সোহাগীর প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পায়নি স্বামী! নেপথ্যে রয়েছে অন্য রহস্য

3 minutes

  • Save

!সুচিত্রা রায়, নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

সোহাগীর প্রতারণায় ভাঙ্গলো শিল্পীর সাজানো সুখের সংসার। স্বামী সংসার হারিয়ে ১১ বছর বয়সের মেয়ে সিমোকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শিল্পী। শিল্পীরমত অনেক সংসার অশান্তির আগুনে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে অঙ্গার করেছে প্রতারক এই নারী। ১০/১২ টি মোবাইল সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন নামে ফেসবুক আইডি, ইমু খুলে ছদ্মনামে ছেলেদের সাথে বিয়ে করাসহ প্রেমের নাটক সাজিয়ে নানা কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। তাঁর প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বোস্ব খুঁইয়েছেন অনেকে। এমনকি টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হোতো তাঁর আপন দুই বোন কথিত দেহ ব্যববসায়ী সাগরিকা এবং আদুরীকে ।

প্রতারিত হয়ে যেন মুখ খুলতে না পারে সে জন্য দেখাতো মামলার ভয়। মূলতঃ এটি একটি প্রতারক চক্র। সোহাগীর প্রতারণার হাতথেকে রেহাই পায়নি নিজের স্বামীও। সোহাগীর স্বামী শাজাহান বিদেশ যাওয়ার পরপরই শাজাহানের ফুফাতো বোন শিল্পীর স্বামী  আবু বক্করের সাথে গোপনে বিয়ে করে একসাথে দুই স্বামীর সংসার করতে থাকে সোহাগী।আর পয়সার বিনিময়ে যারতার সাথে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করাটা তার কাছে একদম ডাল-ভাতের মতো। স্বামী কষ্ট করে বিদেশ থেকে টাকা পাঠায় আর স্ন্যেই টাকার গরমে আবু বক্মকরকে দিয়ে জৈবিক চাহিদা মিটিয়ে চলেছে গোপনে। আবু বক্করও সুযোগ পেয়ে পরাগ আর রেণু সরিয়ে িপ্রতিনিয়ত লুটে নিচ্ছে বাসী ফুলের মধূ। সোহাগী এবং আদুরী আপন দুই   বোনের এক স্বামী আবার সোহাগীর একাই দুই স্বামী। এমন ঘটনায় হতবাগ ধামরাই এবং আশুলিয়াবাশী।এদিকে  শাজাহানের পাঠানো প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতসহ অনেকের সাথে প্রেমের নাটক সাজিয়ে লক্ষাধীক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার  অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতারক সোহাগীর বিরুদ্ধে। সোহাগী বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানার ভালুকসি গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম ফকিরের মেয়ে । শাজাহানের সাথে কথাবলে জানা যায়, সে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতো, সেখানেই পরিচয় হয় সোহাগীর সাথে। সোহাগীও ওই কারখানায় কাজ করতো। পরিচয় প্রেম তারপরঃ বিয়ে। অফিসে সোহাগীর নাম  সাগরিকা পিতা হায়দার খাঁন দেওয়া ছিলো। এই নামেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সংসারে সচ্ছলতা ফিরাতে বিয়ের ৭ বছরের মাথায় সে বিদেশ চলে যান। প্রবাস জীবনে কঠর পরিশ্রম করে প্রতিমাসে রোজগারের সব টাকা সোহাগীর নামেই পাঠাতেন। প্রায় সাড়ে চার বছর পর শাজাহান বাড়িতে আসলেও স্ত্রী সোহাগী তাঁর সাথে দেখা না করে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকায় বাসা ভাড়ানিয়ে আত্মগোপনে থেকে মোবাইলে তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। উপায়ান্তর না পেয়ে সোহাগীর নামে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়েরের  সিদ্বান্ত নেন। শাজাহান ধামরাই উপজেলা নান্নার ইউনিয়ন উলাইল গ্রামের আব্দুল হাই এর ছেলে। আত্মসাতের টাকা ফেরৎ দিতে হবে এবং মামলায় ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে শাহজাহান বিদেশ থেকে আসার আগেই সোহাগী  আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করে জি.ডি নং ১১৮৬। এদিকে শাজাহান বাড়িতে আসায় সোহাগী ফের স্থান পরিবর্তন করে শাজাহানের ফুপাতো বোনের স্বামী আবু বক্করকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। প্রতারণার শিকার শাজাহান বিচারের আশায় যখন দ্বারেদ্বারে ঘুরছিেেলা ঠিক তখনি শাজাহানকে কব্জায় আনতে নতুন ফন্দি আটে সোহাগী । শাহজানের নামে নারী ও শিশু নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে নতুন কৌশলে তাঁর আপন বড় বোন দুই সন্তানের জননী স্বামী পরিত্যক্তা সাগরিকার সাথে বিয়ে দেয়।  শাজাহান বলেন ,আমি প্রবাসে থাকতে আশুলিয়ার কুরগাঁও এলাকায় জমি কেনার জন্য টাকা পাঠাই সেই টাকায় জমি কিনে তাঁর নিজের নামে, এবং আমাকে বলে জমি আমার নামে দিয়েছে। আমার ফুপাতো বোনের স্বামী বক্করকে সোহাগী অনেক আগেই বিয়ে করেছে । বিষয়টি আমার কাছে গোপন রেখে সোহাগী আমাকে প্রস্তাব দেয় পূনরায় আমার নিকট ফেরত আসবে তার বড় বোনকে তালাক দিলেও সমস্যা নেই।  আমার জমি আমার নামে রেজিষ্ট্রী করে  দিবে। সবকিছু ভুলে আমাদের একমাত্র ছেলের ভবিষ্যতের চিন্তা করে গত নভেম্বর মাসে আশুলিয়ার কুরগাঁও গ্রামে একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে আমি আর সোহাগী বাড়ীর নির্মান কাজ শুরু করি। পরে  জানতে পারি সে বক্করের সাথে বিয়ে করেছে এবং এখানেও মাঝেমঝে আসে । বিষয়টি আমি যেনে যাওয়ায় সোহাগী ফের  কুরগাঁও হইতে পালিয়ে ময়মনসিংহ বক্করের কাছে চলে যায়।  আমার টাকায় খরিদকৃত জমি গত  ২৩শে জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ফোনে ফেরত চাইলে সে আমাকে মেরে ফেলার হুমকী দেয়। আমি নিরুপায় হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করি যাহার নং ২০১৯।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন  আমাদের সংবাদকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন কৌশলে তাঁর কাছথেকে সোহাগী পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে। টাকা ফেরৎ চাইলে মোবাইল ফোনে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এই চক্র। উপান্তর না পেয়ে সে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডাইরী ও আদালতে মামলা করেন। সে মামলা চলমান আছে।

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap