উৎসাহ উদ্দীপনায় চবির মার্কেটিং বিভাগের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

0
240

সারওয়ার মাহমুদ, চবি প্রতিনিধি।

কেউ সাজাচ্ছেন মাঠ,কেউ ব্যস্ত ফেস্টুন নিয়ে। কারো ছোটাছুটি খাবার নিয়ে। কেউ আবার চেক করে নিচ্ছেন সাউন্ড সিস্টেম। মাঠের একপ্রান্তে জড়ো হয়েছেন একদল উজ্জীবিত তরুণী আরেক প্রান্তে স্বপ্নবাজ তরুণ। সকলের পায়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে বল। শেষ মূহুর্তে নিজেদের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছিলেন সবাই। কারণ তার একটু পরেই মাঠে গড়াবে ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।

বলছিলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মার্কেটিং বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শুরুর আগ মূহুর্তের কথা। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল মাঠের দৃশ্যটা ছিলো ঠিক এমন রোমাঞ্চকর।

সচরাচর আমরা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোন স্থানে ছেলেদের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এখানকার চিত্রটা ছিলো একটু ভিন্ন। কারণ পুরো বিশ্বিবদ্যালয় জুড়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য বিভাগটির রয়েছে আলাদা সুনাম। এখানে শুধু ছাত্রদের নয় অনুষ্ঠিত হয়েছে ছাত্রীদেরও ফুটবল ম্যাচ। সেই সাথে শিক্ষকদের মধ্যকার ম্যাচ বাড়িয়ে দিয়েছে খেলার আমেজ।

এদিন বেলা সাড়ে বারোটায় শুরু হয় ছাত্রদের মধ্যকার ম্যাচ। পরে একে একে ছাত্রী ও শিক্ষকদের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র ও ছাত্রীদের দুই ম্যাচেই জয়ী হয় ব্রাজিল টিম। এছাড়া ড্র’তে শেষ হয় শিক্ষকদের লড়াই।


এদিন প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে দর্শকে ভরে উঠে এ এফ রহমান হল মাঠ। বিভাগটির শিক্ষক,শিক্ষার্থী ছাড়াও ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের নজরকাড়া উপস্থিত। যা খেলাটিকে উৎসবমুখর করে তোলে। আর পুরো খেলায় ছিলো শিক্ষার্থীদের উৎসাহ উদ্দীপনা।


পড়াশোনা মাঝে এমন খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত করে। আর এসবের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সম্পর্কগুলো আরো নিবিড় হয়। আর এ জন্যই এমন একটি আয়োজন বলে জানিয়েছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।

চবির মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী আতকিয়া বলেন, ফুটবল আামাদের প্রায় সবারই পছন্দের। ফুটবল নিয়ে মাতামাতির শেষ নেই। আমরাও চেষ্টা করেছি ফুটবলের মাধ্যমে কিছুটা আনন্দঘন সময় কাটাতে।

তিনি বলেন, আমাদের বিভাগ আগের থেকেই এরকম ম্যাচের আয়োজন করে আসছে। তবে করোনার কারণে বিগত কয়েক বছর এটি হয় নি। তবে আমরা আবারও আগের মতো নান্দনিক ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছি। এবারে আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করে ছাত্রী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণ। আমরা দেখাতে চেয়েছি মেয়েরাও কোন অংশে পিছিয়ে নেই।


বিভাগটির আরেক শিক্ষার্থী আসাদুল হক বলেন, এমন আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বিভাগের সাবেক বর্তমানদের মধ্যে একটি সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমরা চেয়েছি একটি চমৎকার আয়োজন উপহার দিতে। আশা করি সবাই খেলাটি উপভোগ করেছে।

বিভাগটির মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো.আরফাত উদ্দিন মামুন বলেন, আসলে এই ইভেন্টটা আমাদের বিভাগের একটা ঐতিহ্য হয়ে গেছে।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলেও, বিভাগে আলাদাভাবে অফিসিয়ালি কোন ক্রিড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়না। সে হিসেবে এই ইভেন্টটা আমরা(বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ) প্রতিবছর আয়োজন করে থাকি।বিভাগের ঐতিহ্য অনুযায়ী এইবারও আমাদের বিভাগের ২৬তম ব্যাচ উদ্যোগ নিয়ে সফলভাবে আয়োজন করছে।তার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ।



বিভাগটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাবেদ হোসেন বলেন, এই ধরনের আয়োজন একদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করে অন্যদিকে নিজেদের সজীব করে। এছাড়া এ ধরণের অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অর্গানাইজিং ও লিডারশীপ স্কিল বাড়াতে ভূমিকা রাখে। যা তাদের ভবিষ্যত গড়তে সহায়তা করে।

এ সময় তিনি পুরো আয়োজন সুসংগঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এতে বিভাগটির শিক্ষক ও চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. সজীব কুমার ঘোষ, ড. মীর হোসেন সোহেল, ড. মুহাম্মদ আলমগীর, ড. শান্ত বনিক, এইচ এম কামরুল হোসেন, সৈকত দাশ ও ইমতিয়াজ উদ্দীন চৌধুরীসহ বিভাগটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।