথে।
এতে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, এখন বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় বা শরৎচন্দ্রের সেই বালিকা বধূর সেই যুগ আর নেই। এখন অসম বয়সের বিয়ে মানেই ক্লাস সেভেন বা এইটে পড়া মেয়েদের প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে বিয়ে দেওয়া মানেই, গলাই কলসী বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে মারারই নামান্তর। কেননা বিয়ে, সংসার, ফুলশয্যা কি তা বুঝে ওঠার মতো কোনো সময়ই দেয়নি মোস্তাফিজ।
আরো খোলামেলা ভাবে বললে এটা স্পষ্ট যে, ফুলশয্যার নামে মোস্তাফিজ হাত-পা বেঁধে একপ্রকার ধারাবাহিক ধর্ষণ করে গেছে মোস্তাফিজ। ফলে বিবাহিত জীবনে যৌন নিগৃহের শিকার অর্পির কাছে পুরুষ মানেই এক আতঙ্ক ও বিভীষিকার নাম।
মেয়েটি শুধু মাথায় লম্বাই হয়েছে। মাত্র তের বা চোদ্দ বছরের এই ছিপছিপে গড়নের অর্পিতার শরীরে নেই তেমন রক্ত মাংস, একজন বিবাহ উপযুক্ত কন্যার যে ধরনের শারীরিক গঠন হওয়া দরকার তার ছিটে ফোটাও নেই অর্পিতার মধ্যে।
অর্পিতার পিতার ভিটাই পা দিয়েই আমার প্রথম যে কথাটি মনে পড়লো, সেটি পল্লী কবি জসিমউদদীনের অমর কবিতা ” আসনানিদের ছোট্ট বাড়ি দেখতে যদি চাও
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়িতো নয় পাখির বাসা
ভেন্না পাতার ছানি
একটু খানি বৃষ্টি হলেই
গড়িয়ে পড়ে পানি………..

আর তাই যখন কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের দুর্গাপুরের মোস্তাফিজের বাবা আঃ কাদেরের পাকা বিল্ডিং, দোকান, জমি, পুকুর, বাগান আছে মেয়ের পরিবার জানলেন তখন আর এক সেকেন্ডও দেরি করলেননা অর্পির পিতা-মাতাসহ আত্মীয়স্বজন।
আর এ দেরি না করার নেপথ্যে যেটি সব থেকে মূখ্য ভুমিকা পালন করেছে সেটি হলো, বিয়েতে মেয়ের বাবার কোনো খরচ খরচা নেই, সব খরচ মোস্তাফিজের পিতা আঃ কাদেরের। তাই দেখতে এসেই শুরু হলো বিয়ের বাদ্য। উপস্থিত মেহমানদের খাতিরযত্ন তথা ভূরিভোজনের ব্যবস্থাও হলো। কিন্তু আনন্দের অাধিক্যে ভুলেই গেলেন যে, নির্ধারিত কাজী আলী আকবরকে যে ডেকে বিয়েটা পড়িয়ে ভলিউম তথা রেজিস্ট্রার খাতায় ছেলে- মেয়ে ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য রাখাটা যে বাধ্যতামূলক এটি তারা বেমালুম ভুলে গেলেন। আর এলাজাবাসী সবথেকে যে ভুলটা করলেন, তা হলো সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে “ধরতক্তা মার পেরেক স্ট্যাইলে” স্থানীয় কোটালী হাট মসজিদের খতিব ও ইমামকে দিয়ে শুধু সুরা ফাতেহা পাঠ করে পড়ানো হলো এ বিয়ে।
অবশ্য স্থানীয় একটি সূত্র বলেছে, আন্দুলবাড়িয়ায় চাকরীরত কথিত হাফেজ মোস্তাফিজের সাথে যদুপুর গ্রামের অর্থপিশাচ কোটালী হাট মসজিদের ইমামের আগেই মোবাইলে কথা হয় যে, টাকা যা লাগে কোটালী হাট মসজিদের ইমামকে মোস্তাফিজ দিবে, কিন্তু বিয়েতে কোনো কাজী থাকবেনা। আর এই অর্থের লোভেই ” নাম কা ওয়াস্তে’ ” বিয়ে পড়াতে রাজি হন হাট মসজিদের ইমাম।
এই ব্লু প্লানের পিছনে মূল যে উদ্দেশ্য কাজ করেছে, তা হলো বিয়ে বিচ্ছেদ, নির্যাতন, যৌতুক বা কোনো বিষয়েই যাতে অপ্রির পিতা অলি যাতে কোনো রকম পারিজারি মামলা অর্থাৎ ১৯৮৪ সালের ৯ এর (ক) তে জামিন অযোগ্য ধারায় বিজ্ঞ আদালতে ফরিয়াদ জানাতে না পারে, সে বিষয়টি খুব কৌশলের সাথে করা হয়েছ। আর একইসাথে পূণরায় যাদে আরো একধিক মেয়ের সাথে যাতে করে বিয়ের নাটক মঞ্চস্থ করা যায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তাই এ জঘন্য ও ঘৃণ্য অপকৌশলের মূল হোতাদের যাতে কমপক্ষে ১৪ বছর বা দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হয়, সে বিষয়ে বিচক্ষণ পিপি বেলাল হোসেন, মানবতা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এড. মানি খন্দকার ও দর্শনা থানার প্রথম ওসি মাহবুবুর রহমানকে স্ব প্রনোদিত হয়ে মামলা করার জন্য অনুরোধ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap