‘শাহেদ’ বানিয়ে চরিত্র হনন, প্রতিকার চান নেতারা’

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

  • Save

মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য, ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অনলাইন পোর্টাল। হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যের সাথে অনৈতিক লেনদেনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা প্রতিহিংসার মাধ্যমে নিজ দলের নেতাকর্মীদের চরিত্র হননের খেলায় মেতে উঠেছে। অহরহ এরকম ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে । অপকর্ম বা অনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত না হলেও প্রতিপক্ষরা ভুয়া ও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অনলাইন পোর্টালে কথিত মিথ্যা বানোয়াট প্রপ্রাগন্ডা চালিয়ে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধিদের চরিত্র হনন করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার খেলায় মেতে উঠেছে? এরা কারা, এর পিছনে কে বা কারা? ভাবিয়ে তুলছে সকলকে? নামধারী এসব হলুদ সাংবাদিকদের সাথে আতাত করে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে কাউকে পাপিয়া, কাউকে শাহেদ, কাউকে ক্যাসিনো অমুক, ভূমি দস্যু তমুক’ আখ্যা দিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হচ্ছে। সারাদেশে এমন এক নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। এ থেকে প্রতিকারের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি এমন কিছু পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।এবিষয়ে দলীয় নেতারা জানান, এর প্রতিকার কোথায়? মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য নিয়ে সংবাদ নামে-বেনামে গড়িয়ে ওঠা ব্যাঙের ছাতার মতো ভুইফোড় অনলাইন পত্রিকা বা পোর্টালগুলোতে প্রতিপক্ষরা প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করতে মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করে নেপথ্যে চরিত্র হননের খেলায় মেতে উঠেছে। এর প্রতিকার কোথায়? এব্যাপারে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি জোরদার করা উচিত বলে দাবি করেছেন অনেকে। মিথ্যা বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য পরিবেশন করে সংবাদ প্রকাশের জেরে এমন সংবাদ পোর্টালগুলো দ্রুত বন্ধ করে দেয়া উচিত বলেও দাবি করেন নেতাকর্মীরা । রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশে, অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগ সুবিধা নিয়ে এক শ্রেণীর টাউট, বাটপার, নামধারী সাংবাদিক ও অনলাইন প্লার্টফম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের চরিত্র হননের খেলায় মেতে উঠেছে। এদের টাগের্ট থেকে বাদ যাচ্ছে না সরকারের মন্ত্রী, আমলা, দলের এমপি, নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অনেকে। সম্প্রতি কে বা কারা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে চরিত্র হনন করেছে। হলুদ সাংবাদিকতা তথা মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করে তাকে রিজেন্টের মালিক ও কথিত আওয়ামী লীগ নেতা ‘শাহেদ’র এর সাথে তুলনা করে সংবাদ পরিবেশন করিয়েছে। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে শফিকসহ তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্খী আওয়ামী লীগ নেতারা। নেতারা বলেন,শফিক ২০০২ সাল থেকে জয়পুরহাট নিজ উপজেলায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এরপর কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাকে মূহুর্তেই কাউয়া হাইব্রিড বানিয়ে দিয়ে ‘শাহেদ’ হিসাবে তূলনা করে মিথ্যা বানোয়াট অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। এবিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আহম্মদ আলী মোল্লা বলেন, শফিক আমার ছোট ভাইয়ের মতো পাশে থেকে মতিহারের সবুজ চত্ত্বরে বিএনপি-জামায়াত-ছাত্রদল-শিবিরের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছে। সে একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী। তার কর্মকান্ড, নেতৃত্ব গুণ ও যোগ্যতা দিয়ে সে সৈয়দ আমির আলী হলের আহ্বায়ক কমিটির নেতা ছিল। দীর্ঘদিন থেকে ছাত্রলীগ করা একজনের বিরুদ্ধে যদি মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে তার চরিত্র হনন করা হয়, এটা রাজনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকারক, সমাজের জন্য ক্ষতিকারক। এ থেকে প্রতিকার ও পরিত্রাণের উপায় খুজে বের করা জরুরি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপু বলেন, আমাদের সময়ে শফিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং সৈয়দ আমীর আলী হল শাখার ছাত্রলীগের নেতা ছিল। এবিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, আওয়ামী লীগ নেতারা থেকে তার সহযোদ্ধা কঠোর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তার শীঘ্রই এব্যাপারে আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনী ও সরকার সংশ্লিষ্টদের সাথে পরামর্শ করে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন। এব্যাপারে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা । জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কায়কোবাদ মাস্টার বলেন, শফিকের পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমাদের দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তার পরিবারের সদস্যরা আমাদের শুভাকাঙ্খী ছিল। আমি শফিককে ছোটবেলা থেকেই চিনি এবং জানি। স্কুল জীবন থেকেই সে ছাত্রলীগের মিছিল মিটিং করতে দেখেছি। তৎকালীন ক্ষেতলাল উপজেলার ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল হোসেন বলেন, ২০০২ সালে শফিক আমার কমিটির মেয়াদে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল।তাকে আমরা ছোটবেলা থেকেই ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে পেয়েছি । তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ও বর্তমানে জয়পুরহাট সদর পৌর আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ থেকেই শফিক আমাদের পরিচিত ছিল। সে ছাত্রলীগের একজন নিবেদতি কর্মী ছিল। ক্ষেতলাল উপজেলা মামুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনও শফিকের ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শফিক আমার কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap