স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ও বিভাগীয় টীমের বিরুদ্ধে ইলিশ, পাঙ্গাশ ও নগদ টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ

0
146

নিজশ্ব প্রতিবেদক ঃ বরিশাল স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা শাখা ও বিভাগীয় টীমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও নগদ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যাহা ইতিমধ্যেই ফেসবুকে ভাইরাল।
অভিযোগের সত‍্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে দলীয় মাঠকর্মীদের সাথে আলোচনায় বেড়িয়ে আসে আরো চাঞ্চল্যকর তথ‍্য।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলকে সুসংগঠিত করতে দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নির্দেশনায় গঠিত হয় প্রত‍্যক বিভাগে বিভাগীয় টীম। বরিশাল বিভাগ স্বেচ্ছাসেবক দলের টীম লিডারের দায়িত্ব পান কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি আযহারুল ইসলাম মুকুল। তার নেতৃত্বে ফরিদ, জুয়েল, নুরুজ্জামান ও বেলাল টীম সদস‍্য হিসেবে রয়েছে। এরা সবাই কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পদে আসীন।
বরিশালের দশটি উপজেলা ও ছয়টি পৌর ইউনিটকে শক্তিশালী করতে টীম যাচাই বাছাই সাপেক্ষে জেলা কমিটির সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদকের বরাবরে দলীয় দফতরে জমা দিবে, এবং সভাপতি / সম্পাদক দেখেশুনে কমিটি পাবলিস্ট করবেন এমনটাই জানান সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
কিন্তু কমিটিতে স্থান পেতে বিভিন্ন উপজেলার আগ্রহী প্রার্থীদের নিকট থেকে টীম প্রধান মুকুলসহ ফরিদ, জুয়েল, নুরুজ্জামান ও বেলাল প্রত‍্যকেই নগদ অর্থ গ্রহন করেন বলে অভিযোগ করেন সংগঠনের কোন কোন কর্মী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন শুধু টাকা নয় ইলিশ ও পাঙ্গাশ মাছ নিয়েছেন মুকুল ও ফরিদ। এ প্রসঙ্গে জানতে মুকুলের নম্বরে দশবারেরও অধিক ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে টীম সদস্য ফরিদ বলেন, সংবাদপত্রের জগতে তিনি মালিক পক্ষের লোক, তিনি আমারদেশ পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে ঢাকা প্রতিদিন পত্রিকার সাথে জড়িত আছেন। মুঠোফোনে ফরিদ হুমকির সূরে সাংবাদিককে বলেন, আপনার যেমন ইচ্ছা নিউজ করেন, যাহার কল রেকর্ড সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া একজন সম্পাদক দেশব‍্যপী আলোচিত ক‍্যাসিনো মামলার আসামী এবং আরেকজন প্রবাসী নিয়ে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি প্রমাণিত হওয়ায় প্রায় বছরের ও অধিক সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির কর্মকাণ্ড স্থগিত করে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল। পরবর্তীতে স্থানীয় বি এন পি’র একাধিক নেতৃবৃন্দের সুপারিশে আলোর মুখ দেখে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। এছাড়াও জেলা সভাপতি আমিনুল ইসলাম লিপনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ। এছাড়াও লিপনের নামে চেক জালিয়াতি, বিভিন্ন উপজেলার কর্মীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কল রেকর্ডিং জমা পড়েছে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কাছে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মী জানান হিজলা উপজেলার সদ‍্য ঘোষিত কমিটির আহবায়ক সজল একসময়ে বর্তমান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তৎকালীন জেলা উত্তর বি এন পির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস‍্য সেলিমা রহমানের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উপস্থাপন করেন। যার ফলশ্রুতিতে বছরেরও অধিক সময় ধরে বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির কার্যক্রম স্হগিত হয়ে থাকে। তখন ওই সজল তার ফেজবুক আই ডি দিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের নামে কুৎসা পোস্ট করে। আর এখন সেই সজলকেই আহবায়ক হিসেবে প্রার্থী নির্বাচন করেছে করেছে অভিযুক্ত বিভাগীয় টীম।
অপরএক কর্মী জানান মেহেন্দীগঞ্জে জাতীয় ছাত্রসমাজের সাবেক কর্মী সোহেল ওরফে জামাই সোহেল কে আহবায়ক করে কমিটি দেয়া হয়েছে। সোহেল বর্তমানে স্থানীয় গরুর হাটের ইজারাদারদের একজন, যিনি নিয়মিত খাজনা তোলেন। জানা যায় সোহেলের চাচাতো ভাই হুমায়ুন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রকাশনা সম্পাদক। একই উপজেলায় সদস‍্য সচিব প্রার্থী ৩নং চরএককরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা যিনি ঢাকা অবস্থান করেন এবং বাড্ডায় তার মাছের ব‍্যবসাও রয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জের পাতারহাট বন্দরে মাসুদের বা তার পৈতৃক হোল্ডিং নেই। স্থানীয় নেতা কর্মীরা বলেন, এসব লোক দিয়ে তৈরি কমিটি কখনোই আলোর মুখ দেখবেনা।
আগৈলঝাড়া উপজেলার কর্মীরা বলেন, জুয়েল মেম্বার নামে জনৈক ব‍্যক্তিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক করা হয়েছে যিনি স্থানীয় শ্রমিকদলের পদধারী রাজনীতিতে জড়িত।অথচ এই উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আরো অনেক নিবেদিত কর্মী রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি লিপনের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।