রাত পোহালেই ভোট

3 minutes

রংপুর থেকে নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

রাত পোহালেই ভোট রংপুরে। সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ১৪ জুলাই রংপুর সদর ৩ আসনের এমপি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর শূণ্য হওয়া আসনে ভোট হবে কাল সকাল থেকেই।মাঠ জরিপের তথ্যানুসারে ৬ প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকলেও মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন লাঙ্গল ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। তবে আলোচনায় আছেন মোটরগাড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীও। সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে বিকেলে ৫ টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ইলেক্ট্রনিক্স ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এ ভোট গ্রহণ। সেজন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

রংপুর-৩ শুন্য আসনে উপ-নির্বাচন নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন শুক্রবার বিকেলে নির্বাচন অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শুক্রবার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইভিএম মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জামাদি পাঠানো হয়েছে। ১৭৫টি কেন্দ্রের ৯৪০ টি স্থায়ী এবং ৮৩ টি অস্থায়ী মোট ১ হাজার ২৩ টি কক্ষে বিরতিহীনভাবে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট গ্রহণের জন্য ১৭৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ২৩ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার এবং ২ হাজার ৪৬ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত করা হয়েছে।

রংপুর সদর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের ৯ থেকে ৩৩ নং ওয়ার্ডের এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটার আছেন ৪ লাখ ৪১ হাজার ২২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২০ হাজার ৮২৩ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৪০১ জন।

রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্রাচার্য নয়া দিগন্তকে বলেছেন, ৪৯টি ঝুকিপুর্ণসহ মোট ১৭৫টি ভোটকেন্দ্রের সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙখলাবাহিনী। ভোটের আগের দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দিন নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেস্টনি তৈরি করা হয়েছে। সাড়ে তিন হাজার আনসার পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়ও ১৮ প্লাটুন বিজিবি ২০টি র‌্যাবের মোবাইল টিম, ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত এবং ৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সংক্ষিপ্ত আদালত পরিচালনার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন।

এদিকে বিকেলে র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌস প্রেসক্লাবের সামনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, সুষ্ঠু ও এবং সুন্দর পরিবেশে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসা এবং ভোট দিয়ে নিরাপতে বাড়ি যাওয়া নিশ্চিত করতে র্যা ব কাজ শুরু করেছে। কেউ কোন অপ্রীতিকর ঘটনার চেষ্টাা করলে কঠোরভাবে তা মোকাবেলা করা হবে। এজন্য র‌্যাবের ২০ টি টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

লড়াই হবে লাঙ্গল আর ধানেরশীষে

এই আসনে এবার জাতীয় পার্টি ও মহাজোট প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট পল্লীবন্ধু মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পুত্র রাহগির আলমাহি সাদ এরশাদ (সাদ এরশাদ) লাঙ্গল প্রতিক, বিএনপি মনোনিত প্রার্থী রিটা রহমান ধানের শীষ প্রতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ মোটরগাড়ি, এনপিপি’র শফিউল আলম আম প্রতিক, গণফ্রটর কাজী মাঃ শহীদুল্লাহ মাছ প্রতিক এবং খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল দেয়াল ঘড়ি প্রতিক নিয়ে লড়ছেন।

ভোটের মাঠ থেকে পাওয়া তথ্য এবং ভোট বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এবারও লাঙ্গল প্রতিকের রাহ্গির আলমাহি এরশাদ (সাদ এরশাদ) এর সাথে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান।

লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম ও রংপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর নয়া দিগন্তকে জানান, আসনটি আমাদের পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের আসন। তিনি এখানে বরাবরই জয়ী হয়েছেন। তাকে মানুষ ভালবাসার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। তার মৃত্যুর পর এখানে তার পুত্র প্রার্থী। প্রার্থী নতুন হলেও তিনি এরশাদের পুত্র। এটা ভোটারদের কাছে ভোটের ভালোবাসা আরও নিশ্চিত করেছে। সাদ এরশাদ যখন মাঠ চষে বেরিয়েছেন তখন সেটা আমরা লাখ করেছি। আশাকরি আজকের ভোটের মাঠে সেই ভালোবাসার ফল আমরা পাবো এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে লাঙ্গল প্রতিক জয়ী হবে। তিনি বলেন, আমাদের কোন প্রতিদ্বন্দ্বি নেই। ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে তুলছেন এটা ঠিক নয়। আমরা আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালিয়েছি। আমরা আশা করি ধানের শীষের চেয়ে কয়েকগুন বেশি ভোটে আমরা নির্বাচিত হবো। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে বিএনপি প্রার্থী ৫৪ হাজার ভোট পেয়েছিল, তখন বিষয়টি ছিল ভিন্ন। মানুষ তখন সরকার পরিবর্তন হচ্ছে এরকম একটি হাওয়ায় ভোট দিয়েছিলেন। এবার তা নেই। জাতীয় পার্টির এই নীতিনির্ধারক আরো বলেন, ভোটের বিষয়ে মানুষের সেই আগ্রহ না থাকলেও বৃহস্পতিবারের মক ভোটিংয়ের দৃশ্য আশা করি হবে না। লাঙ্গলের ভক্ত প্রতিটি ভোটার ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং সাদ এরশাদকে বিজয়ী করবেন।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপ মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু  জানান, সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীষের প্রার্থী রিটা রহমানকে কেউ হারাতে পারবে না। কারণ তিনি পারিবারিকভাবে উপ মহাদেশের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ মশিয়ুর রহমান যাদু মিয়ার কন্যা। একদিকে তিনি বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, অন্যদিকে উচ্চ শিক্ষিত, সৎ ও যোগ্য। তার পিতার মতোই ক্লিন ইমেজ আছে তার। রংপুরের মানুষ তাকে যাদু মিয়ার কন্যা হিসেবে বরণ করে নিয়েছেন। রংপুরের জন্য যাদু মিয়া কি করেছেন সেটা সকলেই জানেন। নতুন প্রজন্ম যারা জানতেন না, তারাও ভোটে জেনে গেছেন। সে কারণে সুষ্ঠু ভোট হলে আমাদের বিজয় নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টি মানুক আর না মানুক বিএনপির প্রার্থী এখানে বড় ধরনের ফ্যাক্টর। আমরা সকল বাঁধা পেরিয়ে মাঠে প্রচারণা চালিয়েছি। মানুষ শুধু চেয়েছে ভোটের গ্যারান্টি। এই গ্যারান্টি যদি নির্বাচন কমিশন দিতে পারে, তাহলে বিএনপির বিজয় এখানে নিশ্চিত। যদিও নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন মহাজোট দ্বারা প্রভাবিত। তিনি বলেন, এই ভোট নিয়ে মানুষের কোন আগ্রহ নেই। বৃহস্পতিবারের মক ভোটিংয়ে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। আমরা আশংকা করছি মক ভোটিংয়ের পরিস্থিতি দেখে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন প্রভাবিত হয়ে কালকের ভোটে ইভিএম কারচুপির রেকর্ড তৈরি করতে পারে। যাই হোক না কেন, আমরা ভোটের মাঠে আছি, থাকবো। জনগনকে ভোট চুরির প্রক্রিয়া অবহিত করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link
Powered by Social Snap