Logo Design Logo Design Logo Design

শৈলকুপায় ‘জায়গা আছে ঘর নাই’ প্রকল্পে টাকা হাতানোর অভিযোগ চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে !

3 minutes
  • Save
এসব ঘর নির্মাণের নামে চলছে অর্থ বাণিজ্য

এম.বুরহান উদ্দীন-শৈলকুপা(ঝিনাইদহ)ঃ


ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ১নং ত্রিবেণী ইউনিয়নে ‘জায়গা আছে ঘর নাই’ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এ প্রকল্পে বিনামূল্যে ঘর দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিটি উপকারভোগীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে। এমনকি যাদের সামর্থ্য রয়েছে তাদেরকেও এই ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি এ প্রকল্পে বিনামূল্যে হতদরিদ্রদের এসব ঘর দেওয়ার কথা রয়েছে। অবশ্য সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

সরেজমিনে ত্রিবেনী ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায়, এ ইউনিয়নে ‘জায়গা আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় ১৮টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী মেম্বার রোকেয়া খাতুন। ‘জায়গা আছে ঘর নাই’ প্রকল্পে ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অকপটে অস্বীকার করেন তিনি। তবে তিনি টাকা গ্রহণ না করলেও চেয়ারম্যানের কথামতো তার পক্ষে তারই ছেলে নাসির ও ছেলের বউ সুন্দরী বেগম টাকা নিয়েছেন প্রতিটি উপকারভোগীদের কাছ থেকে। কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছেন তা বলে দেওয়ার মাধ্যমে বুঝা যায় ‘জায়গা আছে ঘর নাই’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।

এমনকি ঘর দেওয়ার কথা বলে সামর্থ্যবান লোকদের কাছ থেকেও নিয়েছেন টাকা। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পে ‘জায়গা আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় ৩০৯ টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পে অনুমোদিত ঘরের তালিকা উপজেলা পর্যায়ে আসার পর ইউপি চেয়ারম্যানরা সংশ্লিষ্ট উপজেলা থেকে নিজ নিজ ইউনিয়নের তালিকা সংগ্রহ করে কপি দিয়েছেন মেম্বারদের।

এই সুযোগে মেম্বার ও সংরক্ষিত নারী মেম্বাররা তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঘর পাওয়ার সংবাদ দিয়ে ঘর প্রতি ১৫/২০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। আর টাকা না দিলে ঘর পাওয়া যাবে না বলেও জানান। টাকা দিয়ে অনেকে ঘর পেয়েছেন। আবার এমনকি বলছেন তালিকায় নাম রয়েছে, তদবির করে আগামীতে ঘর এনে দেওয়া হবে, এমন আশ্বাস দিয়েও অগ্রিম টাকা নেওয়া হয়েছে অনেক উপকারভোগীর কাছ থেকে। ত্রিবেনী ইউনিয়নের সর্বত্রই এই অবস্থা বিরাজ করার অভিযোগ গুরুতর। এতদিন বরাদ্দকৃত ঘর বাতিল হওয়া, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের হিংস্র কিছু ব্যক্তিদের ভয়ে দরিদ্র এসব মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তবে এতোদিন ধৈর্য ধরার পরও উপকারভুগীরা ঘর পায়নি সেহেতু অনেকেই টাকা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

  • Save

ত্রিবেনী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড এলাকার উপকারভোগী রেবেকা খাতুন, শামসুদ্দিন মন্ডল, আব্দুল খালেক, আকমল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, বাবুল শেখ, আসমা বেগম, রবিউল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, রহিম বিশ্বাস, জনেকা খাতুন বলেন, চেয়ারম্যান জহুরুল হক খান সরকারি ঘর দেবে এমন কথা বলে নারী মেম্বারের পক্ষে তার ছেলে নাসিরের হাতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ধারদেনা ও ঋণ করে দিয়েছি। এ টাকা না দিলে ঘর পাবো না এমনকি এ টাকা সরকারের ভ্যাট হিসেবে দেওয়া লাগবে বলে আমাদের জানানো হয়। তবে আমরা টাকা দিয়েছি কিন্তু ঘর বুঝে পায়নি। এমনকি টাকা ফেরত পাওয়ার কথাও বলতে সাহস পাইনি বলে জানান উপকারভোগীরা।
অভিযুক্ত ত্রিবেনী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রোকেয়া খাতুন টাকা নেওয়ার ব্যাপার অস্বীকার করে জানান, আমি এসব কিছুই জানিনা, সব কাজই তো আমার ছেলে নাসির করে। আমি বয়সের ভাড়ে ওতোটা বুঝিনা। টাকা নিলে হয়তো চেয়ারম্যানের কথা মতো আমার ছেলে নিয়েছে। তবে আমি আসলেই কিছুই জানিনা। তবে নারী মেম্বারে ছেলের বউ (বেটার বউ) সুন্দরী বেগম বলেন, নাসির চেয়ারম্যানের কথামতো সর্বমোট ৮ লাখ টাকা উপকারভোগীদের কাছ থেকে নিয়েছে বলে স্বীকার করেছে (ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত)।
ত্রিবেণী ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হক খান জানান, আমি অনেকদিন যাবৎ শারীরিক অসুস্থ। আমার সকল কাজকর্ম নাসির (নারী মেম্বরের ছেলে) দেখাশোনা করছে। হয়তো ঘরের কথা বলে টাকা নিয়েছে। তবে যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে আমি তাদের ডেকে কথা বলে দেখবো। দেখি টাকা ফেরত দেওয়া যায় কি না।
শৈলকুপা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হেল আল মাছুম বলেন, আমি নতুন এসেছি। আগের কর্মকর্তা বিষয়টি কি করে গিয়েছে আমি তো জানিনা। তবে এই প্রকল্পের টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি কল্যাণমুখী প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। যারা এ প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

( শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন ও সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ করুন 01911-6777 93 নাম্বারে)

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap