মান্দা উপজেলার ইউডিসি উদ্যোক্তা আতিক রহমানকে পথরোধ করে প্রাননাশের চেষ্টা

2 minutes

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

  • Save

নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেলিম নামের একজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মারপিট, খুন, জখম সহ মিথ্যা মামলা হামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে বেআইনীভাবে আদালতের আদেশ অমান্য করে অসহায় বিধবা মহিলার জমি জোরপূর্বক ভোগ দখল, নিজের মামাতো ও চাচতো এতিম, প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের জমি জোরপূর্বক ভোগদখল এবং স্কুলের উপস্থিতির খাতায় সাক্ষর করে, কাস ফাঁকি দিয়ে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের এবং পূর্বপূরুষের চলমান রাস্তা বন্ধ সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এই শিকের কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই শিক্ষক গ্রামে নিজস্ব ভূমি দস্যু বাহিনী গঠন করেছে। এলাকায় মারামারি, খুন সহ সকল কোন্দলের মূলহোতা এই শিক্ষক। ভুক্তভূগীরা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে একাধীকবার অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। উক্ত শিক্ষকের অদৃশ্য শক্তির দাপটে অভিযোগকারীরা বিভিন্নভাবে হয়রানী ও নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন।
গতকাল সোমবার উক্ত শিক্ষকের দ্বারা নির্যাতিত মান্দার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা এস,এম আতিকুর রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষকের পুরো নাম আবু সাইদ ওরফে সেলিম (৫০)। তিনি নিজ গ্রামের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সুযোগে স্কুল সময়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে সরাসরি জড়িত থাকে। স্কুল চালাকালীন সময়ে এই শিক্ষক আম গাছের ডাল চুরির অপরাধে জরিমানা দিয়েছেন এবং প্রায় ১০বছর একটি জলাশয়ে জোরপূর্বক মাছ চাষ করার অপরাধে স্থানীয় ৯নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের রায়ে ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। কিন্তু এ নিয়ে এলাকাবাসী বা কোনো শিক্ষক প্রতিবাদ করলেই তিনি নানাভাবে হয়রানি করেন। উক্ত সহকারী শিক্ষকের শত অন্যায়েও কেউ মুখ খোলার সাহস পান না।
এই শিক্ষকের বেআইনীভাবে জমি দখলের উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি সকাল ৯টায় স্কুলের উপস্থিতির খাতায় স্বার করে সকাল ৯:৩৫ মিনিটে সময়ে পার্শ্ববর্তি রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে হাটরা গ্রামের মৃত বদেরের ছেলে গফুর নামের এক অসহায় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে (মামলা নং ০৯/২০১৭)। পরবর্তিতে গফুর ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন।
২০১৮ সালের ২৭ জানুয়ারি দুপুরে স্কুল চলাকালীন সময়ে উক্ত শিক্ষক তার নিজের মামাতো ভাই শ্যামপুর গ্রামের মকলেছুরকে প্রাননাশের চেষ্টা করেন। উক্ত শিক্ষক ২০/৩০ বছর থেকে তার মামাতো এতিম অসহায় ভাই-বোনদের প্রায় তিন বিঘা জমি মারপিট ও খুন জখমের হুমকি সহ মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। গত ৩০ জানুয়ারী ২০১৮ এতিম অসহায় মকলেছুর স্কুলের সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও, ডিসি, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসার এবং থানা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতকারনে কোন ব্যবস্থা গ্রহন নি। তাছাড়াও উক্ত শিক্ষকের প্রতিবন্ধী চাচাতো ভাই ফরিদপুর গ্রামের ছেলে সাইফুল ইসলামের পৈতৃক সম্পত্তি এবং বাংড়া গ্রামের অসহায় বিধাবা তহুরা বেওয়ার পৈতৃক জমি আদালতের আদেশ অমান্য করে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রায় ২০বছর থেকে জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন।
গত ১২ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার সকালে হর্ণ বাজানোকে কেন্দ্র করে উক্ত শিক্ষক আবু সাইদ সেলিম মান্দার তেঁতুলিয়া ইউডিসি উদ্যোক্তা আতিক রহমানকে মারপিটের চেষ্টা করেন এবং সর্বশেষ গত ২০ আগষ্ট ২০২০ বিকালে শিক্ষক সেলিম সহ অনুগত কয়েকজন আবারও অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময়ে শ্যামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের উত্তর পার্শ্বে উদ্যোক্তা আতিককে পথরোধ করে মারপিট করে এবং প্রাননাশের চেষ্টা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap