বিপাকে পড়লেন ট্রাম্প

< 1 min read

  • Save

আমাদের সংবাদ / আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী ৫২ স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়ে বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনায় সামরিক হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল।

কাসেম সোলেইমানি হত্যার ঘটনায় ইরান চরম প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ইরান হামলা চালালে দেশটির ৫২টি স্থাপনায় খুব দ্রুত ও শক্তিশালী হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সেনারা প্রস্তুত।’

ট্রাম্পের এ মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে বিষয়টি অস্বীকার করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও নমনীয় মনোভাব দেখান।

তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে অটল থেকে বলেন, ‘তারা আমাদের মানুষ মারতে পারে, তারা আমাদের লোকজনকে নির্যাতন ও বিদ্রূপ করতে পারে, তারা সড়কে বোমা পুঁতে আমাদের লোকজনকে মারতে পারে, আর আমরা তাদের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা স্পর্শ করতে পারব না? এটা তো হতে পারে না।’

সমালোচনার মুখে গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা কেলিয়ানে কনওয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনায় হামলার কথা বলেননি। তিনি শুধু প্রশ্ন করেছিলেন। ’উপদেষ্টা বলেন, ‘ইরানের অনেক কৌশলগত সামরিক স্থাপনা আছে যেগুলোকে আপনারা সাংস্কৃতিক স্থাপনাও বলতে পারেন।’

এসব স্থাপনায় হামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার বলেন, ‘সশস্ত্র সংঘাতের আইন-কানুন অনুসরণ করব আমরা।’ এর মানে কি যুক্তরাষ্ট্র ওই সব স্থাপনায় হামলা চালাবে না, কারণ এ ধরনের স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধ।

জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সশস্ত্র সংঘাতের আইনে সেটাই বলা আছে।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এবং ক্রিস মারফি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্প যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে আজৌলে বলেন, বিশ্বের প্রকৃতি, ঐতিহ্যবাহী স্থান ও স্থাপনা রক্ষায় ১৯৭২ সালের কনভেনশনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই সই করে। সশস্ত্র সংঘাতের সময়ে ঐতিহ্যবাহী সম্পদ রক্ষায় ১৯৫৪ সালের কনভেনশনেও এ দুটি দেশ সই করেছে। ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ২০১৮ সালে ইউনেসকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করে নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap