রাজশাহী মহানগর আ.লীগে নানামুখী অপপ্রচার: তৃণমূলের ভরসা লিটন-ডাবলু

3 minutes

স্টাফ রিপোর্টার কাইফ:

  • Save

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে সাংগঠনিক নেতৃত্ব গুণে আস্থার ঠিকানায় পরিণত হওয়া বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারকে নিয়ে নানামুখী অপপ্রচার শুরু হয়েছে। সভাপতি পদে রাজশাহী মহানগর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বর্তমান সভাপতি এ.এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং তৃণমূল থেকে তিলে তিলে নেতৃত্ব দিয়ে আসা ডাবলু সরকার দ্বিতীয় মেয়াদেও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার কারণে নানামুখী অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এমনটাই মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
সম্মেলনকে ঘিরে মোড়ে মোড়ে ঝুলছে রঙিন পোস্টার-ব্যানার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন পদপ্রত্যাশী নেতা ও তাদের সমর্থকরা। আগামী ১ মার্চ ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন। এতে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাছিম, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এ উপলক্ষে ৯টি উপকমিটি কাজ শুরু করেছে। সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতাকর্মীরা।
এদিকে মহানগর সম্মেলন ঘিরে শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে সামনে রেখে সাধারণ সম্পাদক পদে অন্যান্য পদপ্রত্যাশী নেতারা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে ডজনখানেক নেতা মাঠে রয়েছেন। নেতাকর্মীরা বলছেন, গত পাঁচ বছরে বিএনপি জামায়াত অধ্যুষিত রাজশাহীতে লিটন ও ডাবলু সরকারের নেতৃত্বে রাজশাহী মহানগরে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে সুসংহত অনেক শক্তিশালী হয়েছে। অতীতে রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াতের সহিংস কর্মসূচি মোকাবেলায় লিটন-ডাবলু কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন।আর এ কারণেই এক সময়ের জামায়াত-বিএনপির শক্ত ঘাঁটি রাজশাহীতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ। সমর্থকরা চাইছেন লিটন-ডাবলু কমিটি আগামী সম্মেলনেও নেতৃত্বে আসুক। এতে রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি সাংগঠনিক শক্তি আরও সংহত হবে। আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতাদের ভাষ্যও তাই।

  • Save
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন,রাজশাহীর নেতৃত্ব যদি নিজেদের মধ্যে সমঝোতা আর বোঝাপড়ার মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারেন তাতে কেন্দ্রের আপত্তি নেই। তবে সমঝোতা না হলে কাউন্সিলরদের ভোট দিতে হবে। রাজশাহী মহানগরের নেতাকর্মীরা যাদের নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে তাদের পক্ষেই আমাদের সমর্থন থাকবে।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবরের সম্মেলনে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ডাবলু।তিনি আবারও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন বলে নেতাকর্মীরা আশাবাদী। বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, দীর্ঘ তিন যুগ থেকে ডাবলু সরকার রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। খায়রুজ্জামান লিটনের মতো যোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরেই ডাবলু রাজনীতিতে পরিণত হয়েছেন। সম্মেলনকে সামনে রেখে একটি তৃতীয় পক্ষ ডাবলু সরকারের দখলবাজিসহ নানামুখী তৎপরতায় কালিমালেপনের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এছাড়াও বিএনপি-জামায়াতপন্থী এক নেতার তৎপরতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে এসব তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি।
এ ব্যাপারে ডাবলু সরকার বলেন, আমি যদিরাজশাহীতে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকেশক্তিশালী করার জন্য কাজ করে থাকি- তবে নেতাকর্মীরা আমাকে মূল্যায়ন করবেন। নেতাকর্মীদের প্রতি আমার আস্থা আছে, বিশাস আছে, ভরসা আছে। আমি আশা করি, আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে তারা যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেবেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, একজন ডাবলু সরকারএকদিনে তৈরি হয়নি। তৃণমূলে একজন কর্মী হিসাবে রাজনীতি শুরু করে তিনি বিভাগীয় শহর রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তিনি একজন সফল সংগঠক। বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত রাজশাহীতে ডাবলু সরকারের মতো তরুণ সাহসী নেতৃত্ব দরকার। তৃণমূল নেতারা তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। তিনি স্বৈরাচার বিরোধী থেকে শুরু করে বিএনপি-জামায়াত জোট দুঃশাসনের সময় শক্ত হাতে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেণ। তিনি লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজের নেতৃত্ব গড়ে তুলেছেন।
ডাবলু সরকার আশির দশকে রাজশাহী নগরীর সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বি.বি. হিন্দু একাডেমি থেকে ছাত্র রাজনীতির হাতেখড়ি। তার পরিবারের সকল সদস্যই এই প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করেন এবং অন্যান্য সদস্যরাও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নেতারা আরও জানান, গত ছয় বছরে মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোতে ডাবলু সরকার নিজস্ব একটি বলয় তৈরি করে ফেলেছেন। দিন কিংবা রাত; একেবারে সাধারণ কর্মীরা ডাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে ছুটে যান, বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ান। তাই তাকে ছাড়া কাউকে আসন্ন সম্মেলনেও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে চিন্তাভাবনা করছেন কাউন্সিলররা। তিনি জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান হেনার সুযোগ্য পুত্র এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটনের নজরে আসেন ডাবলু সরকার। এরপর থেকে তার রাজনিতক জীবনে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা। খায়রুজ্জামান লিটনের অকৃত্রিম স্নেহ-ভালবাসায় ডাবলু সরকার রাজনীতিতে দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে অল্প সময়ে নিজেকে একজন সফল ছাত্রনেতা হিসেবে তুলে ধরেন। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির পথচলায় শুরুতে ডাবলু সরকার পরবর্তীতে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য, রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য, প্রচার সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তার সাংগঠনিক দায়িত্বের নজির স্থাপন করেন। ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষ করে ডাবলু সরকার প্রথমে মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন। ওই সময়ে তিনি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক ভীত মজবুত করার লক্ষ্যে তাকে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিলে স্বেচ্ছাসেবক লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করান। এরপর ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নেতা-কর্মী ও কাউন্সিলরদের অকুন্ঠ সমর্থনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তার রাজনৈতিক অভিভাবক এ. এইচ. এম খায়রুজ্জামান লিটনের নির্দেশনায় মহানগর আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। একারণে তৃণমূলের কর্মী থেকে শুরু করে রাজশাহীর জনসাধারণের কাছে তরুণ নেতা হিসাবে ইতোমধ্যে আস্থা অর্জন করেছেন তিনি।
এদিকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেন রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সভায় হাছান মাহমুদ বলেন, আগামী ১ মার্চ রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ভাই রাজশাহীকে বিএনপি-জামায়াত মুক্ত করে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে সুংগঠিত ও শক্তিশালী করেছেন। এক সময় বিএনপি-জামায়াতের আস্তানা রাজশাহীর এ জনপদ খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে এখন আওয়ামী লীগের দখলে। রাজশাহীতে লিটন ভাইয়ের নেতৃত্ব মেনেই আমরা রাজনীতি করে যেতে চাই।

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap