পার্বতীপুরে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যা মামলা দায়ের

0
132


স্বপন চন্দ্র রায়, জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর: পার্বতীপুরে সন্ত্রাসী হামলার শিকার স্কুল শিক্ষক ফারুক হোসেন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। তার উপর হামলার ৯দিন পর মিথ্যা ও সাজানো অপর একটি মারামারির ঘটনা দেখিয়ে মামলার আসামী আফতাবুজ্জামান শোভন কর্তৃক ওই স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাল্টা হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করা হয়। এ অভিযোগটি সঠিকভাবে পূর্ব তদন্ত ছাড়াই পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হলে ফারুক হোসেন পড়েন চরম বিপাকে। এ ঘটনায় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে শিক্ষক ফারুক হোসেনকে কয়েকদিন পলাতক থাকতে হয়েছে। অবশেষে জামিন নিয়ে এখন নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাকে।
সোমবার দুপুরে স্কুল শিক্ষক ফারুক হোসেন তার বিরুদ্ধে দায়ের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চেয়ে পুলিশের আইজি, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি ও দিনাজপুরের এসপি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগসমুহ ডাক ও ই-মেইলযোগে প্রেরণ করেন।
অভিযোগে ফারুক হোসেন উল্লেখ করেন, গত ১৫ এপ্রিল উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের আফতাবুজ্জামানসহ ৮ব্যক্তির দ্বারা তিনি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকেন । এ ঘটনায় তার স্ত্রী উম্ম হানী বাদী হয়ে আফতাবুজ্জামান শোভনকে ২নং আসামী করে পার্বতীপুর মডেল থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন, মামলা নং- ২৮/১৩৩। এ মামলা দায়েরের পর থেকে আসামী আফতাবুজ্জামান শোভনসহ অন্যান্যরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে। অবশেষে ব্যর্থ হয়ে আফতাবুজ্জামান শোভন ২৪ এপ্রিল মিথ্যা ঘটনা দেখিয়ে গত ৩মে পার্বতীপুর মডেল থানায় পাল্টা একটি মামলা দায়ের করন(মামলা নং- ০৪/১৫০)। অভিযাগে আরও উল্লেখ করা হয়, আফতাবুজ্জামান শোভনের দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগটি পূর্ব তদন্ত ছাড়াই থানার তৎকালিন অফিসার ইন্চার্জ মাখলেছুর রহমান ও এসআই মিজানুর রহমান যোগসাজস করে মামলা হিসেবে রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে এসআই মিজানুর রহমান তদন্তে গেলেও মামলায় দেখানো ঘটনাস্থলে পার্শ্ববর্তী কোন ব্যক্তির স্বাক্ষ্য নেননি। বাদীর বাড়িতে বসেই তিনি তদন্ত কাজ সমাপ্ত করেন।
ফারুক হোসেন বলেন, তার নিজের দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলাটি প্রত্যাহার করতে আমার স্ত্রীকে বাধ্য করার লক্ষ্যেই আফতাবুজ্জামান শোভন মিথ্যা মামলাটি করেছেন। পুলিশও এই মিথ্যা মামলা গ্রহন করে আমাক অহেতুক হয়রানী করছেন। পরোক্ষভাবে অপরাধীদেরকে সহায়তা করছেন।
এ বিষয়ে আজ দুপুরে খামারপাড়া গ্রামের আবু বক্করের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আফতাবুজ্জামান কর্তৃক ফারুক হাসেনের বিরুদ্ধে দায়ের মামলাটি সম্পূর্ণরুপে মিথ্যা ও সাজানো।
২৪ এপ্রিল এধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। গ্রামের রাকিব, হুমায়ুন কবির, মহসীন বাবু ও লেমন একই মত দেন।
ফারুক হোসেনের অভিযাগের বিষয়ে সোমবার দুপুর ২-০৬ মিনিটে এসআই মিজানুর রহমানের মুঠোফানে কথা হল তিনি জানান, তৎকালিন অফিসার ইন্চার্জ বাদী আফতাবুজ্জামানের দায়ের করা মামলাটি রেকর্ডের পর আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। রেকর্ডের পূর্বে কোন অফিসার দিয়ে তদন্ত করিয়েছেন তা আমার জানা নেই। পরস্পর বিরোধী দুই মামলাই আমি একা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেশী কিছু বলা যাবেনা।