Logo Design Logo Design Logo Design

শৈলকুপায় সুদ সম্রাজ্ঞী হাসিনার একের পর এক মামলা, বাড়ি ছাড়া হচ্ছে মানুষ!

3 minutes
  • Save

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) থেকে: এম.বুরহান উদ্দীন

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চলছে হাসিনা খাতুন নামের এক সুদ সম্রাজ্ঞীর রমরমা ব্যবসা। প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা সুদে কারবার চলছে তার হাত ধরে। মাস শেষে টাকা দিতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বৃদ্ধি পায়। কয়েক মাস দিতে ব্যর্থ হলে সুদের পরিমান সুদ ধরাসহ নেমে আসে অত্যাচার। পরে না দিতে পারলে গোয়ালের গরু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল ও মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে কোর্টে মামলা করা হয় গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে। সুদ সম্রাজ্ঞী হাসিনা ও তার স্বামী কুদ্দুসের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে এরই মধ্যে আলী নামের এক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। হাসিনার এ সুদের ব্যবসা কয়েক বছর ধরে চলছে রমরমা। তার কাছ থেকে সুদের টাকা নিয়ে অনেক সাধারন মানুষ নিঃশ্ব হয়ে পড়েছে। হাসিনার বাড়ি পৌর এলাকার মধ্যপাড়ায়। নাম প্রকাশে পৌর এলাকার কয়েকজন জানান, সুদ কারবারি হাসিনার কাছ থেকে এ এলাকার সাধারন মানুষের রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়ছে। যদি কেউ বিপদে পড়ে ৩০ হাজার টাকা সুদে নেয়, তাহলে ৫ মাস পর ২ লাখ টাকা দিয়েও হাসিনার টাকা পরিশোধ হয় না। হাসিনা ও তার স্বামী সুদের কারণে জোরপূর্বক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল নিয়ে যাওয়ারও রেকর্ড আছে। এলাকায় তারা প্রভাবশালী না হলেও মান সম্মানের ভয়ে কেউ মুখ পর্যন্ত খুলতে সাহস পায়না। ভুক্তভোগী চা বিক্রেতা জয়ন্ত কুমার জানান, বছরখানিক আগে হাসিনার কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিলাম। এরই মধ্যে আশা সমিতি থেকে লোন নিয়ে ও গরু বিক্রি করে মুল টাকাসহ ৮ মাসে ৪ লক্ষাধিক টাকা পরিশোধ করেছি। তবুও সুদের টাকা এখনও শোধ হয়নি বলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার ও আয়রন মেশিন জোরপূর্বক নিয়ে গেছে। সুদ সম্রাজ্ঞী হাসিনা উল্টো জয়ন্ত ও তার ছেলের নামে দুটি ইজিবাইক বিক্রি করার মিথ্যা মামলা দিয়েছে। যদিও জয়ন্ত ও তার ছেলের ইজিবাইকের সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে এলাকা ঘুরে জানা গেছে।


সে আরোও জানায়, সুদ ব্যবসায়ী হাসিনা নানা রকম চাপে মনকষ্টে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে ইচ্ছে করে। স্বরস্বতি শর্মা নামে এক ভুক্তভোগী জানান, হাসিনার কাছে পারিবারিক সমস্যায় পড়ে ৬ মাস পূর্বে ১৮ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিল। তার সুদের মুল টাকাসহ প্রায় দেড় লাখ টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। এর পরেও নাকি মুল টাকায় শোধ হয়নি। পুনারায় হাসিনা টাকা দাবি করছে। রাতের আধারে হাসিনা মাঝে মাঝে স্বরস্বতির বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন গালিগালাজ ও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাকের শাশুড়ী জানান, তার জামাই ২ বছর আগে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিল হাসিনার কাছ থেকে। প্রতি হাজারে ২’শত টাকা করে মাসে ৬ হাজার করে সুদ পরিশোধ করতো। সুদসহ মুল টাকা পরিশোধের পরেও তার জামাইয়ের কাছে মাঝে মাঝেই টাকা চাইতো। তার জামাই রাজ্জাক পরবর্তীতে আর কোন টাকা দিবে না বলে অস্বীকৃতি জানালে হাসিনা তার করিমন গাড়ি বিক্রি করে নেওয়ার মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছে। অন্যদিকে এলাকা ছাড়া আলীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারা জানান, ২০১৫ সালে হাসিনার কাছ থেকে পারিবারিক সমস্যায় ৩৫ হাজার টাকা নিয়েছিল। পরে সমিতি থেকে ১৫ হাজার টাকা তুলে নগদে পরিশোধ করা হয়। এভাবে মুল টাকাসহ হাজারে প্রতিমাসে ২’শত টাকা করে ৭ হাজার টাকা সুদ পরিশোধ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা সুদ দিলেও নাকি হাসিনার টাকা পরিশোধ হয়নি। এব্যাপারেও হাসিনা বাদী হয়ে আলীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে আলী তার মেয়ের জামাইকে বিদেশ পাঠাবে বলে ২ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। যার কারণে ওর অত্যাচারে বাধ্য হয়ে আলী ও তার ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে চলে ঝিনাইদহ শহরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুদের মোড় এলাকার এক সুদ গ্রহীতা জানায়, হাসিনা ও তার স্বামীর সুদে কারবার ইতোমধ্যে এলাকার গন্ডি পেরিয়েছে ।

ওই এলাকার বহু মানুষ হাসিনার নিকট ১ হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকা সুদে কারবারির সাথে জড়িয়ে পড়েছে সুদ সিন্ডিকেটের উপর নজর দিতে এলাকাবাসী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে জোর দাবি জানিয়েছে। এব্যাপারে কেউ নির্দিষ্ট অভিযোগ করলে সুদ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এব্যাপারে হাসিনা খাতুন বলেন, তার সম্মানক্ষুন্ন করার জন্য কতিপয় ব্যক্তি ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছে। তবে একাধিক ব্যক্তি নিকট থেকে পাওনা টাকা উঠাতে তিনি মামলা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রহমান জানান, সুদ ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া শুনেছি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সুদ ব্যবসার টাকার জন্য অনেকের গরু-ছাগল, ক্ষেতের ফসল, দোকানের মালামাল এমনকি মারধরেরও কথা শোনা যায়।

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap