সাদেক হোসেন খোকা মারা গেছেন

2 minutes
সাদেক হোসেন খোকা

ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ক’দিন ধরেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন খোকার শারীরিক অবস্থা পরিবর্তনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। অবশেষে আজ তিনি চলে গেলেন। নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় বেলা ১টার সময় তিনি ইন্তেকাল করেন।

বিষয়টি জানিয়ে ফেসবুকে তার ছেলে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। আমার বাবা অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা নিউইয়র্ক সময় রাত ২:৫০ মিনিটে ও বাংলাদেশ সময় দুপুর ১:৫০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।’


এদিকে খোকার লাশ দেশে আসবে কেন- গত কয়েকদিন ধরেই এমন প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এর আগে তার সবশেষ স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আইনগত বাধা থাকলেও তিনি যেন নির্বিঘ্নে দেশে ফিরতে পারেন এ জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

রোববার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে দেখতে যান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।

এ সময় তিনি জানান, সাদেক হোসেন খোকার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মানবিক বিবেচনায় খোকার দেশের ফেরার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।

অপরদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছিলেন, সাদেক হোসেন খোকার পরিবার নিউইয়র্কে ‘ট্রাভেল পারমিট’র জন্য আবেদন করলে বাংলাদেশ মিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। খোকা ও তার স্ত্রীর নামে মামলা আছে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও থাকতে পারে। কিন্তু মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তারা এ অবস্থায় এলে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হবে। এখন দেখার বিষয়- লাশ দেশের ফেরাতে খোকার পরিবার কী পদক্ষেপ নেয়। সরকারের ভূমিকাই বা কী হয়?

তথ্যমতে, ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন খোকা। ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন তিনি।

২০১৪ সালের ১৪ মে মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময়কালে দেশে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা হয়। এর কয়েকটিতে তাকে সাজাও দেয়া হয়েছে।