গরু দিয়ে জমি চাষ বাড়তি উর্পাজনে অনেকটাই স্বচ্ছল কৃষক দম্পত্তি

0
94

এস.ববি-সুজন,লালমনিরহাট প্রতিনিধি : একটা সময় ছিল যখন গরু আর মহিষ দিয়েই হাল চাষ করা হতো। এছাড়া কোন উপায়ও ছিলোনা হাল চাষ করার মতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে চাষাবাদেরও এসেছে পরিবর্তন। এখন পশু দিয়ে চাষাবাদ না করে যান্ত্রিক নানা প্রযুক্তির সাহায্যে চাষাবাদ করে থাকে কৃষকরা। কিন্তু ভিন্ন চিত্র দেখা মিললো আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের বেলটারী গ্রামে। সেখানে গরু দিয়ে এক ব্যতিক্রমী চাষাবাদ করছেন ভূষন চন্দ্র ও তার স্ত্রী ভানু রাণী।

এছাড়াও গরু লালন পালন করে আয়ও করেন তারা। আবার অনেক জায়গার সৌখিন মানুষরা গরুর গাড়িতে বসে একটু সময় কাটাতেও পছন্দ করেন। আবার মালামাল টানতেও গরুর গাড়ী ব্যবহৃত হয়। কিন্তু গরু দিয়ে হালচাষ করার দৃশ্য এখন আর সাধারণত দেখা যায়না। তাই গরু দিয়ে হালচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কৃষক ভূষণ চন্দ্র আর তাঁর এই হালচাষের কাজে সহযোগিতা করছেন তার স্ত্রী ভানু রাণী।

কৃষক দম্পত্তির সাথে কথা বলে জানাযায়, এক বছর ধরে গরু দিয়ে জমি চাষ করে আসছে ভূষণ চন্দ্র। এখনকার দিনে বাজারে যান্রিক মেশিনের দাম বেশি হওয়ায় ২২হাজার টাকা দিয়ে দুটি গরু ক্রয় করেন। ভূষণ চন্দ্র শুধু নিজের জমিতে চাষাবাদ করছেন না অন্যের জমিতেও টাকার বিনিময়ে চাষ করে দিচ্ছে। এক বিঘা জমি চাষ দিতে নিচ্ছে ৫০০ টাকা। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই বিঘা জমিতে হালচাষ করেন তিনি। এতে করে বাড়তি আয় হচ্ছে কৃষক দম্পত্তির এবং সংসারেও কিছুটা স্বচ্ছলতা ফিরেছে।


স্থানীয়রা বলেন, গরু দিয়ে লাঙল দিলে জমি গভীরভাবে খনন হয়। পাওয়ারটিলার বা মাহেন্দ্র গাড়ি দিয়ে হালচাষ করলে জমি সমান হয় না। গরুর হাল দিয়ে জমি সমান হয়। এতে পানি ধরে রাখা সহজ হয়।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামীম আশরাফ বলেন, কৃষকেরা এখন যান্ত্রিক উপায়ে জমি চাষ করেন। গরু দিয়ে হালচাষ করা এখন আর দেখা যায় না। সময়ের সঙ্গে গরুর যে ব্যবহার তা উঠে গেছে। কৃষক ভূষণ চন্দ্র নিজের প্রয়োজনে বাড়তি আয়ের জন্য গরু দিয়ে জমি চাষ বা মই দেন। তবে কৃষি বিভাগ সব সময় আধুনিক মানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে চাষাবাদ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয় বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here