মায়ের চিকিৎসার টাকা ভুল নাম্বারে বিকাশ করায়, অসহায় ব্যাক্তির টাকা উদ্ধার করে দিলেন :ডিবি পুলিশের এএসআই রজিবুল হক

2 minutes

হাফিজুর রহমান:

  • Save
দরিদ্র মায়ের চিকিৎসার টাকা ভুলে চলে যায় বিকাশের ভুল নাম্বারে, অসহায় ছেলে আশ্রয় নেয় ডিবি পুলিশের কাছে। এরপর প্রায় তিন ঘন্টার চেষ্টায় উদ্ধার করা হয় অসহায় সেই ছেলের টাকা, তুলে দেওয়া তার মায়ের চিকিৎসার জন্য। চুয়াডাঙ্গায় জেলার ডিবি পুলিশের এএসআই রজিবুল হক তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে এ বিষয়টি শেয়ার করেন।

চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশের এএসআই রজিবুল হক জানান, অফিসে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে এক ব্যক্তি এসে জানায় তার মায়ের চিকিৎসার টাকা ভুলে অন্য একটি মোবাইল নাম্বারে বিকাশ হয়ে গিয়েছে। তার মায়ের ওষুধ ও নানাবিধ কাজের জন্য এই টাকা প্রয়োজন বলেও আকুতি-মিনতি করতে থাকে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম কে জানায়। পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমি তাকে আশ্বস্ত করি এবং তার টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালাতে থাকি।

রজিবুল হক আরও জানান, লোকটি এসময় পুলিশকে গাড়িভাড়া খরচ দিবে বলেও তিনি আমাকে জানান। সেসময় আমি তাকে জানাই সরকার আপনার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়ে থাকে। যেকোন ধরনের সাহায্যে জনগনের পাশে থাকবে পুলিশ সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করে ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে তার টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয় এক সাংবাদিকের সহায়তায় উদ্ধার পূর্বক সেই অসহায় লোকটির টাকা তার হাতে ফিরিয়ে দেই।
আমাদের পত্রিকার পাঠকদের সুবিধার্থে তার পোষ্টটি হুবহু শেয়ার করা হলো:
‘এক হতদরিদ্র রহিম ভাই (ছদ্মনাম) তার মায়ের চিকিৎসার জন্য পাঠানো ৫০০০/- টাকা ভুল করে অন্য বিকাশ নাম্বারে চলে যায়। তিনি উক্ত নম্বরে যোগাযোগ করলে মন্টু মিয়া (ছদ্মনাম) টাকা পায়নি বলে গালিগালাজ সহ নানা তালবাহানা শুরু করে নম্বরটি বন্ধ রাখে। রহিম ভাই ডিবি অফিসে এসে আমার কাছে সব কথা খুলে বলেন, আমি তাকে টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করি। রহিম ভাই আমাকে তেল খরচ দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে, সবার মত রহিম ভাই ও মনে করে টাকা ছাড়া পুলিশ কাজ করে না। আমি রহিম ভাইকে আশ্বাস্ত করি পুলিশী সেবা নিতে কোন টাকা লাগে না। সরকার যাবতীয় খরচ আমাদের প্রদান করে থাকে। যাহোক আমি মোবাইল ট্রাকিং করে তার ব্যবহৃত অন্য নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করি।

আমি আমার পরিচয় দিয়ে লোকটির কাছে তার পরিচয় জানতে চাইলে ভুল নাম ও ঠিকানা দেন। মন্টু মিয়া বিশ্বাস করতে নারাজ যে আমি ডিবি পুলিশ অফিসার। অনেক কথা/রেফারেন্স দেওয়ার পর কিছুটা বিশ্বস্ত হল। আমি তাকে তার ব্যবহৃত নাম্বারটি সর্বদা অন রাখতে অনুরোধ করলাম। তাকে বললাম করিম ভাই নম্বর ভুল করে আপনার বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠিয়েছে। বিকাশের ব্যালেন্স চেক করতে বললে মন্টু মিয়া বলেন মেসেজ আসছে তবে আমার পিন লক হয়ে গেছে। আমি তাকে অনুরোধ করি চুয়াডাঙ্গা বিকাশ অফিসে এসে বিকাশ পিন আনলক করার জন্য। তখন সে নানা তালবাহানা শুরু করে বলে আমি স্টুডেন্ট মানুষ কাছে টাকা নাই, যাতায়াত খরচের টাকা দিতে চাইলে বলে, মহামারী করোনাতে চুয়াডাঙ্গায় কিভাবে যাব? বলে রাখা ভালো চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে তার বাড়ি সর্বোচ্চ ৬/৭ কি.মি দূরে। সে তার ফেসবুকের প্রোফাইল ছবি পর্যন্ত চেঞ্জ করে ফেলে। একপর্যায়ে তাকে হাজার বুঝিয়েও আমি তাকে চুয়াডাঙ্গাতে আনতে ব্যর্থ হলাম।

কারণ টাকা না দেওয়ার তালবাহানা। আমি তার কল লিস্ট সহ নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে তার গ্রামের এক সাংবাদিক ভাই ফোন করে জানালাম। সাংবাদিক ভাই আমাকে রিকুয়েস্ট করে বললেন ছেলেটি খুবই গরিব ঘরের একটি দোকানের কর্মচারী ও হয়তো বুঝতে পারিনি। সাংবাদিক ভাই তার সাথে কথা বলে জানতে পারে টাকা উঠিয়ে ইতোমধ্যে কিছু টাকা খরচ করে ফেলছে। সাংবাদিক ভাইয়ের অনুরোধে, সে তার অপরাধ সম্পর্কে বুঝতে পারায় এবং করিম ভাইকে টাকা ফেরত দেওয়ায় তাকে আত্নসুদ্ধির সুযোগ করে দিলাম। পরবর্তীতে সে তার ভুল বুঝতে পেরে আমাকে মেসেজ দেয়। আল্লাহ সবাইকে সৎপথে চলার তৌফিক দান করুন- আমিন।’

উল্লেখ্য, ডিবি পুলিশের এ সদস্য যোগদানের পর থেকে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্ধশত মোবাইল ফোন উদ্ধার, খুন ডাকাতি দস্যুতা, চুরি সহ চাঞ্চল্যকর মামলার তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap