Logo Design Logo Design Logo Design

সাম্রাজ্য হারাচ্ছেন সম্রাট?

2 minutes

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুমিল্লা ও ঢাকাঃ

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান শেষে র‌্যাবের খাঁচায় বন্দি হলো সম্রাট। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গতরাত ১২টার দিকে কুমিল্লা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন‌ র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের মুখপাত্র সারওয়ার-বিন-কাশেম। আজ রবিবার (৬ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলেও তিনি দেশবাসীকে জানান।

‍র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরওয়ার বলেন, ক্যসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর চৌধুরী বাড়ি থেকে সহযোগী আরমানসহ সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তারের পর তাঁদেরকে ঢাকার টিকাটুলিতে অবস্থিত র‌্যাব-৩ এর কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান এই‍ র‌্যাব কর্মকর্তা।

জানা গেছে, চলমান ক্যাসিনো-জুয়াবিরোধী অভিযানের শুরু থেকে তাদের নজরদারির মধ্যেই ছিলেন যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। এই সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও চালিয়েছিলেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে দেশ ছাড়তে পারেননি তিনি।

ইতোপূর্বে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দারা সম্রাটকে আটক করে থাকতে পারেন বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর  রাজধানীর বনানী এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে সংবাদে বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনী বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে বলেও সংবাদে বলা হয়।

এর আগে সম্রাট পালিয়ে যাওয়ার প্রাকল্লে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি পৌঁছেও তিনি ফিরে আসতে বাধ্য হন। পরে কাকরাইলে ভূঁইয়া ম্যানশনে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে টানা ছয় দিন অবস্থান করেন। আর পাহারায় বসান শতাধিক যুবককে। সেখান থেকে গত রবিবার তিনি বনানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করছিলেন। সর্বশেষ সেখান থেকেই তাঁকে আটক করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘যুবলীগ নেতা সম্রাট ঢাকাতেই অবস্থান করছেন এবং আমাদের নজরদারির মধ্যেই আছেন। তাঁকে আটকের বিষয়টি এখনই প্রকাশযোগ্য নয়। সবুজ সংকেত পেলেই তাঁর বিষয়টি প্রকাশ করা হবে।’

সূত্র আরো জানায়, যুবলীগের প্রভাবশালী এই নেতা আটক বা গ্রেপ্তার এড়াতে ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করে আসছিলেন। হাইকমান্ডের সঙ্গে তিনি দফায় দফায় কথাও বলেছেন। তাঁর কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া প্রভাবশালীচক্র এক্ষেত্রে মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ড থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই সম্রাটকে আটকের সিদ্ধান্ত নেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (সদ্য বহিষ্কৃত) খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ওরফে ক্যাসিনো খালেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পরই ভড়কে যান সম্রাট। যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তার এড়াতে শুরু করেন নানা মহলে তদ্বির। তিনি দলীয় হাইকমান্ডকে দফায় দফায় বুঝাতে চেয়েছেন দলের প্রতি তাঁর অবদানের কথা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না শেষরক্ষা। ধরা পড়তেই সম্রাটকেও। এ বন্দিদশা শেষে সাম্রাজ্য চ্যূত সম্রাট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap