শৈলকুপায় নামে বেনামে স্কুলের সম্পদ হরিলুটের অভিযোগ

2 minutes

এম.বুরহান উদ্দীন-শৈলকুপা(ঝিনাইদহ):

  • Save


ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যুগযুগ ধরে প্রভাবশালীদের নগ্নথাবায় জর্জরিত ঐতিহ্যবাহী আবাইপুর রামসুন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শতবর্ষের পুরনো এ বিদ্যাপীঠের বিঘা বিঘা সম্পদ নামে বেনামে হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়টি ১৮৮৯ সালে প্রায় ৭০ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। বহুযুগ পার করলেও অবকাঠামোর তেমন উন্নতি নেই, নেই আধুনিকায়ন শিক্ষা ব্যবস্থা। যা আছে তার মধ্যে স্থানীয় রাজনীতিচর্চা, অনিয়ম
দূর্নীতি আর নেতাদের দখল অপকৌশল অন্যতম। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৎকালীন জমিদার আমলে প্রতিষ্ঠিত এই রামসুন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খ্যাতি
ছিল প্রচুর। কালে কালে বিলীন হয়েছে সেই জমিদারী প্রথা স্কুল হারিয়েছে তার গৌরবগাঁথা জৌলুস। বর্তমানে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া গতানুগতিক হলেও ফলাফল সন্তোষজন। স্কুল জুড়ে দখল দৌরাত্বের সামাজিক রাজনীতি বিদ্যমান, বিশেষ করে ৯০
দশক পর থেকে ঐহিত্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেঁকে বসে গ্রামীণ রাজনৈতিক নির্ভরতা, শিক্ষকেরাও জিম্মিদশায় থেকে বের হতে পারেনি। স্কুল কেন্দ্রিক গড়ে
ওঠা আবাইপুর বাজারের সিংহভাগই অত্র বিদ্যালয়ের সম্পদ।
বর্তমান নির্বাচিত সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান মোক্তার আহম্মেদ মৃধা জানান, পূর্বে এ্যাডহক কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন ১৫-০৭-২০১৮ তারিখে ৪/১৮ নং সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার আত্মীয় পরিজনের নামে বেনামে স্কুলের জমি লিজ দিয়েছেন। ১৩ জনের
নামের বিপরিতে সভাপতি নিজাম উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা’র নামে ২টা, মেয়ে নিলুফা ১টা, জামাই শহিদুল ইসলাম ২টা, ভাই মোকাদ্দেসের নামে ১টা ও অন্যান্য বেনামী লিজ গ্রহিতাগণ কেউই প্লট দখলে নেই। যারা চাষাবাদ, দোকানপাট দখলে রেখেছে এদের অনেকেই প্রকৃত লিজ গ্রহিতা নন বেনামী ও দূরদূরান্ত গ্রামের রাজনৈতিক শুভকাঙ্খি। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থায়ীভাবে স্কুলের জমিতে বাড়িঘর তৈরি
করেছেন বল্টু নামের এক ব্যক্তি। শুধু তাই নয় ২০১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ২০১৮ সালের বকেয়া পরিশোধ ছাড়াই চলছে নানা দৌরাত্ব। স্কুলের ফান্ডে এ সকল প্লটের বিপরিতে ৭
হাজার থেকে ১০ হাজার করে টাকা জমা হলেও গোপনে বেশকিছু প্রকৃত লিজ দাতাদের নিকট থেকে নেয়া

হয়েছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ব্যাংক হিসাব, রেজুলেশন, কমিটির কার্যক্রম ও লিজগ্রহিতা ছাড়াও এলাকা ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। এ ব্যাপারে এ্যাডহক কমিটির সাবেক সভাপতি নিজামউদ্দিন জানান, স্কুলটির বর্তমান সভাপতি মোক্তার আহমেদ মৃধা তাঁর রাজনৈতিক দলবল গোছাতেই বিভিন্ন সময়ে নিজস্ব লোকজন দিয়ে স্কুলের সম্পদ
উজাড় করেছে। ১৯৯৫ সাল থেকে অদ্যবধি মোক্তার মৃধা সবচেয়ে বেশি স্কুলের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনিই তাঁর রাজনৈতিক ব্যক্তিস্বার্থে এখন অন্যদের দোষারোপ
করছেন। এছাড়াও নূর আলম বিশ্বাস সভাপতি থাকাকালীন তিনিও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লিজ দিয়ে গেছেন বলে জানান। তবে নামে বেনামে তার আত্মীয় পরিজনদের প্লট
দেওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। আবাইপুর রামসুন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান জানান, তিনি ২০১৩ সালে নিয়োগ পেয়েছেন। পূর্বের বিষয়ে ডকুমেন্টারী তেমন কিছুবলতে পারবেন না। তবে বর্তমানে ১০ একর ৬৬ শতক জমি
দখল থাকলেও এপর্যন্ত আরএস রেকর্ড হয়েছে ৩ একর ২০ শতক জমি। অবশিষ্ট জমির কাগজপত্রের হদিস নেই। বর্তমান সভাপতি মোক্তার আহম্মেদ মৃধা জানান, কালে
কালে দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন ব্যক্তির দায়ভার ঢালাওভাবে অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি স্বচ্ছ ও জবাবদিহীতা সাথেই প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থে কাজ করছেন বলে দাবি
করেন। মোক্তার আহমেদ মৃধা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ বাণিজ্যবন্ধসহ সরকারি সম্পদ রক্ষায় তাঁর নিরলস চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap