কয়রায় যৌতুকের দাবী পূরণ না করায় স্ত্রীকে জখম করে উল্টো মামলা

0
26

কয়রা প্রতিনিধি: যৌতুকের দাবী পূরণ না করায় খুলনার কয়রার স্ত্রী আফরিন সুলতানাকে শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে উপজেলার গোবরা গ্রামের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিষয়ের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম ও শ্বশুর বাড়ীর লোকজন। শুধু তাই নয় গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে বিচার না পেয়ে আদালতে মামলা করায় মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। যৌতুকলোভী ও নারী নির্যাতনকারী শরিফুলের পরিবার উল্টো ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান ভোক্তভোগী আফরিন আক্তার ও তার পরিবার। আজ সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কয়রা রিপোটার্স ইউনিটি কার্যালয়ে ভুক্তভোগী নারী আফরিন সুলতানা ডুগরে কাঁদতে কাঁদতে এ অভিযোগ করেন । সংবাদ সম্মেলনে আফরিন সুলতানা বলেন, ছোট বেলা থেকে আমার ওপর আসক্ত আমার বর্তমান স্বামী শরিফুল ইসলাম আমার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। আমি ও আমার স্বামী উপজেলার একই গোবরা গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় সে সহজে ফাঁদ পেতে ধোঁকা দেয়। আমার অন্যত্র বিয়ে হলেও সেখানে ঘর করতে দেয়নি সে। এখন সে আমাকে স্ত্রীর মর্যা না দিলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোন পথ খোলা তাকবে না। অন্যত্র সংসার করাকালীন আমি একটি বেসরকারি এনজিও’তে চাকরি ও পড়ালেখা চালিয়ে যাই। কিন্তু অর্থ ও যৌতুকলোভী স্বামী শরিফুল ইসলাম আমার চাকরির টাকা হাতিয়ে নিতে আমাকে ওই স্বামীর সংসার থেকে ছিনিয়ে আনে। সে আমাকে ফুসলিয়ে গত বছরের ১০ অক্টোবর ১ লক্ষ ১ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। বিয়ের পরে আমার চাকরির টাকায় স্বামী ও তার পরিবারের ভরনপোষণ চলতে থাকে। আমি ও আমার পরিবার এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ও বিভিন্ন উপঢৌকন আমার স্বামীকে দিয়েছি। পরবর্তীতে আমি টাকা দিতে না পারায় সে ও তার পরিবার আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এমনকি ৫ লক্ষ টাকা না দিলে মেরে ফেলারও হুমকি দিতে থাকিলে আমি নিরুপায় হইয়া আদালতে ৩৭৪/২২ নং মামলা রুজু করলে মিমাংসার স্বার্থে ২ মাসের জন্য জামিন পাইয়া আমার উপর আরও চড়াও হয়। এক পর্যায়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর আমি আমার শ্বশুর বাড়ীতে গেলে আমার শাশুড়ি, শ্বশুর, ননদ ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আমাকে বেধড়ক মারপীঠ করে ফুলা যখম অবস্থায় আটক রেখে নিজেরাই ঘরের আসবাব পত্র ভাংচুর করে পুলিশকে ফোন দিয়ে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু থানা ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌছাইয়া আমার মোবাইলের ভিডিও ও গ্রামবাসীর নিকট শোনা জানার পর আমাকে নির্দোষ হিসাবে প্রমাণ পাইয়া আমাকে আমার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেন।এরপরও আমাকে তারা হুমকি ধামকিসহ জীবন নাশের হুমকি দিতে থাকিলে আমি থানায় ৯মার্চ কয়রা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করলে পরবর্তীতে তারা ৯ এপ্রিল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কয়রায় ৫১০/২২ নং সিআর মামলা করে। আমিসহ আমার পরিবারের অন্যান্য নিরীহ ৬জন সদস্যকে আসামী করে এ মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। পকৃত পক্ষে আমি একাই আমার শ্বশুরবাড়ীতে গিয়েছিলাম এবং আমাকে আটকে রেখে নিজেরাই মালামাল ধ্বংস করে আমাদেরকে ফাসানোর জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। ভুক্তেভোগী নারী জীবনের নিরাপত্তা, স্বামীর অধিকার ও সঠিক বিচার চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্বামী ঢাকা ভার্সিটির ছাত্র শরিফুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমার উপর আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট, আমাকে জোর পূর্বক ফাঁসিয়ে আফরিন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমাকে মানহানীসহ ক্ষতি করিবার চেষ্টা করে। আমি ও আমার পরিবার এ বিয়ে মানি না। তাই আদালতের মাধ্যমে তালাক প্রদান করেছি। প্রয়োজনে আইনের মাধ্যমে তার সকল দেনা পাওনা পরিশোধ করিব।