রেমিটেন্স এবার দু হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে

3 minutes

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাঃ

চলতি অর্থ বছরে রেমিটেন্স ২০ বিলিয়ন ডলার বা দু হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মতবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল।

গত তিন মাসে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৬.৫৮%।আজ সোমবার বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রেমিটেন্স পাঠিয়ে এবং পাঠাতে সহায়তা করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেন অর্থমন্ত্রী।

আ.হ.ম মুস্তফা কামাল বলেন, সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আহরণ করে ভারত। যার পরিমাণ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা, এরা বছরে ৬৭ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স অর্জন করে।

“অথচ আমরা বছরে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করি। রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের আরও নজর দিতে হবে।” 

“তবে বর্তমানে যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে করে এবার ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করছি।”

‘যারা বিদেশে যাবেন তাদের অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিয়ে যেতে হবে’ আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “কারণ অদক্ষ বা ইংরেজি না জানার কারনে আমাদের লোকজন একই কাজ করলেও অনেক দেশের তুলনায় কম বেতন পেয়ে

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বিদেশগামীদের দক্ষতা উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতার কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর শ্রমিকরা বিদেশে অনেক বেশি বেতনে কাজ করছে। কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করে বিদেশ যাওয়া ভালো।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, বৈধপথে রেমিটেন্স পাঠানো ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য অভিবাসন নীতিমালা করার সময় এসেছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব সেলিম রেজা বলেন, “যারা সম্মাননা পাচ্ছেন, তারা বিদেশে আরও বেশি কাজের সুযোগ দিতে সহযোগিতা করলে রেমিটেন্স আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৪৫১ কোটি ০৪ লাখ (৪.৫১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

  • Save
অ্যাওয়ার্ড

এই অঙ্ক গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি।

গত বছরের এই তিন মাসে ৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ (৩.৮৬ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল বাংলাদেশে।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ (১৬.৪২ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল আগের বছরের (২০১৭-১৮) চেয়ে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং অতীতের যে কোন বছরের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক বছরে এই পরিমাণ রেমিটেন্স আসেনি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি ছিল।

এবার ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানো উৎসাহিত করতে ৩৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করল বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০১৮ সালে রেমিটেন্স পাঠিয়ে এবং পাঠাতে সহায়তা করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

এবার সাধারণ পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে ১০ জন, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী ৮ জন, ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে ১০ জন, রেমিটেন্স আহরণকারী পাঁচ ব্যাংক এবং অনাবাসী বাংলাদেশি মালিকানাধীন তিনটি একচেঞ্জ হাউজকে ক্রেস্ট ও সনদ দেয়া হয়।

ষষ্ঠবারের মতো দেওয়া হল এই পুরস্কার। ২০১৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

স্বচ্ছ ও বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য সাধারণ পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে কুয়েত প্রবাসী জাকির হোসেন, শিকদার বাচ্চু, যুক্তরাজ্যের ডা আফতাব হোসেন, জার্মানির কামরুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্রের সুকেশ রায়, মালয়েশিয়ার আহমেদ রায়হান সামসী, সিঙ্গাপুরের দেওয়ান মাসুদ কামার, কাতার প্রবাসী ইকবাল হোসেন, নাইজেরিয়ার নওশাদ আহমেদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডা ইশা খশনু পুরস্কার পেয়েছেন।

এছাড়া বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে সিঙ্গাপুর প্রবাসী ইমরুল হোসেন ভুইয়া, ওমানের রফিকুল আলম, কানাডার মোস্তফা কামাল, সিঙ্গাপুরের সুভাষ চন্দ্র মজুমদার, কাতারের নির্মল কান্তি ঘোষ, কুয়েতের তৌহিদ আহমেদ, সোমালিয়ার নাসের আহমেদ ও আফগানিস্তানের রেজাউল বারী চৌধুরীকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রবাসী ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ওলিউর রহমান, আবদুল করিম, মো শাজাহান বাবলু, মোহাম্মদ আব্দুন নুর কাউসার, মো এমাদুর রহমান, মাহবুবুল হাদী ফজলে রাব্বী, নুর মোহাম্মদ, সিঙ্গাপুরের আবু তাহের মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্জুরুল সোহেল আলম।

রেমিটেন্স আহরণকারী ব্যাংকের পুরস্কার পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংক।

বাংলাদেশি মালিকানাধীন মানি একচেঞ্জ হাউজ ন্যাশনাল একচেঞ্জ কোম্পানি, এনইসি মানি ট্রান্সফার লিমিটেড ও প্লাসিড এনকে করপোরেশনকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল ও সমাপনী বক্তব্য দেন নির্বাহী পরিচালক এ কে এম ফজলুর রহমান।

প্রবাসীদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী চিকিৎসক ডা. আফতাব হোসেন ও ইমরুল হোসেন ভুঁইয়া প্রমূখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap