ন্যায় বিচারের স্বার্থে হত্যার বিচার ও ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন-দুটোই প্রয়োজন’

3 minutes

আমাদের সংবাদ / কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ

  • Save

ন্যায় বিচারের স্বার্থে হত্যার বিচার ও ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন, দুটোই প্রয়োজন বলে মনে করেন নিহত হাসিনুর রহমানের ছোট্ট ভাই ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমার ভাই হাসিনুর রহমান অকৃতদার মানুষ ছিলেন। তাঁর উনষাট বছরের জীবনে বিগত চলি¬শ বছর ব্যয় করেছেন হতদরিদ্র ও বিপদগ্রস্থ মানুষের মৌলিক সমস্যাবলির পাশে দাঁড়িয়ে, এলাকায় শিক্ষা-বিস্তারে স্কুল-মাদ্রাসা-মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে। দৌলতপুরের ফিলিপনগর দারোগার মোড়ে আয়োজিত শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মুক্তিযোদ্ধা হায়দালীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এ্যাড. সরওয়াহার জাহান বাদশা এমপি। বক্তব্য রাখেন, নিহত হাসিনুর রহমানের বড় ভাই ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. হাবিবুর রহমান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

অধ্যাপক হাসিবুর রহমান বলেন, হাসিনুর ভাই অসম্ভব রকমের জনপ্রিয় সমাজকর্মী। আমার ভাই সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশা একজন অসম্ভব রকম জনপ্রিয় নেতা। এই জনপ্রিয় মানুষগুলো যখন স্বার্থনেস্বী-কুচক্রী মহলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত হয়, তাঁদের শারীরিকভাবে হত্যার পূর্বে বার বার নৈতিকভাবে হত্যা করা হয়। চরিত্র হননের মাধ্যমে নৈতিকভাবে হত্যার প্রক্রিয়া মাসের পর মাস ধরে মাননীয় সাংসদ ও আমার প্রয়াত ভাইয়ের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছিল। এই জনপ্রিয় মানুষগুলোকে রক্ষা করতে পারে সদাজাগ্রত ও সংগবদ্ধ সাংগঠনিক শক্তি।

তিনি বলেন, আমরা যদি সচেতন থাকতাম তাহলে এই মৃত্যু হয়তো এড়ানো যেতো। আমাদের অসচেতনতা এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তির কারন হতে পারে। আমাদের নির্লিপ্ততার কারনেই স্বার্থনেস্বী মহল একটি সন্তান হারা বাবাকে বিভ্রান্ত করে তাকে সীমাহীন নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে একটি বর্বোরোচিত হত্যাকান্ডে প্ররোচিত করে। কথিত খুনী মজিবর রহমান এক বছরের অধিক সময় আগে তার সন্তান হারায়। সম্প্রতি তার সন্তান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত অপরাধীরা জামিনে মুক্তিলাভ করে।

হাসিবুর রহমান তার বক্তব্যে আরও বলেন, অনগ্রসর, প্রান্তিক ভুক্তভোগী মানুষদের বোঝাতে হয় জামিন বিচার প্রক্রিয়ার-ই অংশ, কিশোর অপরাধীরা প্রায়শই এ সুযোগ পেয়ে থাকে। বিষয়টি প্রচলিত আইন ও আদালতের এখতিয়ার, এমপি সাহেবের নয়।

হত্যা ঘটনা তুলে ধরে অধ্যাপক হাসিবুর বলেন, চরিত্র হননের প্রক্রিয়াটি কত শক্তিশালী এটা বোঝা যায় যখন পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতেও হাসিনুর রহমান হত্যাকান্ডের একমাস আগে থেকে প্রচারিত হতে থাকে যে মজিবরের সন্তান হত্যার কোন মামলা হয়নি এমপি মহোদয়ের কারনে। অথচ হত্যা মামলা চলমান।

এরকম ডাঁহা মিথ্যা অপপ্রচারের মাধ্যমে ভালবাসার মানুষদের নির্মুল করার প্রক্রিয়া কে রুখে দিতে পারে উচ্চ-মূল্যবোধ ও  নৈতিক শক্তিতে (যদি অবশিষ্ট থেকে থাকে) বলীয়ান সংগঠনের প্রতি নিবেদিত প্রান কর্মী-সমর্থক বাহিনী।

আপন বড় ভাই হারানো শোক সন্তপ্ত হাসিবুর রহমান বলেন- কোন স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যদিয়ে খুনীর মনে জিঘাংসার জন্ম দিয়েছে, আর্থিক ও নৈতিক সমর্থন দিয়েছে, দিনের পর দিন এমপি পরিবারের চরিত্রহননের পর এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে, সেই সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করেই কেবল ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আমি আমার ভাইয়ের খুনী ও অন্তরালের ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।

প্রতিবাদ সভায় এমপি এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা তার বক্তব্যে বলেন- এটা একটি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। এ হত্যাকান্ডের পেছনের রয়েছে ষড়যন্ত্রকারী ও পরিকল্পনাকারী। আমাকে ও আমার পরিবারকে বিতর্কিত করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। পেছন থেকে শক্তি যুগিয়ে পরিকল্পনা করে সুপরিকল্পিতভাবে নৃশংস এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে যা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, মাছওয়ালা মজিবর প্রকাশ্য দিবালোকে জনসন্মুখে হত্যাকান্ড ঘটালো আর সেখানকার লোকজন তা দেখলো, কেউ হত্যাকারীকে বাঁধা দিতে এগিয়ে আসলো এটাও ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার অংশ। হত্যাকান্ড ঘটানোর মুহুর্তের মধ্যে অপপ্রচার ছড়ানো হলে মজিবর তার ছেলের বিচার না পেয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। অথচ মজিবরের ছেলে আনোয়ার হত্যা মামলা চলমান রয়েছে। হত্যাকারীরা জামিনে রয়েছে। আর মজিবরের ছেলে হত্যার সাথে হাসিনুর কোনভাবেই সম্পৃক্ত নয়। তারপরও ষড়যন্ত্রকারী ও মদদদাতারা মজিবরকে মিথ্যভাবে প্ররোচিত করে নির্মমভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটালো। তিনি বলেন, হাসিনুর হত্যার পেছনের ইন্ধনদাতা, পরিকল্পনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের আইনর কাঠগড়াই দাড় করানো হবে।

উলেখ্য, ২৯ আগষ্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিজ বাড়ির পার্শ্ববতী ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর ঘোষপাড়া মোড়ে পদ্মা নদীর ধারে মজিবর রহমান পেছন দিক থেকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাসিনুর রহমানকে ধারাল হাসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপায়। এসময় হাসিনুর রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে নিলে সেখানে তিনি মারা যায়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ইসলাম ঘোষপাড়ায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে ঘাতক মজিবর রহমানকে আটক করেছে। সে ইসলামপুর ঘোষপাড়া এলাকার মৃত মতালি মিস্ত্রির ছেলে।

হত্যার এ ঘটনায় নিহত হাসিনুর রহমানের মামাতো ভাই আব্দুল জব্বার ওরফে জব্বার পুলিশ বাদী হয়ে আটক মজিবর রহমান ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরসহ সহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামী করে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার এ ঘটনায় প্রধান আসামী মজিবর রহমান আটক হলেও অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাদ জু’মা ফিলিপনগর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি বাদশার ফুপাতো ভাই শহীদ হাসিনুর রহমানের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এমপি সরওয়ার জাহান বাদশাও যোগ দেন দোয়া মাহফিলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap