আগামী ৫ জানুয়ারি যশোর সদরের ১নং হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন

0
278

মমিনুর রহমান ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা। টানানো হয়েছে চেয়ারম্যান, মেম্বারদের পোস্টার, করা হচ্ছে মাইকিং। সেই সাথে বাড়ি বাড়ি হাটে বাজারে পথে নানা প্রতিশ্রুতিতে ভোট চাওয়া হচ্ছে ভোটারদের কাছে।

আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যশোর সদর উপজেলার ১নং হৈবতপুর ইউনিয়ন থেকে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে সরকার দলীয় মনোনয়ন পাওয়া একজন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের একজন ও ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাগঠনিক সম্পাদক আবু সিদ্দিক, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাস্টার সোহরাব হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হরেন বিশ্বাস ও আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ আলী।
এছাড়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে মোট ৪০ জন ইউপি সদস্য (মেম্বর) পদে প্রতিদ্বন্দিতায় নেমেছেন। প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতিতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটের মাঠে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটারদের কদর বেড়েছে। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু সিদ্দিক জানান তিনি নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, সুদখোর, ভূমিদস্যুদের অত্যাচার থেকে ইউনিয়ন বাসীকে রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। হৈবতপুর ইউনিয়নকে ক্ষুধামুক্ত করতে চাই। সরকারের বরাদ্ধকৃত সাহায্য সকলের মাঝে পৌঁছে দেবেন। হৈবতপুর ইউনিয়নের উন্নয়নকে ঘিরে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচার প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে আবু সিদ্দিক জানান, দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন হরেন বিশ্বাস। যে কারণে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। জন বিচ্ছিন্ন হয়ে বাড়িতে বসে আছেন। এখন সোশ্যাল মিডিয়া ও মুঠোফোনের মাধ্যমে নৌকার কর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন।
মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী হরেন বিশ্বাস জানান, তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নির্যাতিত অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। মসজিদ, মন্দির, শ্বশানঘাট ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হবে। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করে হৈবতপুর ইউনিয়নকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। হরেন বিশ্বাস জানান, নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের হুমকিতে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বহিরাগতরা বাড়ীর সামনে মহড়া দিচ্ছে। মোটরসাইকেলের কর্মীদের বাধা দেয়া হচ্ছে।
এরপরেও জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।
ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাস্টার সোহরাব হোসেন জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হলে হাতপাখার বিজয় হবে। সেই লক্ষ্যে কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
আনারস প্রতীকের প্রার্থী আহমদ আলী জানান, হৈবতপুর ইউনিয়নের মানুষ একটি মহলের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। নানা হুমকি-ধামকির কারণে তিনি ও তার কর্মী সমর্থকরা প্রচারণায় নামতে পারছেন না। নিরপেক্ষভাবে ভোট হলে সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে সমুচিত জবাব দেবেন।
সাধারণ ভোটারদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যোগ্য প্রার্থীকে চেয়ারম্যান হিসেবে চান। তারা বুঝে শুনেই চেয়ারম্যান পদে ভোট দিতে চান।
এদিকে ভোটযুদ্ধে ৪০ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আখতারুজ্জামান, আলমগীর কবীর, ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে লিটন হোসেন, শামসুল আলম, হারুন হোসেন, ওসমান আলী ও মিজানুর রহমান। ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শাহাজাহান আলী গাজী ও আলী আহম্মদ, ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শহিদুল ইসলাম লিখন, মকবুল হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন, জয়দেব কুমার ও ফিটুন বিশ্বাস, ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সাইফুল্লাহ, সায়েম মন্ডল, গিয়াস উদ্দিন লিটু, মতিয়ার রহমান ও স্বপন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ইব্রাহিম হোসেন ও আব্দুর রহিম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে হাসান আল মামুন উজ্জল, আব্দুল আলিম বিশ্বাস, মনজুরুল রহমান পরশ, রতন ও বিল্লাল হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে থেকে জহুরুল ইসলাম, আলী আহমদ সাকিব, উত্তম রায়, শফিকুল ইসলাম বাবু, জাহিদুল ইসলাম, শামীম হোসেন ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ইসহাক চাকলাদার, নুর ইসলাম, আবুল কালাম, উজ্জ্বল, সোহরাব হোসেন, মিজহার হোসেন, বিল্লাল হোসেন(১) ও বিল্লাল হোসেন (২)

ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অনেকেই জানান, প্রতিদিন একাধিক প্রার্থী ভোট চাইতে আসছেন। প্রার্থীরা এসে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। একের পর এক প্রার্থী ভোট চাইতে আসার কারণে বেশ ভালো লাগছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চেয়ারম্যান, সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের ছোট বড় পোস্টারে ছেয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে নির্বাচনী ক্যাম্প করা হয়েছে। প্রার্থীরা মত বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে জয়ের মালা কার গলায় উঠবে তা নিশ্চিত অনুমান করা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ইউনিয়নের ২৭ হাজার ৩শ’ ৪৫ জন নারী পুরুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।