দেবীগঞ্জ উপজেলায় ইউপি সদস্যের জুলুম অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষজন

3 minutes

দেবীগঞ্জ প্রতিনিধি:

  • Save
বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী যেখানে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন, সেখানে রাজনীতির লেবাস ধারন করে অসৎ কিছু ব্যক্তি যেন উঠেপড়ে লেগেছে সরকারের এ অর্জনে দাগ লাগাতে।অপরাধ জগতের সকল শাখায় বিচরণকারী এমন এক ব্যাক্তির নাম খালেক মেম্বার। যিনি পুরো একটি ওয়ার্ড ও এর আশপাশের মানুষকে অস্বস্তিতে রেখেছেন এবং অবৈধ টাকার পাহাড় গড়েছেন। এক সময় ভ্যান চালিয়ে খেতেন অথচ এখন বিত্ত বৈভব-অর্থ সম্পদে সোনায় সোহাগা এক ব্যক্তির নাম খালেক মেম্বার।

দেবীগঞ্জের টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল খালেক বাবুরহাট বটতলী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইউপি সদস্য হওয়ার পর থেকেই এলাকার মানুষের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছেন খালেক মেম্বার। নিজস্ব ক্যাডারবাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজী, অপহরণ করে মুক্তিপন আদায়, মাদক ব্যাবসা, জুয়ার আসর পরিচালনা, সাধারন মানুষকে হেনস্তা, সরকারী বরাদ্দের চাল-গম আত্মসাৎ, শালিসের নামে মানুষের উপর জুলুম-নির্যাতনের পর পিটিয়ে পাগল সাব্যস্ত করা, নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু-পাথর উত্তোলন, সাংবাদিক নির্যাতন, পুলিশ পেটানো সহ নানা অভিযোগের মালা ঝুলছে এ ইউপি সদস্যের গলায়। তবুও তাকে থামাতে পারছে না কেউ। কোন ব্যাক্তি তার অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে প্রথমে নিজস্ব ক্যাডারবাহিনীর মাধ্যমে হুমকি-ধামকি অথবা মারধর করে খালেক মেম্বার। এতে কাজ না হলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেন এ ইউপি সদস্য।
অন্যায় ভাবে একাধিক ব্যাক্তির জমি জবর দখল করেছেন তিনি, এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাই তার ভয়ে তটস্থ থাকে ওয়ার্ডের সাধারন মানুষ।

যোগ্যতার ভিত্তিতে নয় বরং নিজের পছন্দ মতো লোকদের বয়ষ্ক ভাতা, দুঃস্থ ভাতা সহ সরকারী অন্যান্য বরাদ্দ নিয়েও স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ রয়েছে খালেক মেম্বারের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি পুলিশকে পিটিয়ে আটকেও রাখেন তিনি। পুলিশের সামনেই জুয়ার বোর্ড চালানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে খালেক মেম্বার বলেন যে, তিনি বাবুরহাটে জুয়া চালাবেন-কিন্ত পুলিশ প্রশাসন তার কিছুই করতে পারবে না। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এরপরই আলোচনা-সমালোচনায় আসে বদমাশ এ ইউপি সদস্য খালেক।

মাদকের ব্যবসায় হঠাৎ বড়লোক: খালেক মেম্বার, তার বাবা আলীম, বড় ভাই মন্টু ও ছোটভাই মালেক প্রায় বছর সাতেক আগেও রিক্সা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এরপর তারা ছাগল ব্যবসার সাথে যুক্ত হন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ছাগল কিনে বিভিন্ন হাটে নিয়ে বিক্রি করেন।
তারপর ছাগল কেনাবেচা ছেড়ে তারা ইটভাটায় লাকড়ী সাপ্লাইয়ের কাজ শুরু করেন। এ সময় কালীগঞ্জের বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীর সাথে পরিচয় ঘটে খালেক মেম্বারের। তখন থেকেই লাকড়ী ব্যবসার আড়ালে শুরু করেন মাদকের ব্যবসা। খালেক মেম্বার ও তার ছোটভাই মালেক ভাউলাগঞ্জ বড়শশী ও ঠাকুরগাঁয়ের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনসিডিল সংগ্রহ করে পাঠাতে থাকেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। এছাড়া খালেক মেম্বারের ছোটভাই মালেক ইয়াবার চালান এনে খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজও শুরু করেন। বিভিন্ন থানায় কয়েকবার পুলিশের হাতে ধরাও পড়েন মালেক। খালেক মেম্বার তার প্রভাব খাটিয়ে মালেককে বের করে এনে পূনরায় লাকড়ী ব্যবসার আড়ালে তাদের মাদকের ব্যবসা বিস্তৃত করতে থাকেন। অবৈধ মাদক ব্যবসা করে খালেক মেম্বার বছর না ঘুরতেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। পাকা গুদাম ঘর, চাতাল, নামে-বেনামে একাধিক নছিমন-ভটভটি, মালবাহী পিকআপ গাড়ী, জমিজমার মালিক বনে যান। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭ নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে প্রার্থী হন। ছড়াতে থাকেন অবৈধ উপার্জনের টাকা।
পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হবার পর থেকে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। প্রসার ঘটান তার অপরাধ সাম্রাজ্যের। নিজে বিএনপির রাজনীতি করলেও সখ্যতা গড়ে তুলেছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কতিপয় বিদ্রোহী নেতার সাথে। তাদের যোগশাযোশে বিভিন্ন মহল ম্যানেজ করে হয়ে ওঠেন দুর্দান্ত প্রতাপশালী।

জুয়ার বোর্ড চালানো: মেম্বার হবার পর থেকেই খালেক বাবুরহাট ও বটতলীতে নিয়মিত জুয়ার আসর বসান বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, খালেক মেম্বারের এ সব জুয়ার আসরে দুর দুরান্ত থেকেও জুয়ারীরা আসে এবং লক্ষাধিক টাকার জুয়া চলে। তিনি প্রকাশ্যেই দম্ভোক্তি করেন যে, তিনি জুয়ার আসর চালিয়েই যাবেন এবং পুলিশ প্রশাসনও তার কিছুই করতে পারবে না।

অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন : খালেক মেম্বার তিস্তা নদীতে তার লোকজন দিয়ে নিয়মিত বালু ও পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করেন। জানা গেছে, একই এলাকার আফজাল বালু পাথরের অবৈধ ব্যবসার দেখাশোনা করেন।
অপহরণ ও চাঁদাবাজী: খালেক মেম্বার তার লোকজন দিয়ে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ করে মুক্তিপন আদায় ও চাঁদাবাজীর মত ঘটনাও ঘটিয়েছেন।
সাংবাদিক নির্যাতন: খালেক মেম্বারের অপকর্মের সংবাদ সংগ্রহ করতে এলে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেছেন তিনি। সংবাদ প্রকাশ করায় প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন।

পুলিশ পিটানো: গত ১৯ জুন দেবীগঞ্জ থানার দুই পুলিশ সদস্য খালেক মেম্বারের এলাকায় একটি ঘটনার তদন্ত করতে এলে পুলিশের এক কনস্টেবলকে বেদম প্রহার করেছেন বলেও জানা গেছে। পরে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে।

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল হাসান জানান, তদন্ত চলছে-আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান অব্যাহত আছে। পেলেই ধরে ফেলব।
টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো: আব্দুল খালেকের সাথে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনে ( ০১৯২২৫৮৬৭৫০ , ০১৭৪৪৮৬৯৯০২ , ০১৭৮৫৪৬১৮০৭ ) একাধিকবার কল করলেও বন্ধ পাওয়া যায়। (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap