শৈলকুপায় বাবা সভাপতি হওয়ায় ছেলে করেনা স্কুলের ডিউটি !

2 minutes

  • Save

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) ফিরে সজীব মাহমুদঃ
কথায় আছে, জোর যার মল্লুক তার। এরকমই জোরের কান্ড-কারখানা চলছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ৪৬নং পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টির স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবা হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিয়মিত স্কুলে ডিউটি করেন না ছেলে। মাসের শেষের দিকে একবার এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করে চলে যান। ভয়ে স্কুলের কোন শিক্ষক প্রতিবাদ করার সাহস পান না। এমন ঘটনা ঘটেছে
জানা যায়, ২০১৪ সালে উপজেলার পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণী পাসে পিয়ন পোষ্টে চাকুরিতে যোগদান করে পাইকপাড়া গ্রামের ইসরাইল মেম্বরে ছেলে রবিউল ইসলাম। চাকুরিতে যোগদান করার পর থেকেই অনিয়মিত স্কুলে ডিউটি করে আসছে পিওন রবিউল। পুরো মাসে অনুপস্থিত থেকে একদিন এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। কারণ হিসেবে ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তারই বাবা। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্কুলে অনিয়মিত পিয়ন। সরেজমিনে স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরিউল চাকুরির শুরু থেকেই অনিয়মিত। স্কুলে অনিয়মিত হওয়ায় কোন শিক্ষার্থী তাকে ভাল মতো চিনেও না। তার হাজিরা খাতায় ২০১৯ সালের অক্টোবর – ডিসেম্বর মাসে কয়েকদিন উপস্থিতির স্বাক্ষর পাওয়া গেলেও চলতি বছরের জানুয়ারী ১৫ তারিখ পর্যন্ত হাজিরা খাতায় কোন স্বাক্ষর দেখা মেলেনি। এমনি কি পূর্বের মাস ও বছরের হাজিরা খাতা দেখাতে ব্যর্থ হয় প্রধান শিক্ষিকা। পিয়ন রবিউলের স্বাক্ষরেও আছে ধোয়াসা। সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ ছিল জাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে চাকুরি, অনিয়মিত ডিউটি ও স্বাক্ষরের জায়গায় প্রধান শিক্ষিকা স্বাক্ষর করে দেয়ার মত ভয়াবহ অভিযোগ। তার প্রমানও মেলে অনেকাংশে। প্রধান শিক্ষিকা পিয়ন রবিউলের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া অন্য কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
প্রধান শিক্ষিকা দিলরুবা আক্তার বলেন, গত বছরে রবিউল ১৫/৯/২০১৯ থেকে ১৭/১০/২০১৯ তারিখ পর্যন্ত মোট ২৮ দিন শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে ছুটি ভোগ করে। ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও পিওন স্কুলে নিয়মিত ডিউটি করে না। অনেকবার সভাপতির কাছে বলেছি তবুও কোন সুরাহা মেলেনি। একদিকে ওর বাবা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য। যার কারণে আমার শিক্ষকদের ও আমাকে পরোয়া করে না। এজন্য জোর চাপ দিয়ে কিছু বলার সাহসও পায়নি। ওর বাবা তো অল ইন অল। অন্যদিকে কাগজপত্র ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দেওয়ার প্রসঙ্গে শিক্ষিকা আরো বলেন, নিয়োগের কাগজপত্র অন্য কোন ফাইলে হয়তো জমা রাখা আছে। আর স্বাক্ষর করে দেওয়া অসম্ভব। এমন জঘন্য কাজ আমি করতেই পারি না।
বিপ্রবগদিয়া মাধ্যমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান সাচ্চু প্রত্যয়নপত্র সম্পর্কে বলেন, আমি রবিউলকে যে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি সেটি ২০১২ সালের স্বাক্ষরকৃত। তবে যেহেতু সে চাকুরীতে ২০১৪ সালে যোগদান করছে, সেহেতু ওই প্রত্যয়নপত্রের কোন ভেলু নেই।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইসরাইল হোসেনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন বাহিরে আছি। এবিষয়ে পরে কথা হবে।
শৈলকুপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন বলেন, স্কুলে অনিয়মিত ডিউটি প্রসঙ্গে পিয়ন রবিউলের বিরুদ্ধে আগেও অনেক অভিযোগ পেয়েছি। যার কারণে তার বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। আর ভুয়া প্রত্যয়নপত্র নিয়ে চাকুরীর বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমানিত হলে অবশ্যই তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

( শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন ও সংবাদ সংক্রন্ত বিষয়ে য়োগাযোগ করুন 01911 6777 93 )

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap