Logo Design Logo Design Logo Design

নোয়াখালীতে প্রধানমন্ত্রীর আবাসন প্রকল্পের টাকা হরিলুট!

2 minutes

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ “খ” শ্রেণির ঘর নির্মাণে নোয়াখালীতে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

দুদক নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ৩নং জিরতলী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মিলন প্রকল্পের ১শ ৯০ জনের তালিকায় ৭৭ জনের ঘর নির্মাণ না করে ভুয়া মাস্টাররোল সাবমিট করে স্থানীয় পিআইওর যোগসাজশে ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ দিয়েছেন আলী হোসেন নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা। তার অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আলী হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প থেকে সারাদেশের দরিদ্র মানুষের আশ্রায়ণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে “যার জমি আছে, ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে মাথা গোঁজার জন্য বসত ঘর তৈরির লক্ষ্যে ঘর প্রতি এক লাখ টাকা এ প্রকল্পের জন্য নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ৩নং জিরতলী ১৯০ টি ঘরের বরাদ্দ হয়।

জিরতলী ইউপিতে ১’শ ৯০টি ঘরের বরাদ্দ হয়। ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মিলন নিজ ক্ষমতা বলে ১’শ ৯০টি ঘরের তালিকায় থাকা ৭৭ জনকে কোনো ঘর না দিয়ে সরকারি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। একই অভিযোগে ওই ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা মো. সেলিম দুদককে জানায়, স্থানীয় চেয়ারম্যান অস্তিত্বহীন নিজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে.কে ট্রেডার্সের নামে বিল ভাউচার দেখিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করেন।

দুদক অফিস সূত্রে জানা যায়, ওই ইউপির মহব্বতপুর, মুজাহিদপুর, মদিনাবাগ ও মাঠের পূর্ব পাশ বলতে কোনো গ্রাম না থাকলেও মাস্টার রুলে অন্তর্ভুক্ত দেখিয়ে তালিকার ৮২, ১৩৮, ১৮০, ১৮৫ ক্রমিকে ভুয়া গ্রাম ও নাম, ঠিকানা ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান। বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে জমা দেয়া মাস্টার রুল তালিকায় একই ব্যক্তির নাম- ঠিকানা একাধিকবার ব্যবহার করে নিজেই ওই টাকা আত্মসাৎ করে নেয়।

ভূক্তভোগীরা জানায়, অনেক দুস্থ লোকদের কাছ থেকে ঘর প্রতি ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দুর্নীতি বন্ধে প্রকল্পের আত্মসাত করা অর্থ আদায় করতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মিলনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। নোয়াখালী দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানায়, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়ের অভিযোগ মামলা হিসেবে অনুমোদনের জন্য সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap