বরিশালে জনসমাগম ও মূল্য বৃদ্ধি অপরাধে ৮৯ হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা

মিজানুর রহমান বাপ্পী / কোতোয়ালি প্রতিনিধিঃ

  • Save

বরিশাল জেলা প্রশাসনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজও বরিশাল নগরীতে মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত আছে। আজ ২৬ এপ্রিল রবিবার সকাল থেকে বরিশাল মহানগরীতে ৩ টি মোবাইল কোর্ট টিম মাঠে অভিযান পরিচালনা করেন এসময় চৌমাথা মোড়, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর বাজার, বাংলা বাজার, আমতলার মোড়, সাগরদী, রুপাতলী, পুলিশ লাইন, বাজার রোড, গীর্জা মহল্লা, চকবাজার, জেলা খানার মোড়, কাঠপট্টি, নতুন বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসন বরিশাল এর পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ বাজার মনিটরিং, জনসমাগম করে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বরিশাল জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ১৩ টি প্রতিষ্ঠান, একজন ব্যক্তি এবং একজন টিসিবির ডিলার কে মোট ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা অাদায় করা হয়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, অজিয়র রহমানের নির্দেশনায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল মোঃ জিয়াউর রহমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদার এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোঃ হেলাল উদ্দীন।

  • Save

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে গণসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এ সময় বিভিন্ন টি-স্টল, মুদি দোকান ও এলাকার মোড়ে মোড়ে যেখানেই জনসমাগম দেখা গেছে তা ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং নিরাপদ দূরত্বে চলার নির্দেশনা, মাক্স পরার নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে মাক্স বিতরণ করা হয়। এসময় সবাইকে যৌক্তিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসতে নিষেধ করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে জরুরি ঔষধ ব্যতীত সকল প্রকার দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এসময় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনায় করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান। অভিযান পরিচালনাকালে নগরীর বাজার রোড এলাকায় প্রতিটি দোকানে পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ২৩০-২৪০ টাকা কেনা মূল্যের আদা ৩২০-৩৫০ টাকা দামে বিক্রির অভিযোগে ৩টি দোকানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায় ১৫ হাজাট টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

  • Save

মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করে বিভিন্ন জনের কাছে একেক মূল্যে পণ্য বিক্রি করার অপরাধে একই আইনের ৩৮ ধারায় হাসান পোলট্রি নামক একটি দোকানকে ৪ হাজাট টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া এসময় বন্ধ রাখার নির্দেশনা স্বত্তেও খোলা রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে করোনা ভাইরাস বিস্তারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় নগরীর চকবাজার ও কাঠপট্টি এলাকায় ২টি দোকানকে ১৩ হাজার টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে প্রসিকিউশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বরিশাল সদর উপজেলার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ জাকির হোসেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সহযোগিতা করেন র‍্যাব-৮ এর একটি টিম। অপর একটি মোবাইল কোর্ট টিম এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোঃ হেলাল উদ্দীন এর নেতৃত্বে অভিযানকালে রূপাতলী বাজার ও আউটার স্টেডিয়াম ভিআইপি গেট এলাকায় দ্রব্যমূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৩৮ ধারা মোতাবেক ২ দোকানকে ৬ হাজার টাকা, নথুল্লাবাদ বাজার এলাকায় সরকারি আদেশ না মেনে নিত্য প্রয়োজনীয় নয় এমন পণ্যের দোকান খোলা রেখে জনসমাগমের মাধ্যমে সংক্রামক রোগের বিস্তারের আশঙ্কা তৈরীর অপরাধে দন্ডবিধির ২৬৯ ধারা মোতাবেক ১ দোকানকে ২ হাজার টাকা এবং পশ্চিম কাউনিয়া এলাকায় বাড়ির নির্মাণ কাজে শ্রমিক সমাগমের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরীর অপরাধে দন্ডবিধির ২৬৯ ধারা মোতাবেক বাড়ির কেয়ারটেকার মোঃ মনির হোসেন কে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট অভিযানে আইনানুগ সহযোগিতা করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এর একটি টিম। অপরদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদার এর নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় নগরীর বিভিন্ন স্থানে যেমন পোর্ট রোড এলাকায় মুদি দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩৮ মোতাবেক মজিবর ও সেলিম হাওলাদার নামক দুই দোকানদারকে যথাক্রমে ৫ হাজার টাকা এবং ৩ হাজাট টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। একই এলাকায় অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার দায়ে একই আইনের ৪০ ধারা মোতাবেক মুদি দোকানদার রুবেল কে ৭ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। কাঁচা বাজার মনিটরিং এ একই এলাকায় খুচরা বিক্রেতা নজরুল, ফিরোজ ও ইলিয়াস কে একই আইনের ৪০ ধারা মোতাবেক যথাক্রমে ২ হাজার টাকা, ১ হাজার টাকা এবং ১,৫০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। অমৃত লাল দে কলেজ প্রাঙ্গণে টিসিবির পণ্য বিক্রির ডিলার হারুন-অর-রশিদ কে ১০০ কেজি ছোলা এবং ৫০ কেজি ডাল বিক্রয়ে অনিয়ম করায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ এর ধারা ৩৯ মোতাবেক ৩০ হাজাট টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এসময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম। অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয় বলেন, জনগণকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা এবং করোনা ভাইরাসের বিস্তার এবং এটিকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রোধকল্পে নিয়মিত এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap