নেত্রকোণার খালিয়াজুড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোটি টাকার মাদ্রাসা ভবন অর্থের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে গুঞ্জন

0
375

সুমন রাহাত ,নেত্রকোণা প্রতিনিধি ঃ নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ‘মেন্দিপুর ছাওতুল কুরআন হিফস্ মাদরাসা ও এতিমখানা’ কার্যক্রম ও এর আয়ের উৎস এবং পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর প্রত্যন্ত গ্রামে একটি ঝরাজীর্ণ টিনসেড ঘরে শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির মাদরাসা ও এতিমখান শুরুর ২ বছর যেতে না যেতেই হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠনটি কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে নিমার্ণ করে একটি বহুতল ভবন ও সীমানা প্রাচীর যা নির্মাণ করতেও ব্যায় করতে হয়েছে মোটা অংকের টাকা। প্রতিষ্ঠানের নির্মাণে এতো টাকা দুই বছরের মাথায় কিভাবে এলো এমনকি কিভাবে এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় তা নিয়ে এখন এলাকার মানুষের মাঝে গুনঞ্জন চলছে, দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এলাকাবাসীর দাবী মাদরাসাটি নির্মাণ কাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এই মাদরাসার কোনো কার্যক্রমে স্থানীদের সম্পৃক্ত করা হয় নি। এ নিয়ে এলাকার কয়েকজন কর্তৃপক্ষ কে প্রশ্ন করতে তিনি তাদের এ বিষয়ে বলতে বাধ্য নন বলেও জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়,খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের শাহজাহান চৌধুরী নামে এক ব্যাক্তি এই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রতিষ্ঠাতা বেশ কিছুদিন জুট মিলে চাকুরিরত ছিলেন, চাকুরিতে থাকাকালিন সময়ে তিনি পত্রৈক অনেক জমি বিক্রিও করেছিলেন চাচাতো ভাই ও স্থানীয়দের কাছে। কিন্তু হঠাৎ করে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে কোটি টাকা ব্যায়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করার বিষয়টি এখন এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। কিভাবে এলো এতো টাকা? কি প্রতিষ্ঠানের আয়ের উৎস?। স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতা শাহজাহান চৌধুরীর ছেলে আশিক ইকবাল চৌধুরী একটি বেসরকারী (প্রাইভেট) ব্যাংক এ চাকুরি করত। এখন হঠাৎ করে কিভাবে এতো টাকার মালিক হলো তা তাদের জানা নেই।

মেন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হাকিম বলেন, এই মাদরাসার বিষয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে খোজঁ নিতে চাইলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কাউকে এ বিষয়ে কিছু অবগত করান না। কিন্তু প্রতিষ্ঠান করলে সেখানে এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে করলে বিষয়টি সম্পষ্ট হয়। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান এলাকাবাসী বা কোনো জনপ্রতিনিধিকে সম্পৃক্ত করেন না। এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে শুধু আমার মনে না এলাকার অধিকাংশ মানুষের মনেই প্রশ্ন জাগে। এছাড়াও আশিক ইকবাল চৌধুরীর সাথে প্রশাসনের বড় কর্মকর্তাদের দহরম মহরম  তাই কেউ তার বিষয়ে বেশি জানতে  চাইলে তাদের নানা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

বিভিন্ন সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, এই মাদরাসায় জামাত নেতা-কর্মীদের  নিয়মিত যাতায়ত রয়েছে। তাই স্থানীয়রা তাদের শিশুদের শিক্ষ পদ্ধতি নিয়েও এখন শংকা প্রকাশ করেছেন। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মাদরাসার  দেয়াল নির্মাণ করার সময় অন্যের জায়গায় করা হয়, যে কারণে দেয়াল ভেঙ্গে জায়গা ফিরিয়ে দিয়ে পূণ-নির্মাণ করতে হয়েছে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার প্রশাসন ও স্থানীয়দের সাথে শালিশ বৈঠকও হয়েছে।

খালিয়াজুড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইচ-চেয়ারম্যান দুলাল চন্দ্র বলেন, এই মাদসার জায়গায় অন্যের জায়গা ছিল, তা দখল করে মাদরাসা করতে চেয়েছিল, এ নিয়ে বেশ দেনদরবার হয়েছে। সেখানে মাদরাসার জায়গা ওকাক্ফ করে দেয়ার কথা ছিল কিন্তু সেটি মনে হয় পরে আর বাস্তবায়ন হয়নি। মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেটি কিভাবে চলে সেদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের নজরদারী অবশ্যই দরকার আছে।

মাদরাসার মহতামিম,মো.হাফেজ ক্বারী খলিলুর রহমান,জানান, মাদরাসাটিতে বর্তমান ছাত্র সংখ্যা ৮০ জন,শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে ৭ জন যাদের বেতন সব মিলিয়ে ৭০ হাজার টাকার মতো কিন্তু মাদরাসার আয়ে সেটি চলে না প্রতিষ্ঠাতা তার নিজের তহবিল থেকে টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ধরে রেখেছেন।