শুদ্ধ উচ্চারণে প্রমিত বাংলায় কথা বলার চর্চা করি

< 1 min read
  • Save


-খোন্দকার হাফিজ ফারুক

*************************************
পল্লি সংস্কৃতি ও নগর সংস্কৃতি বিভাজন আছে। সেটা অনুধাবন করতে হবে। ইদানিং তরুণ প্রজন্ম যে সব অশ্লিল ভাষায় সাভাবিকভাবে কথা বলে তাতে কানে আঙুল দিতে হয়। আমি বিস্মিত হই এই ভেবে যে এমন ভাষা জনগণের সামনে উচ্চারণ করে কী করে? সেই ভাষাকে যারা উৎসাহ দেয় তাদেরই বা লক্ষ্য কী?
একজন শিক্ষিত মানুষ শুদ্ধ উচ্চারণে প্রমিত বাংলায় কথা বলবে এটাই তো হওয়া উচিৎ।কিন্তু কে কত বেশি ভাষাকে বিকৃত করতে পারে তারই প্রতিযোগিতা চলছে। কথায় আছে ভুতের পা পিছন দিকে।
আমরা যদি চর্ষাপদের ভাষায় কথা বলি জনগণ কি তা বুঝবে? অথবা সিলেটের একজন মানুষ আমাদের সামনে যদি বলে ” কিতা মাতো বুত পাই না তো” তাহলে কি আমরা বুঝবো?
এক সময় আমরা চিঠি লিখতাম সাধু রীতিত এখন কি লিখি? বঙ্কিমের ভাষায় এখন কি কেউ উপন্যাস লেখে?
বাংলাদেশে ১০ কিলোমিটার পর পর আঞ্চলিক ভাষা ভিন্ন। সেকারণেই তো বাংলা একাডেমি Standard Bangla বা প্রমিত বাংলা প্রবর্তন করেছে। এ-ই প্রমিত বাংলায় কথা বলা এবং অন্যকেও প্রমিত বাংলায় কথা বলতে উৎসাহিত করা প্রতিটি নাগরিকেরই দায়িত্ব।

পার্লামেন্টে যখন কোন সদস্য আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে তখন আমরা হাসাহাসি করি। ঝিনেদার মানুষ ঢাকায় গিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে তখন তীর্যক মন্তব্য শুনতে হশ ‘খ্যাত’।

ভাষা নদীর স্রোতের মত গতিশীল, বহমান। ভাষা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়, হয় সমৃদ্ধ। গ্রহণ বর্জনকে ধারণ করেই ভাষা এগিয়ে চলে। আর এ চলমান প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কাম্য নয়।
ভাষার মাসে আসুন শুদ্ধ উচ্চারণে প্রমিত বাংলায় কথা বলার চর্চা করি। ধন্যবাদ সকলকে।

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap