পাঠ্যপুস্তক কেন্দ্রীক শিক্ষাব্যবস্থা হউক জ্ঞানের মাধ্যম

0
107

হৃদয় সরকার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: পাঠ্যপুস্তক কেন্দ্রীক শিক্ষাব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষনা, অনুধাবন ও তথ্যানুসন্ধানের চাহিদা গড়ে উঠবে।

দেশের বর্তমান যুবসমাজের কাছে পাঠ্যপুস্তক কেন্দ্রীক শিক্ষাব্যবস্থাটা মনে হয় যেন গলার কাঁটা। আর তার অনুকূলে গলায় ফুলের মালা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা।

বর্তমান যুগ আধুনিকতার ছোঁয়া পাওয়ার পর থেকে পাঠ্যপুস্তক কেন্দ্রীক শিক্ষাব্যবস্থা নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বই পড়া বাদ দিয়ে অনলাইন কেন্দ্রীক শিক্ষাব্যবস্থাকে গ্রহণ করছে।

তবে অনলাইনকেন্দ্রীক শিক্ষাব্যবস্থার যেমন উপকার রয়েছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি রয়েছে।

আমরা যদি ৮০দশকের পূর্বে ফিরে যাই তখন আমরা পাঠদানের মাধ্যম এবং চর্চাগুলো দেখতে পাবো।

তৎকালে শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যম ছিল হাতে চক এবং সিলেট। এই চক সিলেট ব্যবহারের যুগে মানুষের চিন্তাভাবনা ছিল বর্তমান সমাজের চিন্তাভাবনার বিপরীত। মানুষ তখন পাঠ্যপুস্তক পড়ে নিজের মত করে যেকোনো বিষয়কে অনুধাবন করার চেষ্টা করতো। যার ফলে তাদের চিন্তাশক্তি বর্তমান যুবসমাজের চিন্তাশক্তির চেয়ে কয়েকগুন বেশি ছিল। আর বর্তমান যুবসমাজ সে অনুধাবনটুকু করার সময় পায়না। তারা নিজেদেরকে অনলাইন বিভিন্ন মাধ্যমে(ফেইসবুক, ম্যাসেনঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার) ব্যস্থ রাখে। কোনো একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করার আগ্রহ তাদের মধ্যে থাকেনা। কারন অনলাইনে যেকোনো কিছুই সহজে পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমান যুবসমাজ যেকোনো কিছু সহজে পেতে চায় যার ফলে তাদের মধ্যে গবেষণাকেন্দ্রীক কোনো প্রকার চিন্তা কাজ করেনা। যার ফলে তারা গবেষণাকে নিজের অলসতার কাছে হারিয়ে দিচ্ছে।

দিনের বেশিরভাগ সময়ে অনলাইনে সময় কাঁটানোর কারনে তাদের মধ্যে বুদ্ধিভিত্তিক চিন্তাভাবনার উদয় ঘটেনা। কারন মানুষের মস্তিষ্ক হচ্ছে এমন একটি বস্তু, যেটি সহজেই অনুসরনমূলক। কোনো একটি ঘটনা সম্মুখে ঘটার পর থেকে সে ঘটনা নিয়ে অনুধাবন এবং গবেষণা করাই মানব মস্তিষ্কের কাজ। আর যুবসমাজ সেটিই করছে। তারা দিনের অধিকাংশ সময় অনলাইনে থাকার ফলে তাদের মস্তিষ্কও একইরূপ চিন্তাভাবনা করছে। যার ফলে যুবসমাজ ধ্বংসের দরজায় কড়া নাড়ছে।

অনলাইন কেন্দ্রীক ব্যবস্থার ফলে একদিকে যেমন গবেষণাকেন্দ্রীক চিন্তা-জগৎ হারিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে শিক্ষার গুন কমে যাচ্ছে৷ বর্তমান সমাজে শিক্ষাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় অভাব পূরণের মাধ্যম রূপে ব্যবহার করা হয়। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে শুধুমাত্র চাকুরী পাওয়া আশায়। যাতে করে তারা নিজেদের পরিবারের হাল ধরতে পারে। তাদের এই দুঃসময়ে কেউ যদি চাকুরীর লোভ দেখায় তাহলে চাকুরীর পাওয়ার সহজ উপায়গুলোই তারা অবলম্বন করবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট উত্তোলনের চিন্তাই তারা করবে। আর এজন্যই পাঠ্যপুস্তকের গুন দিন দিন কমে যাচ্ছে।

বর্তমান শিক্ষিত সমাজের লক্ষ্যই যদি হয় একখানা চাকুরী তাহলে তাদের কাছে কোনো বিষয়ে গবেষণা করে সময় নষ্ট করা ব্যতিত অন্যকোনো গুরুত্ব নেই।

তাই শিক্ষার্জনে অনলাইন থেকে পাঠ্যপুস্তকের প্রতি জোড় দিলে যুবসমাজের মনে সৃজনশীল ক্ষমতার উদয় হবে এবং যুক্তিশীল ও গবেষণাকেন্দ্রীক চিন্তাভাবনার বীজ নিহীত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here