হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যে ও প্রসাশনের নিরব ভূমিকা পালনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধব্যাটারি অটোরিক্সা

0
243

সাব্বির রহমান, সন্দ্বীপ :চট্টগ্রাম সন্দ্বীপে উপজেলা প্রসাশনের কড়া নির্দেশনার পরও নগরীর অলিগলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চলাচল নিষিদ্ধ অবৈধ ত্রিচক্রযান ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা। জানা যায়, গত বছরের জুনে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে ব্যাটারি চালিত রিক্সা বন্ধে নির্দেশনা দেয়া হয়। এমন নির্দেশনার পর সারা দেশে পুলিশ নগরজুড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশাবিরোধী অভিযান শুরু করে। ওই সময়ে নগরীতে ব্যটারি চালিত রিক্সা উধাও হয়ে গেলেও বর্তমানে কতিপয় রিকশা মালিক-চালক সমিতির মাধ্যমে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে সন্দ্বীপের বিভিন্ন অলিগলি এমনকি মূল সড়কেও এসব রিক্সা চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে এমন অভিযোগ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও প্যাডেল চালিত রিক্সা চালক-মালিকদের।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সন্দ্বীপের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও মেইনরোড বিভিন্ন অলিগলি, সড়ক ও উপ সড়কে দিব্যি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ এসব ব্যাটারি রিক্সা। অনভিজ্ঞ এসব রিকশা চালকের বেশিরভাগেরই দ্রুতগতি সম্পন্ন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ নেই। এছাড়া সন্দ্বীপে ট্রাফিক আইন “না” থাকায়, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না থাকায় এসব চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে প্রতিনিয়ত, বাড়ছে যানজটও। হতদরিদ্র মানুষগুলোর বেশীরভাগই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কাজের সন্ধানে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপে এসেই সহজ পেশা হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নেমে যাচ্ছে। প্যাডেল রিকশা চালানো কষ্টসাধ্য বলেই তারা দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত রিকশার দিকেই বেশী ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন,


পৌরসভা এলাকার ফোরকান নামের এক রিক্সা চালক। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯১৯ সালে রেঙ্গুন থেকে সর্বপ্রথম চট্টগ্রামে এবং পরবর্তীতে কলকাতা থেকে রাজধানি ঢাকায় রিক্সার সূচনা হয়। ইউরোপিয় পাট ব্যবসায়িরা তাদের ব্যবসা ও নিজস্ব কাজে ব্যবহারের জন্য ওইসময়ে এসব রিক্সা আমদানি করে। পরবর্তীতে জীবিকা অর্জনে সহজ পেশা হিসেবে রিক্সা চালনাকে বেছে নেয় দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। সেই থেকে দেশব্যাপী রিক্সার বিস্তৃত। যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলো। সূত্র মতে, চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ উপজেলায় বৈধ রিকশার সংখ্যার তুলনায় অবৈধ রিকশার সংখ্যা তিন গুণ বেশি।

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের পাশাপাশি অবৈধভাবে বিদ্যুৎ খরচ করে ব্যাটারিচালিত এসব অবৈধ রিকশা সন্দ্বীপের অলিগলি দাপিয়ে বেড়ালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ না নেয়ায় বৈধর চেয়ে অবৈধ রিক্সার আদিক্য দিনদিন বেড়েই চলেছে। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ আদালতে রিটের দোহাই দিয়ে কতিপয় রিক্সা মালিক সমিতি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে উপজেলা সন্দ্বীপের অলিগলিতে এসব রিক্সা চলাচল অব্যাহত রেখেছে।

সরেজমিনে ঘুরে, সন্দ্বীপের সকল স্থানে “তিন হাঁজার ” এর অধিক অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচল করতে দেখা গেছে। অজ্ঞ এসব রিকসা চালকরা প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটিয়ে চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না এমন অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দার। তারা অভিযোগ করে বলেন, অজ্ঞ এসব চালকরা স্বজোরে হর্ণ বাজিয়ে এলাকায় শব্দ দূষনের পাশাপাশি বেপরোয়া গতিতে রিকশা চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনাও ঘটাচ্ছে। পূর্বে গুপ্তছাড়া সড়ক থেকে পশ্চিমে রহমতপুর পর্যন্ত যোগাযোগের একটি অন্যতম মাধ্যম হওয়ায় সড়কটি দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচলও বেড়ে গেছে। এর উপর আবার ব্যাটারি রিক্সা যোগ হওয়ায় প্রতিনিয়ত এ সড়কে যানজট লেগে থাকে। তথ্য মতে, এই প্রধান সড়কে প্রতিদিন কমপক্ষে ১- ২ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে। বৈদ্যুতিক মোটরচালিত এসব রিকশার প্রতিটির ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতিদিন খরচ হয় পাঁচ ইউনিট করে বিদ্যুৎ। সে হিসেবে প্রতিদিন খরচ হয় ১০- ১৫ হাজার ইউনিট বা কিলোওয়াট (২০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ। আর বিপুল পরিমাণ এই বিদ্যুতের অনেকটাই অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি পিডিবির কর্মকর্তাদের। এছাড়াও ব্যাটারি রিক্সাকে কেন্দ্র করে টোকেন বাণিজ্য, চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্যাডেল চালিত রিক্সা ও সিএনজি চালক-মালিকরা সাম্প্রতিক সময়ে সন্দ্বীপে এ নিয়ে প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে। বিদ্যুৎ খেকো দ্রুতগতির এসব ব্যাটারি চালিত ত্রিচক্রযান বন্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল।