দিনাজপুরে চাষ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ‘কালো ধান

0
128

মোঃ মোমিনুল ইসলাম দিনাজপুর সদর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নে ‘কালো ধান’ চাষ হচ্ছে। সিঙ্গাপুর ফেরত যুবক রেজওয়ানুল সরকার সোহাগ এই ধান চাষ করছেন। ৩০ জুলাই জমিতে চারা রোপণ করা এই ধান আগামী নবেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ঘরে তোলা যাবে। অথচ এই ধান ক্ষেতে থাকতেই বীজ হিসেবে কেনার জন্য খানসামার কৃষকদের মধ্যে সাড়া পড়ে গেছে। উপজেলায় রীতিমত আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ কিছুই জানে না।


রেজওয়ানুল সরকার সোহাগ চলতি মৌসুমে ৫২ শতক জমিতে এই ধান চাষ করছেন বলে জানান। খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া আদিবাসী স্কুলের পাশে এই ধানের চাষ করেছেন তিনি। রেজওয়ানুল সরকার সোহাগ ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত জোনাব আলী সরকারের ছেলে। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন সিঙ্গাপুরে। চাকরি করতেন সেখানে। দেশে আসার পর তার বাবা মারা যান। এরপর আর সিঙ্গাপুর ফিরে যাওয়া হয়নি তার।


সোহাগ বলেন, সিঙ্গাপুরে দেখেছি সেখানকার মানুষ, বিশেষ করে চীনের মানুষ কালো ধানের চাল বেশি দামে কিনে খেত। আমারা ৫ কেজি সাধারণ চাল কিনতাম ১২ থেকে ১৬ ডলারে, আর তারা ৫ কেজি ব্লাক রাইস কিনত ২০ ডলারে। তারা বলত, ব্লাক রাইস শরীরে চর্বি জমতে দেয় না এবং ধীরে ধীরে হজম হয়। এ কারণে ক্ষুধা কম লাগে। দেশে ফিরে আসার পর বাবার রেখে যাওয়া জমি দেখাশোনা ও চাষবাস করি। এক বন্ধুর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে এর বীজ সংগ্রহ করি। উৎপাদন কেমন হয় তা জানার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রথম কালো ধান চাষ করছি। এই ধান একরে ৩৫ মণ পর্যন্ত হতে পারে। যদি দাম ভালো পাওয়া যায় এবং চাহিদা থাকে, তাহলে আগামীতে কালো ধানের চাষ আরও বৃদ্ধি করব।
সোহাগ জানান, ব্লাক রাইসের ওপরে প্রামাণ্যচিত্র দেখে তিনি জেনেছেন, কালো চাল ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধক। এতে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল রয়েছে। তাই কালো ধান উৎপাদনে মনোযোগী হয়েছেন বিদেশী কোম্পানিগুলো এই চাল হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি করলেও স্থানীয়ভাবে তিনি প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান সোহাগ। এ চালের উৎপাদন সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া গেলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।


আজকে শনিবার সকল ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সোহাগ তার আদিবাসী স্কুল সংলগ্ন নিজের জমিতে কালো ধানের গাছগুলো পরিচর্যা করছেন। ধানের শীষও সাধারণ ধানের চেয়ে বড়। তিনি জানান, অন্যান্য আর সাধারণ ধানের মতোই পরিচর্যা করতে হয় এই ধানের। অতিরিক্ত কোন কিছুই করতে হয় না। এই ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং বাংলাদেশে চাষের উপযোগী। কালো চাল দেখতে যেমন কালো, এ চালের ভাতও কালো এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ, সুগন্ধযুক্ত দামি ও স্বাস্থ্যকর। এ কালো চাল সারা পৃৃৃথিবীতে খুবই সমাদৃত খানসামা উপজেলা হতে দিনাজপুর সদর প্রতিনিধি সর্বপ্রথম সংবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here