Logo Design Logo Design Logo Design

মাত্র ১৯ বছরে সলংগার সিহাব এখন ফ্রিল্যান্সিং এ সফল

2 minutes

কে,এম শাওন (সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ):

  • Save
সময়টা ২০১৮ সাল । সদ্য এসএসসি পাশ করা সিহাব বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে শুরু করে ফ্রিল্যান্সিং। আজ সে সাড়াদেশের সফল ফ্রিল্যান্সার এর তালিকায় । প্রতি মাসে আয় করছেন অর্ধ লক্ষাধিক টাকা । হ্যা আমি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার এর কথা বলছি । বয়স মাত্র ১৯ বছর নাম সিহাব বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার জগজীবন পুর গ্রামে তার বাবার নাম বাবলু সরকার জন্ম ২০০১ সালে । ফ্রিল্যান্সের মাধ্যমে সাড়া দেশে নাম কুড়িয়েছে । এত অল্প বয়সে নিজেকে তুলে ধরেছেন সফল ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে । প্রথমে গ্রাফিক্স ডিজাইন দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তিনি ওয়ার্ডপ্রেস এবং ওয়েব ডিজাইন এর কাজ ও করছেন । করেছেন বিশ্ব বাজারে ৪০০ এর ও অধিক ক্লায়েন্টের কাজ । আমরা সিহাবের নিজের কাছ থেকে তার জীবনের গল্প শুনে তা হুবুহু তুলে ধরলাম ।
এসএসসি পরীক্ষা পর গ্রামের এক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় ব্যাসিক কম্পিউটার শেখার উদ্দেশ্যে । সেখানে কম্পিউটারের কাছে বসে থেকে কম্পিউটারের প্রতি কেমন যেনো একটা আগ্রহ চলে আসে । মোবাইল ইন্টারনেট এর মাধ্যমে জানতে পারি ফ্রিল্যান্সিং এর কথা । এর পর বাসায় বাবা-মাকে বলি একটা কম্পিউটার কিনে দেওয়ার কথা । সাংসারিক অবস্থ্যা ভালো না থাকার পরও ধারদেনা করে একটা কম্পিউটার কেনার ব্যবস্থা করে দেয় বাবা মা । তখন থেকে আমার জীবনে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায় ।
বন্ধু-বান্ধব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবকিছুকে ছুটি দিয়ে শুরু করি আমার নিজের স্বপ্নের পথের রথ যাত্রা । প্রথম দিকের সময়গুলো মোটেও আমার জন্য অনুকুলে ছিল না । কারন আমার পরিচিত অনেকেই তখন ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে সেভাবে জানত না । এজন্য তারা আমাকে অনেক কথা শোনাত, সারাক্ষণ কম্পিউটারের কাছে বসে থাকা দেখে অনেকেই হাসাহাসি করত । এমনকি বাবা-মাও অনেক সময় বলতেন এগুলো দিয়ে কিছু হবে না অযথা সময় নষ্ট করো না । লেখা পড়ায় ননোযোগ দাও ।
ওই সময়গুলোতে চারিদিক থেকে এতপরিমাণ উপহাসের পাত্র হয়েছিলাম বলা বাহুল্য । অনেক সময় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়তাম কিন্তু কোনো সময় হাল ছাড়ি নি। নিজের প্রতি আত্ন বিষাস ছিল প্রখর।
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আমি । অনেক আগে থেকেই আত্ননির্ভরশীল হওয়ার চিন্তাটা আমাকে তাড়া করে বেড়াতো।
তাই হয়ত তখনকার frustration, Depression, strees এগুলো আমার আত্ন নির্ভর এর কাছে হেরে গিয়েছিলো।
দীর্ঘ ৮ মাস পরে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ । ফ্রিল্যান্সিং থেকে প্রথম উপার্জন । অনুভূতিগুলো অকল্পনীয় ছিলো । তারপর কিছুদিনের মধ্যে আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় Fiverr.
এখানে আমি সার্ভিস চালু করার ৩ দিনের মধ্যে প্রথম কাজ পাই । তারপর ahmed নামক এক জার্মানি ক্লাইন্টের ৬৫ ডলারের একটা প্রজেক্টে কাজ করি এবং সে অনেক ভালো একটা রিভিউ দেয় । তারপর থেকে আজ পর্যন্ত পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি।
মার্কেটপ্লেসে কাজ করছি গ্রাফিক্স ডিজাইনার এবং ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইনার হিসেবে ।
আজ পর্যন্ত পুরো পৃথিবীর ২২ টিরও দেশের প্রায় ৪০০+ ক্লাইন্টের সাথে কাজ করেছি । কাজ করেছি লোকাল মার্কেটে প্লেস গুলোতেও । Fiverr এ কাজ করছি Level Two সেলার হিসেবে ।
আমি নিজেকে সফল ফ্রিল্যান্সারদের তালিকায় রাখতে চাইনা কিন্তু আমার জায়গা থেকে আমি যেটা চেয়েছিলাম যে তারাতারি আত্ননির্ভরশীল হওয়া সেটা আল্লাহর রহমতে আমি পেরেছি। এবং যারা শুরুর দিকে আমাকে নিয়ে উপহাস করত তারাই এখন আমাকে বাহবা দেয় । আমার বাবা-মা আমাকে নিয়ে একটু হলেও প্রাউড ফিল করে । এটাই আমার কাছে সফলতা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap